ইংল্যান্ডের টেস্ট দলের প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন নিউজিল্যান্ডের কিংবদন্তি ক্রিকেটার ও সফল কোচ স্টিভেন ফ্লেমিং। গত দুই সপ্তাহ ধরে চলা সাক্ষাৎকারে ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ডের (ইসিবি) কর্মকর্তাদের পুরোপুরি মুগ্ধ করেই এই হাই-প্রোফাইল পদের দৌড়ে এগিয়ে আছেন ৫৩ বছর বয়সী এই কিউই কোচ।
ইংল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ড ক্রিকেটের মেলবন্ধন অবশ্য নতুন নয়। দায়িত্ব নিলে ফ্লেমিংকে কাজ করতে হবে তার একসময়ের সতীর্থ, বন্ধু ও স্বদেশি ব্রেন্ডন ম্যাককালামের সঙ্গে। সীমিত ওভারের ক্রিকেটে দলের দায়িত্বে থাকা ম্যাককালামের স্থলাভিষিক্ত হয়েই সাদা পোশাকের দলের হাল ধরতে যাচ্ছেন ফ্লেমিং।
এর আগে চলতি মাসেই দীর্ঘ ১৮ বছরের বর্ণিল অধ্যায়ের ইতি টেনে চেন্নাই সুপার কিংসের (সিএসকে) প্রধান কোচের পদ থেকে সরে দাঁড়ান ফ্লেমিং। ফ্র্যাঞ্চাইজিটির সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতার মধ্য দিয়েই আসে এই সিদ্ধান্ত। ২০০৯ সালের আসর থেকে চেন্নাইয়ের হেড কোচের দায়িত্ব নিয়েছিলেন তিনি, এর আগে উদ্বোধনী আইপিএলে খেলেছিলেন খেলোয়াড় হিসেবে। দীর্ঘ এই মেয়াদে চেন্নাইকে ৫টি আইপিএল শিরোপা এবং দুটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টি-টোয়েন্টি খেতাব উপহার দিয়ে আইপিএলের অন্যতম সফল ও ধারাবাহিক কোচিং সেটআপ গড়ে তুলেছিলেন ফ্লেমিং। ২০২৩ সালে সবশেষ আইপিএল ট্রফি জেতে চেন্নাই, তবে এর পরের তিন সংস্করণে দলটি প্লে অফে উঠতে ব্যর্থ হয়।
চেন্নাইয়ের পাশাপাশি এসএ২০-তে জোবার্গ সুপার কিংস এবং মেজর লিগ ক্রিকেটে টেক্সাস সুপার কিংসের প্রধান কোচের দায়িত্ব থেকেও একসঙ্গে সরে দাঁড়ান তিনি। চেন্নাইয়ের পারফরম্যান্স আশানুরূপ না হওয়ায় ফ্র্যাঞ্চাইজি পরিবর্তনের এই হাওয়া লাগে, যার ঠিক ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ইসিবির সবুজ সঙ্কেত পান ফ্লেমিং।
আগামী ডিসেম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকা সফর দিয়েই টেস্ট দলের ডাগআউটে তার অভিষেক হওয়ার কথা রয়েছে। তবে আগামী ১৯ আগস্ট থেকে হেডিংলিতে শুরু হতে যাওয়া পাকিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজে অন্তর্বর্তীকালীন কোচ হিসেবে মার্ক ট্রেসথিককেই দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
ইংলিশ কন্ডিশন ও ক্রিকেটের সঙ্গে ফ্লেমিংয়ের সখ্য দীর্ঘদিনের। খেলোয়াড়ি জীবনে ১৯৯৪ থেকে ২০০৪ সালের মধ্যে ইংল্যান্ডে ১০টি টেস্ট ও ১৭টি ওয়ানডে খেলার পাশাপাশি মিডলসেক্স, ইয়র্কশায়ার ও নটিংহ্যামশায়ারের হয়ে কাউন্টি ক্রিকেট খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। এছাড়া দ্য হান্ড্রেডে সাউদার্ন ব্রভের কোচ হিসেবেও সফল সময় কাটিয়েছেন তিনি। ২০০৯ সালেও তাকে কোচ হিসেবে পেতে চেয়েছিল ইংল্যান্ড, তবে সে সময় উপযুক্ত মনে না করায় প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। সেই প্রসঙ্গে অতীতে ফ্লেমিং বলেছিলেন, ‘আমি প্রস্তাব পেয়ে আনন্দিত হয়েছিলাম। তবে ব্যাপারটি ছিল এমন যে, তখন আমার সময় হয়নি। যদি আরও কয়েক বছর কোচিং করাই, তবে বুঝতে পারব এটা আমি সত্যিই চাই কি না এবং এই কাজে আমি কতটা দক্ষ।’
সেবার ফ্লেমিং প্রস্তাব ফিরিয়ে দেওয়ার পর অ্যান্ডি ফ্লাওয়ারকে দায়িত্ব দিয়েছিল ইংল্যান্ড। তবে এবার ফ্লাওয়ার নিজেই সেই পদের দৌড় থেকে সরে দাঁড়ানোয় ফ্লেমিংয়ের জন্য ইংল্যান্ডের প্রধান কোচ হওয়ার পথটি সুগম হয়ে যায়। অস্ট্রেলিয়ার টম মুডি, জোনাথন ট্রট এবং রিচার্ড ডসনের মতো হেভিওয়েট প্রতিদ্বন্দ্বীদের পেছনে ফেলে ফ্লেমিংকে এগিয়ে রেখেছে ম্যাককালামের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের সুসম্পর্ক ও বোঝাপড়া।
মাঠের বাইরেও ব্যবসায়িক অংশীদার হিসেবে একাধিক কোম্পানির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এই দুই কিউই তারকা। কোচ ড্যানিয়েল ভেট্টোরির ভাষায়, তাদের দুজনেই অত্যন্ত ভালো বন্ধু এবং তাদের মধ্যে অনেক মিল রয়েছে। ফ্লেমিংয়ের নেতৃত্ব নিয়ে বলতে গিয়ে ম্যাককালাম প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়ে বলেছিলেন, ‘মাঠের খেলায় স্টিভেন ফ্লেমিংয়ের কৌশলগত নেতৃত্ব আমাকে ভীষণভাবে অনুপ্রাণিত করত। মাঠে সবকিছু সহজাত মনে হলেও এর নেপথ্যে থাকত গভীর ও সুক্ষ্ম সব পরিকল্পনা। তাছাড়া একজন নেতা হিসেবে তার খেলোয়াড় ব্যবস্থাপনাও আমার দারুণ লাগত। আপনি যদি খেলোয়াড়দের মনস্তত্ত্ব না বোঝেন, তবে তাদের দিয়ে নিজের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করানো অসম্ভব।’
দুই বন্ধুর এই দারুণ রসায়ন এবং ক্রিকেটীয় প্রজ্ঞাই এখন ইংল্যান্ড টেস্ট দলকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার বড় চালিকাশক্তি হতে চলেছে। এখন কেবল বাকি আনুষ্ঠানিক ঘোষণার।
নেইমার ছাড়াও ব্রাজিলের কয়েকজনের 'শেষ' দেখছেন আনচেলত্তি