বেসরকারি হাসপাতালের নকশা পরিদর্শনে সিডিএ চেয়ারম্যান, ১ মাসের আলটিমেটাম

আপডেট : ৩০ জুলাই ২০২৬, ০৮:০৫ পিএম

চট্টগ্রাম নগরীর তীব্র যানজট নিরসন, অনুমোদিত নকশার সঠিক বাস্তবায়ন এবং বেসরকারি হাসপাতালগুলোর পার্কিং ব্যবস্থার প্রকৃত চিত্র দেখতে সরেজমিন অভিযানে নেমেছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। অভিযানে ন্যাশনাল, ম্যাক্স, পপুলারসহ বিভিন্ন হাসপাতালে নানা অনিয়ম ধরা পড়ে।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সংস্থার চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেনের নেতৃত্বে একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন প্রতিনিধিদল নগরীর মেহেদিবাগ ও পাঁচলাইশ এলাকার শীর্ষস্থানীয় বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনের সময় প্রায় প্রতিটি হাসপাতালেই অনুমোদিত নকশার গরমিল, ভূমির অবৈধ ব্যবহার, অপর্যাপ্ত পার্কিং ও দুর্বল অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থার গুরুতর চিত্র ফুটে ওঠে।

সিডিএ সূত্র জানায়, পরিদর্শনের তালিকায় থাকা হাসপাতালগুলোর একটি বড় অংশই আবাসিক বা আবাসিক-কাম-বাণিজ্যিক ভবনের অনুমোদন নিয়ে পূর্ণাঙ্গ হাসপাতাল পরিচালনা করছে। পার্কিংয়ের নির্ধারিত জায়গায় গড়ে তোলা হয়েছে দোকান, ওয়াশিং প্ল্যান্ট, প্রার্থনাকক্ষসহ নানা অবকাঠামো। রোগীদের গাড়ি পার্কিংয়ের কোনো সুযোগ না থাকায় বাধ্য হয়ে সেগুলোকে সামনের প্রধান সড়কে রাখতে হচ্ছে, যার প্রত্যক্ষ প্রভাবে নগরজুড়ে সৃষ্টি হচ্ছে স্থবির যানজট।

সিডিএ কর্মকর্তারা জানান, অভিযানকালে মেহেদিবাগের ন্যাশনাল হাসপাতালে নকশাবহির্ভূত নানা চিত্র দেখা যায়। সেখানে ৫০টি পার্কিংয়ের অনুমোদন থাকলেও বাস্তবে পাওয়া গেছে মাত্র ২৮টি। বাকি অংশে ওয়াশিং প্ল্যান্টসহ অন্যান্য স্থাপনা তোলা হয়েছে। এমনকি জরুরি ফায়ার সিঁড়িতে জমে ছিল ময়লার স্তূপ। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এক মাসের মধ্যে এসব সরিয়ে পার্কিং বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। অন্যদিকে ম্যাক্স হাসপাতালের পার্কিং এলাকা চিকিৎসকদের গাড়ি ও বিভিন্ন স্থাপনার দখলে থাকায় সাধারণ রোগীদের জন্য কোনো জায়গা ছিল না। সিডিএ কর্তৃপক্ষ অবিলম্বে এসব প্রতিবন্ধকতা অপসারণের নির্দেশ দেয়।

অনুমোদিত নকশা না মানা ও পার্কিং সংকটের কারণে সদ্য নির্মিত এরিস্ট্রোকেয়ার হাসপাতালকে আগেই নোটিশ দেওয়া হয়েছিল, এবারও তারা উপযুক্ত ‘ভূমি ব্যবহার ছাড়পত্র’ দেখাতে পারেনি। পাশাপাশি পপুলার হাসপাতাল নির্ধারিত ৪০ ফুট খোলা জায়গা সম্পূর্ণ দখল করে ভবন নির্মাণ করায় এবং পাশের একটি ভবন অবৈধভাবে সংযুক্ত করায় তাদের কাছে কৈফিয়ত চাওয়া হয়েছে।

পরিদর্শন শেষে আগামী সোমবার সংশ্লিষ্ট সব হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে নকশা ও যাবতীয় দালিলিক প্রমাণসহ সিডিএ ভবনে তলব করা হয়েছে। পরিদর্শনের সার্বিক চিত্রে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে সিডিএ চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন বলেন, হাসপাতাল একটি উচ্চ জনসমাগমপূর্ণ ও অত্যন্ত সংবেদনশীল স্থান। কিন্তু আবাসিক ভবনের অনুমোদন নিয়ে যেভাবে অনিয়ম চালানো হচ্ছে, তা অগ্নিনিরাপত্তা ও ভূমিকম্পের মতো ঝুঁকির ক্ষেত্রে মারাত্মক বিপজ্জনক।

তিনি আরও বলেন, চিকিৎসকদের গাড়ি দীর্ঘ সময় পার্কিং দখল করে রাখা যাবে না এবং রোগীদের পার্কিং নিশ্চিত করতেই হবে। আগামী এক মাসের মধ্যে পার্কিং অবমুক্ত করাসহ দৃশ্যমান অগ্রগতি না হলে সিডিএ কঠোর আইনি আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

পরিদর্শনকালে সিডিএ সদস্য (প্রকৌশল) মো. জামিলুর রহমান, প্রধান প্রকৌশলী আহমেদ আনোয়ারুল নজরুল, সচিব মো. মাহবুবউল করিম, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এ জি এম সেলিম, নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাহফুজুর রহমান এবং অথোরাইজড অফিসার কাজী কাদের নেওয়াজ ও তানজীব হোসেনসহ অন্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত