বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, বর্তমান সরকার সংবিধান নিয়ে অতিমাত্রায় ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। জুলাই বিপ্লবের পর যখন জনগণ একটি বৈষম্যহীন মানবিক রাষ্ট্র বিনির্মাণের প্রতিজ্ঞায় মগ্ন, ঠিক তখন সরকার ও তাদের মন্ত্রীরা সংবিধানের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে বিভ্রান্তিমূলক কাজে লিপ্ত রয়েছেন। দেশের মূল সমস্যাÑ জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এখন আর তাদের কাছে কোনো মাথাব্যথা নয়।
গতকাল সোমবার রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম, অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, দেশে বর্তমানে চাহিদার তুলনায় গ্যাসের তীব্র ঘাটতি রয়েছে। প্রতিদিন প্রায় ১৬৫ কোটি ঘনফুট গ্যাসের ঘাটতির কারণে বাসাবাড়িতে মা-বোনেরা ঠিকমতো চুলা জ্বালাতে পারছেন না। গ্যাসের তীব্র সংকটের কারণে শিল্পকারখানা ও ব্যবসাবাণিজ্য বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। অথচ এলএনজি আমদানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার কারণে গ্যাসের মূল্য বাড়ছে, কিন্তু সরবরাহ কমছে। তিতাস, বিবিয়ানা, হবিগঞ্জ ও রশীদপুরসহ প্রধান গ্যাসক্ষেত্রগুলোতে উৎপাদন দিন দিন কমছে, অথচ নতুন গ্যাস অনুসন্ধানের কোনো দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা সরকারের নেই।
বিদ্যুৎ খাতের তীব্র সমালোচনা করে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, ২০২৪ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে দেশে দুই দফা বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছে। ডিজিটাল চাঁদাবাজির মতো প্রতি মাসে গ্রাহকদের কাছ থেকে ডিমান্ড চার্জ কাটা হচ্ছে। এ ছাড়া জুনে সিস্টেম লস কম দেখানোর জন্য সম্পূর্ণ অনুমানের ভিত্তিতে কম বিল করে, পরবর্তী সময়ে জুলাইয়ে অতিরিক্ত বিলের বোঝা জনগণের ওপর চাপানো হচ্ছে। পিডিবির মাধ্যমে ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানিগুলোকে ভর্তুকি দিয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হলেও গ্রাহকদের কাছ থেকে বেশি বিল আদায় করে এক প্রকার লুটপাটের বন্দোবস্ত করা হয়েছে।
তিনি বলেন, কাঁচা মরিচ, মোটা চাল, মিনিকেট চাল, মসুর ডাল, চিনি ও রসুনের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। সরকারের চাটুকারিতা করে একশ্রেণির টকশোজীবীরা প্রমোশন পেলেও সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমাতে সরকারের কোনো কার্যকর নজর নেই।
অবিলম্বে দেশে গ্যাস ও জ্বালানিকেন্দ্রিক একটি জাতীয় নীতিমালা প্রণয়নের দাবি জানিয়ে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, দলীয়করণের সর্বনাশা পথ পরিহার করে সরকারের উচিত দেশের অভিজ্ঞ ও দক্ষ বিশেষজ্ঞদের কাজে লাগানো। দলদাসদের বড় বড় পদে বসিয়ে দেশের সংকট দূর করা সম্ভব নয়। এদিকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে যাত্রাবাড়ীতে জামায়াতে ইসলামীর জনসভায় মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, বিএনপি রক্তাক্ত জুলাইয়ের ইতিহাস ভুলতে বসেছে। এর উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হচ্ছে ৩৬ জুলাই নিয়ে বিএনপির দলীয় কোনো কর্মসূচি দেখা যায়নি। ক্ষমতাগ্রহণের সঙ্গে সঙ্গে বিএনপি জুলাইকে অস্বীকার করেছে। ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমির আব্দুস সবুর ফকিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জনসভায় আরও বক্তব্য রাখেন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি, ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি মোহাম্মদ কামাল হোসেন এমপি, ঢাকা-৪ আসনের সংসদ সদস্য জয়নুল আবেদীন প্রমুখ।
