টিকা : ছোট্ট সুরক্ষা, বড় নিরাপত্তা

আপডেট : ০২ আগস্ট ২০২৬, ০২:২২ এএম

বিশ্বজুড়ে এখনো ডায়রিয়া পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের অসুস্থতা ও মৃত্যুর অন্যতম কারণ। বিশেষ করে রোটাভাইরাস নামের ভাইরাস শিশুদের তীব্র ডায়রিয়ার জন্য দায়ী। ঝুঁকি কমাতেই রোটাভাইরাসের বিরুদ্ধে টিকা উদ্ভাবন করা হয়েছে।

রোটাভাইরাস টিকা নিয়ে গবেষণা শুরু হয় ১৯৮০-এর দশকে। ১৯৯৮ সালে প্রথম টিকা বাজারে এলেও নিরাপত্তাজনিত কারণে প্রত্যাহার করা হয়। পরে দীর্ঘ গবেষণার পর ২০০৬ সালে নিরাপদ ও কার্যকর দুটি রোটাভাইরাস টিকা, রোটারিক্স (Rotarix) ) এবং রোটাটেক (RotaTeq) বিশ্বব্যাপী ব্যবহারের অনুমোদন পায়। এই টিকার পেছনে একক কোনো বিজ্ঞানীর অবদান নেই; বরং বহু গবেষক, চিকিৎসক ও আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘদিনের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল ছিল।

রোটাভাইরাস টিকা দেওয়ার প্রধান উদ্দেশ্য হলো শিশুদের তীব্র ডায়রিয়া, পানিশূন্যতা, হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার প্রয়োজনীয়তা এবং ডায়রিয়াজনিত মৃত্যুর ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা। টিকা নেওয়ার পরও ডায়রিয়া হতে পারে, তবে সাধারণত কম গুরুতর এবং জটিলতার আশঙ্কাও অনেক কম থাকে। এই টিকা মুখে খাওয়ানো হয়। প্রথম ডোজ সাধারণত ৬ সপ্তাহ বয়সে দেওয়া হয়। ব্যবহৃত টিকার ধরন অনুযায়ী মোট দুই বা তিন ডোজ দিতে হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে ৮ মাস বয়সের আগেই সব ডোজ শেষ করার পরামর্শ দেওয়া হয়। তাই শিশুর জন্মের পর নির্ধারিত সময়ে টিকাদান নিশ্চিত জরুরি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নিরাপদ পানি, স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্যাভ্যাস, হাত ধোয়ার অভ্যাস এবং রোটাভাইরাস টিকা এই চারটি উপায় একসঙ্গে অনুসরণ করলে শিশুদের ডায়রিয়ার ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। একটি ছোট্ট টিকা শুধু রোগ প্রতিরোধই করে না, বরং শিশুর সুস্থ শৈশব ও নিরাপদ ভবিষ্যতের ভিত্তিও গড়ে তোলে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত