রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) জুলাই সংশ্লিষ্ট এক প্রদর্শনীতে একটি ব্যানার প্রদর্শনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছাত্রশিবির ও শাখা জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের মধ্যে কয়েক দফায় দফায় সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
আজ বুধবার (৫ আগস্ট) দুদিনের উত্তেজনা ছাপিয়ে ফের একমঞ্চে দেখা গেল বেরোবি উপাচার্য প্রফেসর ডঃ মো. শওকাত আলী, ছাত্রদল সভাপতি মো. রাফায়েল ইমতিয়াজ ইয়ামিন ও শিবির সভাপতি মো. আব্দুর রাকিব মুরাদকে। 'জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস' উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানে নানা কর্মসূচিতে একসাথে দেখা যায় তাদের।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত আনন্দ শোভাযাত্রা ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে একসঙ্গে অংশ নেন তাঁরা।
শিবির নেতৃবৃন্দ জানান, ক্যাম্পাসে সহাবস্থানের রাজনীতিতে বিশ্বাসী তাঁরা। জুলাইয়ে সকলে একসঙ্গে মিলেই ১৭ বছরের বিদ্যমান ফ্যাসিবাদী কাঠামো নির্মূলে আন্দোলন হয়েছে। সেই জায়গা থেকে, ছাত্রদল মঙ্গলবারে ক্যাম্পাসে কর্মসূচি করলেও, বিরোধী ছাত্র সংগঠন হিসেবে শিবিরের পক্ষ থেকে কোনোরূপ ব্যত্যয় ঘটানো হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার স্বার্থে শিবির ঐক্যবদ্ধ বলে উল্লেখ করেন তাঁরা।
ছাত্রদল নেতাকর্মীদের দাবি, ১৭ বছরের আওয়ামী দুঃশাসন ছিন্ন করে ছাত্রজনতার গণঅভ্যুত্থান সফল করতে সকল শ্রেণি-পেশা ও সংগঠনের নেতাকর্মীরা অবদান রেখেছেন। সেখানে ছাত্রদল, ছাত্রশিবিরসহ সবার সমান অবদান রয়েছে। এ কারণে মত পার্থক্য সত্ত্বেও সকলে জুলাইয়ের প্রশ্নে তাঁরা এক হয়েছেন। ক্যাম্পাসে সকল ধরনের নৈরাজ্য কিংবা সংকট নিরসনে ছাত্রদল কাজ করে যাবে বলেও জানান তাঁরা।
এদিকে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বলছে, সম্প্রতি ছাত্র সংগঠন দুটির মধ্যে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সকল পক্ষের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতেই বিষয়টির সমাধান করেছে। উভয়পক্ষের মধ্যকার সম্প্রীতিকে সুসংহত করার লক্ষ্যে তাই জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসের কর্মসূচিতে ছাত্রদল ও শিবিরের নেতৃবৃন্দকে আমন্ত্রণ জানায় বেরোবি কর্তৃপক্ষ।
এ বিষয়ে বেরোবি শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল মোঃ ইমরান খান সৌরভ বলেন, ক্যাম্পাসে সহাবস্থান ও স্থিতিশীলতার রাজনীতিতে আমরা সবসময় আস্থা রাখি। আমরা চাই এখানে সকল দল-মতের মানুষ সমান সুযোগ-সুবিধা পান। তাই সোমবারের শিবিরের আয়োজনে হামলার মতো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পরও শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশ যেন এখানে বজায় থাকে সেজন্যেই আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কর্তৃক আয়োজিত জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসের কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছি। আমরা কোনো বিশৃঙ্খলার পক্ষপাতী নই। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনার বিষয়েও আমরা সমান শ্রদ্ধাশীল।
বেরোবি শাখা ছাত্রদলের সভাপতি মো. রাফায়েল ইমতিয়াজ ইয়ামিন বলেন, ছাত্রদল ক্যাম্পাসে সবসময় স্থিতিশীল ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে চায়। এজন্য সব ভুলে জুলাইয়ের প্রশ্নে আমরা এক হয়েছি। ছাত্রদল এখানে কোনো ধরনের নৈরাজ্য বা বিশৃঙ্খলা দেখতে চায় না। সৌহার্দ্য ও সহাবস্থানের রাজনীতিই এখানে করতে হবে, শিক্ষার্থীরা এটাই চায়।
বেরোবি উপাচার্য প্রফেসর ডঃ মো. শওকাত আলী বিষয়টিকে “বেরোবির সৌন্দর্য” আখ্যা দিয়ে বলেন, সোমবারের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পরপরই আমরা উদ্ভূত সংকট নিরসনে সকলের সঙ্গে বৈঠক করে শান্তিপূর্ণভাবে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উদযাপনে আমন্ত্রণ জানাই। এবং এটাই “বেরোবির সৌন্দর্য” যে, দুদিন পর সব ভুলে দুটি সংগঠনই এখানে এসেছে এবং আমাদের সঙ্গে সহযোগিতা করেছে। সাধারণ শিক্ষার্থীরা যাতে নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারে সে দিকেও আমরা সংগঠন দুটির নেতৃবৃন্দকে খেয়াল রাখতে এবং সতর্ক থাকতে বলেছি। তাঁরাও আমাদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
পিআইও অফিসের কার্যসহকারীকে তাৎক্ষণিক বদলি