সুস্থতা নির্ভর করে সঠিক খাদ্যাভ্যাসের ওপর। ইসলাম এই বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। নবীজি (সা.)-এর জীবন থেকে আমরা এ বিষয়ে নানা দিকনির্দেশনা পাই। সবসময় নবীজি (সা.)-এর খাদ্যতালিকায় ছিল সহজলভ্য ও উপকারী খাবার। তেমনই একটি সবজি হলো লাউ। তিনি লাউ খেতে পছন্দ করতেন।
হজরত আনাস ইবনে মালিক (রা.) বর্ণনা করেন, এক দর্জি নবীজি (সা.)-কে খাবারের দাওয়াত দেন। সেখানে যবের রুটি এবং লাউ মিশ্রিত গোশতের ঝোল পরিবেশন করা হয়। আনাস (রা.) বলেন, তিনি দেখলেন, নবীজি (সা.) পাত্রের বিভিন্ন দিক থেকে লাউ খুঁজে খুঁজে খাচ্ছেন। এরপর থেকে তিনিও লাউ পছন্দ করতে শুরু করেন। (সহিহ বুখারি)
এই হাদিস থেকে বোঝা যায়, লাউ ছিল নবীজি (সা.)-এর প্রিয় সবজিগুলোর একটি। আধুনিক পুষ্টিবিজ্ঞানও লাউকে অত্যন্ত উপকারী সবজি হিসেবে মূল্যায়ন করেছে। এতে ক্যালোরির পরিমাণ খুবই কম। কিন্তু পানির পরিমাণ অনেক বেশি। তাই এটি শরীরকে আর্দ্র রাখতে সাহায্য করে। বিশেষ করে গরমের সময় লাউ শরীরের পানিশূন্যতা কমাতে সহায়ক ভূমিকা রাখে।
লাউয়ে রয়েছে পর্যাপ্ত খাদ্যআঁশ। এই আঁশ হজমশক্তি ভালো রাখতে সাহায্য করে। কোষ্ঠকাঠিন্য কমায়। অন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রম সচল রাখে। নিয়মিত খাদ্যতালিকায় লাউ থাকলে পরিপাকতন্ত্র সুস্থ রাখতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখে।
এতে রয়েছে ভিটামিন সি, ভিটামিন বি, পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম এবং অল্প পরিমাণে আয়রন। এসব উপাদান শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের স্বাভাবিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিশেষ করে পটাশিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক। ভিটামিন সি রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়াতে ভূমিকা রাখে। আর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান শরীরের কোষকে ক্ষতির হাত থেকে সুরক্ষা দিতে সাহায্য করে।
পুষ্টিবিদদের মতে, লাউ ওজন নিয়ন্ত্রণে আগ্রহীদের জন্যও একটি ভালো খাবার। এতে চর্বির পরিমাণ খুবই কম। আবার খাদ্যআঁশ থাকায় দীর্ঘ সময় পেট ভরা অনুভূত হয়। ফলে অতিরিক্ত খাবার খাওয়ার প্রবণতা কমে। সুস্থ দেহ আল্লাহর বড় নেয়ামত। তাই স্বাস্থ্যকর খাবার বেছে নেওয়াও দায়িত্ব। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর খাদ্যাভ্যাসে আমরা সেই ভারসাম্যেরই প্রতিফলন দেখি। তিনি এমন খাবার গ্রহণ করতেন, যা সহজ, প্রাকৃতিক ও উপকারী।
