ফেনীর ফুলগাজীতে পাঁচ বছর বয়সী এক শিশুকে বলাৎকারের অভিযোগে দায়ের করা মামলার অভিযুক্ত একটি মসজিদের মুয়াজ্জিন মো. হাসানকে (১৬) গ্রেপ্তারের পর আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) ভোরে ফেনী শহরের ফলেশ্বর এলাকার একটি বাড়িতে আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় তাকে আটক করা হয়। এর আগে ভুক্তভোগী শিশুর স্বজনরা তার অবস্থান শনাক্ত করে পুলিশকে খবর দিলে অভিযানে গিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে ফুলগাজী থানা পুলিশ। পরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে দায়ের করা মামলায় আদালতে সোপর্দ করলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার (৩ আগস্ট) যোহর ও আসরের নামাজের মধ্যবর্তী সময়ে ফুলগাজী উপজেলার জিএমহাট ইউনিয়নের বকশিবাজার এলাকার একটি মসজিদের কক্ষে উপজেলার বশিকপুর গ্রামের পাঁচ বছর বয়সী এক শিশুকে নিয়ে বলাৎকার করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। কিছুক্ষণ পর শিশুটি বাইরে বের হলে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ও রক্তক্ষরণ দেখতে পান স্থানীয়রা। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে দ্রুত ফুলগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসা, প্রয়োজনীয় আলামত সংরক্ষণ এবং মেডিকেল পরীক্ষার জন্য তাকে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে শিশুটি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
ফুলগাজী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিন মিয়া বলেন, এ ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য, সাক্ষ্য-প্রমাণ ও মেডিকেল প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর ফুলগাজীসহ পুরো ফেনী জেলায় তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এ ঘটনার দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষী ব্যক্তির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
