ফেডারেশনে সংস্কার চান তপন, ‘একই পদে দুই মেয়াদের বেশি নয়’

আপডেট : ০২ আগস্ট ২০২৬, ০২:৪৩ এএম

দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে অ্যাথলেটিকসে নতুন গতি আনতে বেশ কিছু পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন ফেডারেশনের নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আলী ইমাম তপন। আগামী বছর পাকিস্তানে অনুষ্ঠেয় এসএ গেমসে ৫ থেকে ৬টি পদক জয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে নতুন কমিটি। তার সঙ্গে কথা বলেছেন সিনিয়র রিপোর্টার ওমর ফারুক রুবেল

দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম সভায় কী কী সিদ্ধান্ত হয়েছে?

আলী ইমাম তপন : দায়িত্ব নেওয়ার সময় আমরা দেখেছি, অ্যাথলেটিক ফেডারেশন অত্যন্ত রুগ্ন অবস্থায় ছিল। প্রায় আশার আলো নেই, এমন একটি পরিবেশে আমরা দায়িত্ব নিয়েছি। আমাদের সামনে এখন সবচেয়ে বড় লক্ষ্য হলো অ্যাথলেটিকসে আবার সাফল্যের ধারায় ফেরা। প্রায় ২০ বছর আগে (২০০৬ সালে) আমি যখন এই ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ছিলাম, তখন এসএ গেমসে আমরা স্বর্ণ, রৌপ্য ও ব্রোঞ্জ পদক পেয়েছিলাম। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে অ্যাথলেটিকসে সেই অর্থে কোনো পদক নেই। তাই আগামী বছর মার্চে পাকিস্তানে অনুষ্ঠেয় এসএ গেমসকে সামনে রেখে আমরা কিছু নির্দিষ্ট ইভেন্টকে গুরুত্ব দিচ্ছি।

এসএ গেমসের জন্য আপনাদের পরিকল্পনা কী?

আলী ইমাম তপন : দায়িত্ব নেওয়ার দিন থেকেই বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করেছি। ১০০ ও ২০০ মিটার পুরুষ ও নারী, ৪০০ মিটার, রিলে, লং জাম্প, হাই জাম্প ও হার্ডলসÑ এসব ইভেন্টকে আমরা অগ্রাধিকার দিয়েছি। এসব ইভেন্টের জন্য ২০ থেকে ২৫ জনের একটি শর্টলিস্ট করা হয়েছে। পাশাপাশি চারজন অভিজ্ঞ ও নামি প্রশিক্ষককে বাছাই করেছি। গত দুই বছর কোনো স্পন্সর ছিল না। তাই কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত অর্থায়নে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে ক্যাম্প শুরু করতে চাই। আমাদের লক্ষ্য থাকবে এসএ গেমসে ৫ থেকে ৬টি পদক জয় করা। এর মধ্যে অন্তত একটি স্বর্ণ জয়ের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকবে।

দ্রুত মানবী শিরিন ও দ্রুত মানব ইমরানের ওপরই কি মূল ভরসা থাকবে?

আলী ইমাম তপন : আমাদের হাতে যে পুঁজি আছে, তা নিয়েই লড়াই করতে হবে। সামনে ছয়-সাত মাস সময় রয়েছে। শিরিন ও ইমরানের পাশাপাশি অন্য প্রতিভাবান অ্যাথলেটদের নিয়েও আমরা কাজ করব। দুটি প্যারালাল ক্যাম্প পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। আমরা আশা করছি, এখান থেকেই ভালো ফল বেরিয়ে আসবে। ইমরান গ্লাসগোতে কমনওয়েলথ গেমসের জন্য দেশের বাইরে ছিল। তাকে দ্রুত ফিরে আসার জন্য খবর পাঠানো হয়েছে। তবে সে যদি এখনই ফিরতে না পারে, তবুও আমরা বসে থাকব না। ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যে ক্যাম্প শুরু করব।

সরকার আপনাদের তিন মাসের সময় দিয়েছে। এ সময়ের মধ্যে এত বড় পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সম্ভব?

আলী ইমাম তপন : অ্যাডহক কমিটির মেয়াদ সাধারণত তিন মাস। আগের কমিটি প্রায় দুই বছর দায়িত্বে থাকলেও নির্বাচন আয়োজনের কোনো উদ্যোগ নেয়নি। আমরা দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তিন মাসের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছি। তবে জেলা ও বিভাগীয় কাউন্সিলর নির্বাচনের পরিস্থিতির ওপর অনেক কিছু নির্ভর করছে। আমরা কোনোভাবেই কালক্ষেপণ করতে চাই না। একই সঙ্গে আমরা এমন একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা রেখে যেতে চাই, যা পরবর্তী নির্বাচিত কমিটিও বাস্তবায়ন করতে পারে।

খেলোয়াড়দের আবাসন ও খাবারের সমস্যা দীর্ঘদিনের। এর সমাধান কীভাবে করবেন?

আলী ইমাম তপন : দায়িত্ব নেওয়ার পর ফেডারেশনের স্থাপনাগুলো ঘুরে দেখেছি। ফেডারেশন ভবনের চারতলার ওপরে একটি পরিত্যক্ত জায়গায় আবাসিক ক্যাম্প করার অনুমোদন আগে নেওয়া হয়েছিল। সেখানে তোষক, বালিশসহ বিভিন্ন সরঞ্জামও কেনা আছে, কিন্তু সেগুলো নষ্ট হচ্ছে। সেখানে রান্নাঘর, ডাইনিং এবং ছেলেমেয়েদের জন্য আলাদা ওয়াশরুমের ব্যবস্থাও রয়েছে। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের নতুন পরিচালক (ক্রীড়া) ও সাবেক তারকা ফুটবলার জাহেদ পারভেজ চৌধুরীর সহযোগিতায় আমরা সেখানে ক্যাম্প ও জিম স্থাপনের উদ্যোগ নিচ্ছি। সরকারি বরাদ্দ না পেলেও কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় বিকল্পভাবে এই সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করব।

অতীতেও আবাসন নিয়ে অনেক প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। এবার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা কী?

আলী ইমাম তপন : আমাদের কমিটির বয়স মাত্র ১৫ দিন। প্রথম সভায় আবাসন সমস্যাই ছিল অন্যতম প্রধান আলোচনার বিষয়। আমরা বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছি। সরকারি সহযোগিতা পেলে ভালো, না হলে নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী বিকল্প ব্যবস্থা করব। খেলোয়াড়দের থাকার ও প্রশিক্ষণের পরিবেশ নিশ্চিত করা আমাদের অন্যতম অগ্রাধিকার।

ফেডারেশনকে কীভাবে এগিয়ে নিতে চান?

আলী ইমাম তপন : খেলাধুলায় কোনো শর্টকাট নেই। আমাদের বর্তমান পুঁজি যা আছে, তা নিয়েই যুদ্ধ করতে হবে। তৃণমূল থেকে কিশোর-কিশোরীদের ট্যালেন্ট হান্টের মাধ্যমে বাছাই করে ২৫ থেকে ৩০ জনকে দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণের আওতায় আনতে চাই। ভবিষ্যতে তারাই জাতীয় দলের পাইপলাইন হিসেবে কাজ করবে। পাশাপাশি আমরা একটি অনিয়ম, দুর্নীতি, নারী কেলেঙ্কারি ও অর্থ কেলেঙ্কারিমুক্ত স্বচ্ছ ফেডারেশন উপহার দিতে চাই। আমি যৌথ নেতৃত্বে বিশ্বাস করি। সবার সঙ্গে আলোচনা করেই সিদ্ধান্ত নিতে চাই।

আপনার আগের দায়িত্বের সময় নানা ঘটনা ঘটেছিল। সেই অভিজ্ঞতা থেকে এবার কী শিক্ষা নিয়েছেন?

আলী ইমাম তপন : ২০০৬-০৭ সালের কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়েছিল। রাজনৈতিক কারণে আমাকে ও আমার ভাইস প্রেসিডেন্ট মারুফ আহমেদ বিজনকে গ্রেপ্তার করে নির্যাতন করা হয়েছিল। প্রায় ২০ বছর পর আবার দায়িত্ব পেয়েছি। আমি মনে করি, ফেডারেশনগুলোতে সংস্কার প্রয়োজন। একই ব্যক্তি যেন দুই মেয়াদের বেশি একই পদে থাকতে না পারেন, এমন ব্যবস্থা করা যেতে পারে। অবশ্যই নির্বাচিত হয়ে কাজ করার ইচ্ছা আছে। সুযোগ পেলে আমাদের পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন করতে চাই। আমার মূল লক্ষ্য অ্যাথলেটিকসকে আবার সাফল্যের পথে ফিরিয়ে আনা এবং একটি শক্তিশালী ভবিষ্যৎ প্রজন্ম তৈরি করা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত