মক্কার উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ওয়াদি আল-উসাইলাহ উপত্যকায় ৬০টির বেশি প্রাচীন ইসলামি শিলালিপি এবং দুটি ঐতিহাসিক কূপের সন্ধান পাওয়া গেছে।
সৌদি প্রেস এজেন্সির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব নিদর্শন থেকে ইসলামের শুরুর যুগে মক্কাগামী হজযাত্রী ও ভ্রমণকারীদের ব্যবহৃত পথ এবং সেই সময়ের আরবি লিপির বিকাশ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় ছয় কিলোমিটার দীর্ঘ এবং দুই কিলোমিটার প্রশস্ত এই উপত্যকা একসময় ইরাক ও আশপাশের অঞ্চল থেকে মক্কায় আসা হজযাত্রী ও কাফেলাগুলোর গুরুত্বপূর্ণ যাত্রাপথ ছিল। পাহাড়ের পাথুরে গায়ে খোদাই করা শিলালিপিগুলোর বেশির ভাগই সপ্তম ও অষ্টম শতাব্দীর। আর ইসলামি বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী এগুলো প্রথম ও দ্বিতীয় শতাব্দীর নিদর্শন।
এসব শিলালিপিতে ইসলামের প্রাথমিক যুগের বিভিন্ন ব্যক্তির উল্লেখ রয়েছে। একই সঙ্গে এগুলো থেকে প্রাচীন আরবি লেখার আকৃতি, গঠন ও সৌন্দর্যগত পরিবর্তন সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।
মরুভূমির দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়া যাত্রীদের জন্য পানির ব্যবস্থা ছিল অত্যন্ত জরুরি। এ কারণে বিভিন্ন ইসলামি শাসক এই পথে পানি সরবরাহের ব্যবস্থা গড়ে তুলেছিলেন। উপত্যকায় একসময় চারটি ঐতিহাসিক কূপ ছিল। এর মধ্যে দুটি এখনো টিকে আছে। ধারণা করা হয়, কয়েকটি কূপ আব্বাসীয় খেলাফতের সময়ের।
শিলালিপি ও কূপগুলো সংরক্ষণে মক্কা নগরী ও পবিত্র স্থানগুলোর রয়্যাল কমিশন কাজ করছে। ক্ষয় থেকে এসব নিদর্শন রক্ষা এবং প্রত্নতাত্ত্বিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
সৌদি ভিশন ২০৩০-এর আওতায় দেশটির ঐতিহাসিক স্থানগুলো সংরক্ষণ ও সাংস্কৃতিক পর্যটন বাড়ানোর পরিকল্পনার অংশ হিসেবেও কাজটি করা হচ্ছে।
সৌদি আরবের বিভিন্ন অঞ্চলে এ ধরনের আরও বহু প্রাচীন নিদর্শন পাওয়া গেছে। নাজরানের হিমা সাংস্কৃতিক এলাকায় সামুদীয়, সাবীয়, হিময়ারি ও প্রাথমিক ইসলামি লিপির শিলালিপি রয়েছে। তাবুক অঞ্চলেও পঞ্চম শতাব্দীর একটি শিলালিপিতে সামুদীয় ও প্রাথমিক আরবি লিপির পাশাপাশি ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেছে।
এসব আবিষ্কার সৌদি আরবের পাহাড়, উপত্যকা ও মরুভূমিতে ছড়িয়ে থাকা প্রাচীন ইতিহাসের গুরুত্ব তুলে ধরছে। বিশেষ করে, ওয়াদি আল-উসাইলাহর শিলালিপি ও কূপগুলো ইসলামি যুগের শুরুর দিকে মক্কার সঙ্গে বিভিন্ন অঞ্চলের হজযাত্রী ও ভ্রমণকারীদের যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য বহন করছে।