কেয়ামত অনিবার্য সত্য। এই মহাপ্রলয়ের আগে পৃথিবীতে ঘটবে অনেক বিস্ময়কর ঘটনা। এমন কিছু নিদর্শন প্রকাশ পাবে, যা মানুষের কল্পনাকেও হার মানাবে। সেই বড় নিদর্শনগুলোর অন্যতম হলো ইয়াজুজ-মাজুজের আবির্ভাব। কোরআনে তাদের কথা বলা হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.)-ও তাদের সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন। তাই একজন মুসলিমের জন্য বিষয়টি জানা গুরুত্বপূর্ণ। তবে এই বিষয়ে কল্পকাহিনি নয়, কোরআন ও সহিহ হাদিসই হওয়া উচিত আমাদের একমাত্র নির্ভরতা।
মহান আল্লাহ সুরা কাহাফে যুলকারনাইন নামে এক ন্যায়পরায়ণ শাসকের ঘটনা বর্ণনা করেছেন। তিনি পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে ভ্রমণ করেন। একসময় তিনি দুই পাহাড়ের মধ্যবর্তী এমন এক এলাকায় পৌঁছান, যেখানে বসবাসকারী মানুষ তার কাছে সাহায্য প্রার্থনা করে। তারা জানায়, ইয়াজুজ-মাজুজ তাদের দেশে ভয়াবহ অশান্তি ও বিপর্যয় সৃষ্টি করছে। তাই তারা যুলকারনাইনকে অনুরোধ করে, যেন তিনি তাদের থেকে রক্ষার জন্য একটি প্রাচীর নির্মাণ করেন। অতঃপর তিনি তা নির্মাণ করেন, যা ইয়াজুজ-মাজুজ অতিক্রম করতে পারেনি। (সুরা কাহাফ ৯৩-৯৮)
ইয়াজুজ-মাজুজ কারা, সেই বিষয়ে কোরআনে বিস্তারিত বর্ণনা আসেনি। তবে তারা আদম (আ.)-এর বংশধর। তারা সংখ্যায় বেশি। পৃথিবীতে ব্যাপক অরাজকতা সৃষ্টি করবে। এ তথ্য সহিহ হাদিসে এসেছে।
কেয়ামতের বড় নিদর্শনগুলোর একটি হলো ইয়াজুজ-মাজুজের বের হওয়া। ইয়াজুজ-মাজুজ পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়বে। তারা যা কিছু পাবে, তা ধ্বংস করবে। পানি পর্যন্ত শেষ করে ফেলবে। তখন ঈসা (আ.) ও মুমিনরা আল্লাহর কাছে দোয়া করবেন। আল্লাহ তাদের ঘাড়ে এক ধরনের কীট সৃষ্টি করবেন। সেই কীটের আক্রমণে তারা সবাই একসঙ্গে মারা যাবে। এরপর আল্লাহ বৃষ্টি বর্ষণ করে পৃথিবীকে তাদের দুর্গন্ধ থেকে পরিষ্কার করে দেবেন। (সহিহ মুসলিম ২৯৩৭)
কোরআনে আরও বলা হয়েছে, ‘অবশেষে যখন ইয়াজুজ-মাজুজকে মুক্ত করে দেওয়া হবে এবং তারা প্রতিটি উঁচু স্থান থেকে দ্রুত ছুটে আসবে। তখন সত্য প্রতিশ্রুত কেয়ামত নিকটবর্তী হবে।’ (সুরা আম্বিয়া ৯৬-৯৭)
এ আয়াত স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেয়, ইয়াজুজ-মাজুজের আবির্ভাব কেয়ামতের অত্যন্ত নিকটবর্তী সময়ের একটি বড় নিদর্শন।
অনেকেই ইয়াজুজ-মাজুজকে বিভিন্ন আধুনিক শক্তিধর দেশের সঙ্গে মিলিয়ে দেখার চেষ্টা করেন। কেউ বলেন, তারা অমুক জাতি। কেউ বলেন, তারা তমুক সভ্যতা। কিন্তু এসব দাবির পক্ষে কোরআন বা সহিহ হাদিসে কোনো প্রমাণ নেই। তাই অনুমাননির্ভর ব্যাখ্যা থেকে দূরে থাকাই একজন মুসলিমের দায়িত্ব।
অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে, ইয়াজুজ-মাজুজ এখন কোথায়? এর উত্তর হলো, কোরআন ও সহিহ হাদিসে তাদের বর্তমান অবস্থান নির্দিষ্ট করে বলা হয়নি। শুধু এতটুকু জানা যায়, যুলকারনাইনের নির্মিত প্রাচীরের পেছনে তারা অবরুদ্ধ রয়েছে। আল্লাহর নির্ধারিত সময় পর্যন্ত তারা সেখানেই থাকবে। এরপর যখন আল্লাহর প্রতিশ্রুত সময় আসবে, তখন সেই প্রাচীর ধ্বংস হবে এবং তারা বেরিয়ে আসবে। এর বাইরে তাদের বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য নেই।
লেখক : মাদ্রাসাশিক্ষক ও ইসলামি গবেষক
