ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের জন্য বড় সাফল্য এনে দিতে চান সাহাব। পাশাপাশি প্রতিবন্ধী তরুণদের জন্য খেলাধুলা, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে কাজ করার স্বপ্ন দেখেন তিনি ...
জন্মের পর একটি পা ছাড়াই পৃথিবীতে এসেছিলেন চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার মোল্লাপাড়ার সাহাব উদ্দিন। অনেকের চোখে এটি ছিল সীমাবদ্ধতা, কিন্তু সাহাব এটিকে কখনো নিজের পরিচয় হতে দেননি। এক পা, দুই ক্র্যাচ আর অদম্য মনোবলকে সঙ্গী করে তিনি আজ বাংলাদেশের আম্পিউটি ফুটবলের পরিচিত মুখ। আন্তর্জাতিক মাঠে দেশের প্রতিনিধিত্ব করে তিনি প্রমাণ করেছেনশারীরিক প্রতিবন্ধকতা স্বপ্নপূরণের পথে বাধা হতে পারে না।
শৈশব থেকেই সাহাবকে অনেক কৌতূহল ও নেতিবাচক মন্তব্যের মুখোমুখি হতে হয়েছে। তবে পরিবার তাকে কখনো অসহায় ভাবেনি। বরং অন্য শিশুদের মতো খেলাধুলা, পড়াশোনা ও স্বাভাবিক জীবনযাপনে উৎসাহ দিয়েছে। সেই আত্মবিশ্বাস তাকে এগিয়ে যেতে শক্তি দিয়েছে।
খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ ছিল ছোটবেলা থেকে। প্রথমে ক্রিকেটের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরে স্ট্যান্ডিং ক্রিকেট ও হুইলচেয়ার ক্রিকেটে অংশ নেন। ২০২১ সালে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের আম্পিউটি ফুটবল দলের বাছাইয়ে অংশ নিয়ে জাতীয় দলে জায়গা করে নেন।
আম্পিউটি ফুটবল সহজ কোনো খেলা নয়। ক্র্যাচ ব্যবহার করে দৌড়ানো, এক পায়ে বল নিয়ন্ত্রণ করা এবং ভারসাম্য ধরে রাখাসবকিছুর জন্য প্রয়োজন কঠোর অনুশীলন ও মানসিক শক্তি।
এ প্রসঙ্গে সাহাব বলেন, ‘মাঠে দেশের প্রতিনিধিত্ব করার অনুভূতি সব কষ্ট ভুলিয়ে দেয়।’
২০২২ সালে বাংলাদেশের হয়ে আন্তর্জাতিক আম্পিউটি ফুটবল প্রতিযোগিতায় অংশ নেন তিনি। ইন্দোনেশিয়া, জাপান ও মালয়েশিয়ার মতো দেশের বিপক্ষে খেলে অর্জন করেন মূল্যবান অভিজ্ঞতা। ২০২৫ সালে ঢাকার বসুন্ধরা এরেনায় অনুষ্ঠিত এএফসি আম্পিউটি ফুটবল এশিয়া কাপে বাংলাদেশের জার্সি গায়ে মাঠে নামা ছিল তার ক্যারিয়ারের অন্যতম বড় অর্জন। ওই আসরে বাংলাদেশ চতুর্থ স্থান অর্জন করেন তিনি।
সাহাবের জীবনের বড় শক্তি তার পরিবার। পাশাপাশি সংগ্রামী জীবন তাকে আত্মনির্ভরশীল হতে শিখিয়েছে। পড়াশোনার পাশাপাশি জীবিকার প্রয়োজনে বাজারে তরকারির ব্যবসাও করেছেন তিনি। মিরসরাই আবুতোরাব উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি, প্রফেসর কামাল উদ্দিন চৌধুরী কলেজ থেকে এইচএসসি এবং ফেনী সরকারি কলেজ থেকে অনার্স সম্পন্ন করেছেন।
ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের জন্য বড় সাফল্য এনে দিতে চান সাহাব। পাশাপাশি প্রতিবন্ধী তরুণদের জন্য খেলাধুলা, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে কাজ করার স্বপ্ন দেখেন তিনি।
সাহাব উদ্দিনের গল্প মনে করিয়ে দেয়, মানুষের আসল পরিচয় তার শারীরিক সক্ষমতায় নয়। বরং তার সাহস, পরিশ্রম ও স্বপ্ন দেখার ক্ষমতায়।
