আরও কয়েকটি প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগ তৈরি করেছেন তিনি। এর মধ্যে রয়েছে অনলাইনভিত্তিক ক্যাচমেন্ট এরিয়া শিশু জরিপ সফটওয়্যার, বৃত্তি পরীক্ষার মডেল টেস্ট ব্যবস্থাপনা সফটওয়্যার এবং শ্রেণিকক্ষে শিখন-শেখানো কার্যক্রমে সহায়ক ইন্টারঅ্যাকটিভ অ্যাপস
চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার ভূমিরখীল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. সাইফুল্লাহ সরোয়ার। বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তির সফল প্রয়োগ করে ‘দেশসেরা উদ্ভাবক’ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন তিনি। তার তৈরি ‘স্কুল ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’ ডাটাবেজ সফটওয়্যার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও শিক্ষাব্যবস্থাপনায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে।
রাঙ্গুনিয়ার সরফভাটায় জন্ম নেওয়া সাইফুল্লাহ সরোয়ার ২০০৯ সাল থেকে ব্যক্তিগত উদ্যোগে এক্সেল ও প্রযুক্তিনির্ভর অটোমেশন নিয়ে কাজ শুরু করেন। দীর্ঘ এক দশক প্রচেষ্টার পর ২০২০ সালে তাঁর উদ্যোগ পূর্ণাঙ্গ ‘স্কুল ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’ সফটওয়্যারে রূপ নেয়। বর্তমানে রাঙ্গুনিয়ার বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এটি ব্যবহার করা হচ্ছে।
এই সফটওয়্যারের মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তি, তথ্য সংরক্ষণ, উপস্থিতি ব্যবস্থাপনা, জন্মদিনের শুভেচ্ছা কার্ড, পরিচয়পত্র তৈরি, বই বিতরণ, স্টুডেন্ট কাউন্সিল, খুদে ডাক্তার, কাবিং, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমসহ বিভিন্ন বিষয় সহজে পরিচালনা করা যায়।
পরীক্ষা ও ফলাফল ব্যবস্থাপনাতেও সফটওয়্যারটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। পাক্ষিক ও বার্ষিক মূল্যায়ন প্রস্তুত, ফলাফল প্রকাশ, বিষয়ভিত্তিক সর্বোচ্চ নম্বরপ্রাপ্ত ও নিয়মিত উপস্থিত শিক্ষার্থীদের তথ্য দ্রুত সংগ্রহ করা সম্ভব হচ্ছে। পাশাপাশি শিক্ষক তথ্য, ছুটি ব্যবস্থাপনা, ক্লাস মনিটরিং, হোম ভিজিট, ক্যাশ বুক, স্টক রেজিস্টার ও ডাটা আর্কাইভ সংরক্ষণের সুবিধাও রয়েছে।
বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি সাইফুল্লাহ সরোয়ার আরও কয়েকটি প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগ তৈরি করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে অনলাইনভিত্তিক ক্যাচমেন্ট এরিয়া শিশু জরিপ সফটওয়্যার, বৃত্তি পরীক্ষার মডেল টেস্ট ব্যবস্থাপনা সফটওয়্যার এবং শ্রেণিকক্ষে শিখন-শেখানো কার্যক্রমে সহায়ক ইন্টারঅ্যাকটিভ অ্যাপস।
ঘাগড়া সাতগড়িয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইমতিয়াজ চৌধুরী বলেন, ‘সাইফুল্লাহ সরোয়ার শিক্ষক সমাজ ও রাঙ্গুনিয়ার গর্ব। তার তৈরি সফটওয়্যারের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের তথ্য, উপস্থিতি, বই বিতরণ, ফলাফল ও প্রত্যয়নপত্র সংক্রান্ত কাজ দ্রুত করা সম্ভব হচ্ছে। এতে সময় ও শ্রম দুটোই বাঁচছে।’
শিক্ষক মোরশেদ আলম বলেন, ‘স্কুল ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো স্বল্প সময়ে ও স্বল্প খরচে অধিক তথ্য ব্যবস্থাপনা করা যায়। এটি প্রশাসনিক কাজ সহজ করার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন ও তথ্য সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।’
নিজের উদ্ভাবন নিয়ে সাইফুল্লাহ সরোয়ার বলেন, ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে স্বল্প সময়ে ও স্বল্প খরচে বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনায় এই সফটওয়্যার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এটি শুধু প্রশাসনিক কাজ সহজ করবে না, শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তি ব্যবহারের দক্ষতাও বাড়াবে।’
তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে দেশের প্রতিটি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনার আওতায় আসবে। তার এই উদ্যোগ প্রাথমিক শিক্ষায় ডিজিটাল রূপান্তরের পথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
