জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে ‘বৈষম্যমূলক আচরণের’ অভিযোগ তুলে প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা। এ ঘটনায় সংগঠনটি অনুষ্ঠান থেকে ওয়াকআউট করে।
আজ ১৮ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখার প্রচার সম্পাদক ফেরদৌস আল হাসানের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ প্রতিবাদ জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আজ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় সাড়ে পাঁচ কিলোমিটার রাস্তার উন্নয়নকাজের উদ্বোধন করে।
এ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরসহ বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্রিয়াশীল বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের স্টেকহোল্ডারদের আমন্ত্রণ জানানো হয়।
তবে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রশাসন ‘চরম বৈষম্যমূলক আচরণ’ করেছে বলে অভিযোগ করেছে শিবির।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠনগুলোকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে শুধুমাত্র একটি নির্দিষ্ট ছাত্রসংগঠন এবং তাদের সাবেক ও বর্তমান নেতৃবৃন্দকে। অন্য কোনো ছাত্র সংগঠনের প্রতিনিধিকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়নি।
এতে আরও বলা হয়, প্রশাসনের একটি অনুষ্ঠানে ডেকোরাম অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ছাত্র সংগঠনের প্রতি সমতাসূচক আচরণ করাই আয়োজকদের দায়িত্ব ছিল। অথচ একটি নির্দিষ্ট সংগঠনকে বক্তব্য দেওয়ার বিশেষ সুযোগ দিয়ে অন্য সংগঠনগুলোকে সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা নিঃসন্দেহে বৈষম্যমূলক আচরণ। এ ধরনের আচরণ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নিরপেক্ষতা ও সমতার নীতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করে এবং প্রশাসনের দলীয়করণের একটি নোংরা মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ ঘটায় বলে মনে করে সংগঠনটি।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির কোনো ধরনের বৈষম্য, পক্ষপাতিত্ব কিংবা প্রশাসনিক অনুষ্ঠানে দলীয় প্রভাব বিস্তারের এই অপচর্চা মেনে নেবে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠনের প্রতি সমান আচরণ এবং মতপ্রকাশের সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। প্রশাসন যদি নিরপেক্ষতার ন্যূনতম মানদণ্ডও বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়, তাহলে এর দায় প্রশাসনকেই নিতে হবে।
এ ঘটনায় বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা অনুষ্ঠানটি বয়কট করে ওয়াকআউট করেছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
একই সঙ্গে এ বিষয়ে সাংগঠনিকভাবে আলোচনা করে পরবর্তী কর্মসূচি গ্রহণের জন্য বিশেষ সাধারণ সভা আহ্বান করা হবে বলেও জানানো হয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এ ধরনের আচরণের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিকভাবে প্রতিবাদ অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে সংগঠনটি।