নরসিংদীতে বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে অনিয়মের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত (মোবাইল কোর্ট)। সোমবার (২৭ জুলাই) পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পরিচালিত এ অভিযানে আল ফালাহ পিপলস (প্রাঃ) হাসপাতাল এবং সিটি ল্যাব ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিভিন্ন অনিয়ম ও ত্রুটি শনাক্ত করা হয়।
এ সময় আল ফালাহ পিপলস (প্রাঃ) হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটার (ওটি) ও প্যাথলজিক্যাল ল্যাব এবং অপর প্রতিষ্ঠানের ল্যাব সিলগালা করার পাশাপাশি মোট ১ লাখ ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
মোবাইল কোর্ট সূত্রে জানা যায়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা ও বিদ্যমান আইন-বিধি অনুযায়ী প্রতিষ্ঠান দুটির কার্যক্রম পরিদর্শন করা হয়। পরিদর্শনে আল ফালাহ পিপলস (প্রাঃ) হাসপাতালের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়।
অভিযানে দেখা যায়, হাসপাতালটির হালনাগাদ লাইসেন্স সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যথাযথভাবে সংরক্ষিত ছিল না। এছাড়া প্যাথলজিক্যাল ল্যাব ও অপারেশন থিয়েটারে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্ধারিত মান ও পরিবেশ বজায় রাখা হয়নি। রোগীর নিরাপত্তা ও চিকিৎসাসেবার মান নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় বিভিন্ন শর্তও পূরণ করা হয়নি।
পরিদর্শনকালে আরও দেখা যায়, হাসপাতালে ভ্রূণ পর্যবেক্ষণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা ছিল না। ডিপ্লোমাধারী নার্স ও দক্ষ ল্যাব টেকনিশিয়ানের অভাব ছিল। স্টোররুমে লেবার বেড সংরক্ষণ করা হলেও লেবার রুমে প্রসূতি মায়েদের সার্বক্ষণিক সেবার জন্য কোনো অভিজ্ঞ ও সার্টিফায়েড মিডওয়াইফ কর্মরত ছিলেন না। এছাড়া জরুরি চিকিৎসাসেবার জন্য পর্যাপ্ত অক্সিজেন সরবরাহ ব্যবস্থারও ঘাটতি পাওয়া যায়।
এসব অনিয়ম ও ত্রুটির কারণে আল ফালাহ পিপলস (প্রাঃ) হাসপাতালকে ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। একই সঙ্গে হাসপাতালটির অপারেশন থিয়েটার (ওটি) ও প্যাথলজিক্যাল ল্যাব সিলগালা করা হয় এবং প্রয়োজনীয় মানদণ্ড পূরণ না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।
একই অভিযানে সিটি ল্যাব ডায়াগনস্টিক সেন্টারেও বিভিন্ন অনিয়ম শনাক্ত করা হয়। এ কারণে প্রতিষ্ঠানটির ল্যাব সিলগালা করা হয় এবং ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড আরোপ করা হয়।
মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন নরসিংদী সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মেফতাহুল হাসান। অভিযানে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত থেকে পরিদর্শন ও আইন প্রয়োগে সহায়তা করেন।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জনস্বার্থে নিরাপদ ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা ও প্রচলিত আইন-বিধি কঠোরভাবে অনুসরণ করার আহ্বান জানানো হয়।
