৬ মাসেও কার্যক্রম শুরু হয়নি রাবির নতুন ইউনিটে

আপডেট : ২৬ আগস্ট ২০২৬, ০৭:১৯ পিএম

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য, সংগীত, মানবতাবাদ ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা নিয়ে নিয়মিত চর্চা ও গবেষণার লক্ষ্যে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল ‘নজরুল চর্চা কেন্দ্র’। তবে প্রতিষ্ঠার ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও কেন্দ্রটির কার্যক্রম এখনো শুরু হয়নি। নেই কোনো অফিস, প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র। কেনা হয়নি কোনো সরঞ্জামও। আলোচনা সভা, সেমিনার কিংবা গবেষণামূলক কার্যক্রমও দৃশ্যমান নয়। ফলে নামেই সীমাবদ্ধ হয়ে আছে জাতীয় কবিকে ঘিরে প্রতিষ্ঠিত এ কেন্দ্র।

গত ৯ ফেব্রুয়ারি রাবিতে প্রথমবারের মতো ‘নজরুল চর্চা কেন্দ্র’ প্রতিষ্ঠা করা হয়। তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক ড. সালেহ হাসান নকীবের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত কেন্দ্রটির লক্ষ্য ছিল জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য, সংগীত ও জীবনদর্শন নিয়ে নিয়মিত চর্চা, গবেষণা ও আলোচনা করা। পাশাপাশি তার মানবতাবাদ, সাম্য ও অসাম্প্রদায়িক চিন্তাধারা নতুন প্রজন্মের কাছে ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনাও ছিল।

কেন্দ্রটির পরিচালক অধ্যাপক শামীমা হামিদ নিজেই বলছেন, বাস্তবে কেন্দ্রটির কার্যক্রমে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি তিনি করতে পারেননি। তিনি জানান, আগের বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কেন্দ্রটি গঠন করেছিল। অনেকটা জোর করেই তাকে পরিচালকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। তবে কেন্দ্রটির কার্যক্রম শুরু করা বা এ নিয়ে তেমন কিছু করতে পারেননি তিনি। এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি খুবই বিব্রত বোধ করেন। 

কেন্দ্রটির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. সালেহ্ হাসান নকীব বলেন, শুধু বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে নয়, সামগ্রিকভাবে নজরুলচর্চার গুরুত্ব অনেক বেশি। কাজী নজরুল ইসলামের মানবতার শিক্ষা, সাম্য ও অসাম্প্রদায়িক চিন্তাভাবনা আরও বেশি করে প্রচার করা উচিত।

তিনি বলেন, আমাদের পরিকল্পনা অনেক ছিল কেন্দ্রটিকে সত্যিকার অর্থে একটি গবেষণা কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার। সেখানে নজরুলের রচনা নিয়ে কাজ করার পাশাপাশি সেমিনার, সিম্পোজিয়াম আয়োজন, গবেষণার সুযোগ তৈরি এবং রিসার্চ ফেলো রাখার মতো নানা পরিকল্পনা ছিল।

বর্তমানে কেন্দ্রটির কার্যক্রম সম্পর্কে জানতে চাইলে অধ্যাপক সালেহ্ হাসান নকীব বলেন, আমার তেমন কোনো যোগাযোগ নেই। তাই এখন কী ধরনের কার্যক্রম চলছে, সে বিষয়ে আমি জানি না। এটির কাঠামো কেমন হবে বা কীভাবে পরিচালিত হবে, তা নিয়েও আমাদের চিন্তাভাবনা ছিল।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে যারা প্রশাসনে আছেন, তারা বিষয়টি নিয়ে ভাববেন। সবাই নিশ্চয়ই স্বীকার করবেন, এ ধরনের একটি ইনস্টিটিউট বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য প্রয়োজন আছে। বিশেষ করে আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম–বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে তার চিন্তাভাবনা ও রচনার গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। 

তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. আব্দুল আলীম বলছেন, নজরুল চর্চা কেন্দ্রটি শুধু নামমাত্র গঠন করা হয়েছে। এর কোনো অফিস নেই এবং এখন পর্যন্ত কার্যত কোনো কাজও করা হয়নি।

তিনি বলেন, এটিকে শিক্ষার্থীদের দাঁড় করাতে হবে। কেন্দ্রটি সম্পূর্ণ নতুন হওয়ায় এর জন্য অনুমোদন ও ইউজিসির (বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন) অনুমতি প্রয়োজন। অফিস স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র ও অন্যান্য সরঞ্জামও কিনতে হবে। সামনে এসব কার্যক্রম করা হবে বলে জানান তিনি।

অন্যদিকে বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী নিসরাত জাহান অহনা মনে করেন, শিক্ষার্থীদের জন্য নজরুল চর্চা কেন্দ্রের গুরুত্ব অনেক। নিয়মিত আলোচনা সভা, সেমিনার ও সাংস্কৃতিক আয়োজন করা হলে শিক্ষার্থীরা কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য, সংগীত, দর্শন ও চিন্তাধারা সম্পর্কে আরও গভীরভাবে জানার সুযোগ পাবে।

তার মতে, নজরুলের অসাম্প্রদায়িক, মানবতাবাদী ও সাম্যের চিন্তাধারা শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তার সাহিত্য তরুণদের অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে সচেতন হতে, মানবিক মূল্যবোধ ধারণ করতে এবং সমাজে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে অনুপ্রাণিত করবে। তাই শুধু নামেই নয়, নিয়মিত কার্যক্রমের মাধ্যমে নজরুল চর্চা কেন্দ্রকে সক্রিয় করা প্রয়োজন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত