যাত্রাবাড়ীতে ৭৫ জনকে হত্যার তথ্য পাওয়া গেছে: চিফ প্রসিকিউটর

আপডেট : ০২ আগস্ট ২০২৬, ১০:২৭ পিএম

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় প্রাথমিকভাবে ৭৫ জনকে হত্যার তথ্য-প্রমাণ মিলেছে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। 

রবিবার (২ আগস্ট) যাত্রাবাড়ীর নবী টাওয়ার কনফারেন্স রুমে আয়োজিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানে যাত্রাবাড়ী: শহীদ পরিবার ও আহতদের গণশুনানি’ অনুষ্ঠানে তিনি এই তথ্য প্রকাশ করেন। এর মধ্যে শুধু ৫ আগস্টই ৫০-৫৫ জন শহীদ হয়েছেন বলে জানান তিনি।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে যাত্রাবাড়ীতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত প্রায় ৭৫ জনের নাম-পরিচয়সহ একটি তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। তদন্ত শেষ হলে এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

যাত্রাবাড়ীর হত্যাকাণ্ডের তদন্তকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে আমিনুল ইসলাম বলেন, পৃথক হত্যা মামলা তদন্ত করলে বিচার দীর্ঘায়িত হবে। তাই ১৬, ১৯ ও ২০ জুলাইসহ বিভিন্ন দিনের হত্যাকাণ্ডগুলো দিনভিত্তিক একত্র করে একটি সমন্বিত তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে একই বিচারে একাধিক ঘটনা ও একাধিক আসামিকে অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হবে।

এদিকে, গণশুনানিতে ছেলের শেষ দিনের স্মৃতি তুলে ধরে আবদুর রব বলেন, মিরাজরা ১১ বন্ধু সেদিন আন্দোলনে ছিল। ৫ আগস্ট সকালে তারা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে আন্দোলনকে সফল করার জন্য যাত্রাবাড়ীর দিকে যায়। তিনি নিজেও সেদিন ঘটনাস্থলের কাছাকাছি ছিলেন।

সেদিনের পরিস্থিতি বর্ণনা করতে গিয়ে আবদুর রব বলেন, চারদিকে কাঁদানে গ্যাসের শেল, রাবার বুলেট ও গুলির শব্দে পুরো এলাকা যেন কেঁপে উঠছিল। তার ভাষায়, সেই দৃশ্য ছিল ‘কিয়ামতের আলামতের’ মতো। তিনি নিজের হাতে অনেকগুলো মরদেহ বহন করেছেন বলেও জানান।

শহীদ মিরাজের বাবা বলেন, তার ছেলে যাত্রাবাড়ী থানার পাশের একটি গলিতে গুলিবিদ্ধ হয়েছিল।... তার ছেলে আর জীবিত ফিরে আসেনি।

গণশুনানিতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে যাত্রাবাড়ীতে শহীদদের পরিবারের সদস্যরা এবং সেখানে আহত ব্যক্তিরা অংশ নেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত