ফুটবল মাঠে গোলরক্ষকদের কৌশলগত বিরতি ও সময় নষ্ট করার দিন কি তবে ফুরিয়ে আসছে? ম্যাচে নিজেদের দলগত ছন্দপতন রোধ করতে কিংবা ডাগআউটের কোচ থেকে ট্যাকটিক্যাল নির্দেশিকা মাঠে পাঠাতে গোলরক্ষকদের কাল্পনিক চোটের আশ্রয় নেওয়ার পুরোনো কূটকৌশল বন্ধ করতে এবার এক কঠোর পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে ইংলিশ ফুটবল কর্তৃপক্ষ।
আন্তর্জাতিক ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বোর্ডের (আইএফএবি) সবুজ সংকেত পাওয়ার পর প্রিমিয়ার লিগ, ইএফএল, এফএ, ন্যাশনাল লিগ, ডব্লিউএসএল এবং প্রো রেফ; ইংলিশ ফুটবলের সমস্ত শীর্ষ সংস্থা যৌথভাবে নতুন এই নিয়মের ট্রায়াল বা পরীক্ষামূলক প্রয়োগের বিষয়ে একমত হয়েছে। আসন্ন ২০২৬-২৭ মৌসুম থেকেই পুরুষ ও নারীদের পেশাদার ফুটবলে কার্যকর হতে যাচ্ছে পরীক্ষামূলক এই নিয়মটি।
মাঠের খেলায় এই নতুন আইনের প্রয়োগ পদ্ধতি বেশ রোমাঞ্চকর। রেফারির অনুমতি নিয়ে ফিজিওথেরাপিস্ট বা মেডিকেল টিম যদি গোলরক্ষককে মাঠের ভেতরে চিকিৎসা দিতে আসেন, তবেই শুরু হবে বিপত্তি। রেফারি চিকিৎসা শুরুর ইশারা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রধান কোচ মাত্র ১০ সেকেন্ড সময় পাবেন, যার মধ্যে তাকে দলের একজন ফিল্ড খেলোয়াড়কে চিহ্নিত করতে হবে, যাকে তাৎক্ষণিকভাবে মাঠ ছেড়ে এক মিনিটের জন্য বাইরে চলে যেতে হবে। কোচ যদি নির্দিষ্ট ১০ সেকেন্ডের মধ্যে কোনো খেলোয়াড়কে বেছে নিতে ব্যর্থ হন, তবে স্বয়ংক্রিয়ভাবে দলের অধিনায়ককেই মাঠ ছাড়তে হবে। এমনকি খেলা পুনরায় শুরুর পরও সেই মনোনীত খেলোয়াড়কে অন্তত এক মিনিট মাঠের বাইরেই থাকতে হবে। তবে গোলরক্ষক যদি গুরুতর চোটের কারণে পরিবর্তন (সাবস্টিটিউট) হয়ে যান কিংবা গোলরক্ষক সরাসরি মাঠ ছাড়েন, তবে এই শাস্তিমূলক নিয়ম প্রযোজ্য হবে না।
দীর্ঘদিন ধরেই কোচ ও ফুটবল বিশ্লেষকরা এই টাইম-আউটের অপব্যবহার নিয়ে সোচ্চার ছিলেন। গত নভেম্বর মাসে লিডস ইউনাইটেড কোচ ড্যানিয়েল ফার্কে ম্যানচেস্টার সিটির গোলরক্ষক জানলুইজি দোন্নারুমা বিরুদ্ধে সরাসরি নিয়ম ভাঙার অভিযোগ তোলেন।
এদিকে ডিসেম্বরে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের বিপক্ষে ম্যাচে নিউক্যাসলের গোলরক্ষক অ্যারন রামসডেলের হঠাৎ মাঠে লুটিয়ে পড়া নিয়ে তীব্র সন্দেহ প্রকাশ করেন গ্যারি নেভিল। ধারাভাষ্যকার ও বিশ্লেষকদের মতে, কোচ এডি হাউয়ের নির্দেশেই মূলত খেলা থামানোর এই ফন্দি আঁটা হয়েছিল। চলতি বছরের মার্চে ব্রাইটনের কোচ ফাবিয়ান হুরজেলোও ডেভিড রায়ার বিরুদ্ধে একই কায়দায় ট্যাকটিক্যাল টাইম-আউট নেওয়ার অভিযোগ এনেছিলেন।
তবে কি সব ক্ষেত্রেই এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে? না, কিছু ক্ষেত্রে বিশেষ ছাড়ও রাখা হয়েছে। গোলরক্ষক ও সতীর্থের মধ্যকার সংঘর্ষ, প্রতিপক্ষের ফাউলে সরাসরি ফ্রি-কিকের পর তাৎক্ষণিক চিকিৎসা প্রয়োজন হলে, কিংবা গোলরক্ষক রক্তক্ষরণ বা গুরুতর কনকাশনের শিকার হলে এই শাস্তির মুখে পড়তে হবে না দলগুলোকে। বিবিসির এক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, অস্ট্রেলিয়ান লিগ এই নিয়মের একটি সংশোধিত সংস্করণ পরীক্ষা করবে, যেখানে দলের অধিনায়ককেই বাধ্যতামূলকভাবে মাঠ ছাড়তে হবে।
ইংলিশ ফুটবলের এই নতুন ট্রায়ালের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হতে যাচ্ছে আগামী ১ আগস্ট কারাবাও কাপের প্রিলিমিনারি রাউন্ডে ট্রানমেয়ার ও রচডেলের মধ্যকার ম্যাচ দিয়ে। গত মৌসুমে গোলরক্ষকদের জন্য আট সেকেন্ড বল ধরে রাখার নিয়ম চালু করা হয়েছিল। কোনো গোলরক্ষক এই সময়ের বেশি বল ধরে রাখলে প্রতিপক্ষ দলকে কর্নার কিক দেওয়া হয়, যা দারুণ সাফল্য পেয়েছিল। এবার এই নতুন পরীক্ষামূলক নিয়ম যদি সফল হয়, তবে আগামী ২০২৭-২৮ মৌসুম থেকেই বিশ্বজুড়ে ফুটবলের স্থায়ী আইন হিসেবে এটি যুক্ত হতে পারে।
