জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে ছাত্রশিবিরের গণজমায়েত

আপডেট : ০৫ আগস্ট ২০২৬, ০৩:৫৮ পিএম

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কলেজ, ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের হামলার প্রতিবাদে ‘ছাত্র গণজমায়েত’ কর্মসূচি পালন করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।

আজ বুধবার (৫ আগস্ট) সকাল ৯টায় রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে কর্মসূচি শুরু হয়। পরে রাজু ভাস্কর্যে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে কর্মসূচি শেষ হয়। এতে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মী ও শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। সমাবেশ থেকে জুলাই সনদের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন এবং ২০২৪ সালের গণহত্যার বিচার নিশ্চিতের দাবি জানানো হয়।

সমাবেশে ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি রফিকুল ইসলাম খান বলেন, শিবির কাউকে ভয় পায় না। সাম্প্রতিক হামলার ঘটনায় দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে সরকারকে এ ঘটনার দায় এড়ানো কঠিন হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

ডাকসুর সাবেক ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, ক্যাম্পাসে সন্ত্রাস, দখলদারত্ব কিংবা গণরুম-গেস্টরুমের রাজনীতি ফিরিয়ে আনার চেষ্টা হলে শিক্ষার্থীরা তা প্রতিহত করবে।

ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, জুলাই আন্দোলনের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক সুবিধাভোগী বিএনপি। কিন্তু ক্ষমতায় এসে তারা জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করেনি। তিনি অভিযোগ করেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলায় বহিরাগতরা অংশ নিয়েছে এবং তাদের স্থানীয় রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা ছিল।

সাদ্দাম আরও দাবি করেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প সেনাবাহিনীর মাধ্যমে বাস্তবায়নের দাবির জেরে এ হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আজাদ বলেন, ‘শিক্ষাখাতে বরাদ্দ বাড়ানোর পরও দেশের শিক্ষাঙ্গনে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত হয়নি। সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো দেখে মনে হচ্ছে শিক্ষাখাতে বাড়তি বরাদ্দের সুযোগে ছাত্রদল শিক্ষাঙ্গন দখল, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও লুটপাটের সুযোগ পাচ্ছে।’
 
তিনি আরও বলেন, ‘আদর্শের লড়াইয়ে মোকাবিলা করতে না পেরে ছাত্রদল সন্ত্রাসের পথ বেছে নিয়েছে।’
 
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উদ্দেশে হামিদুর রহমান আজাদ বলেন, ‘পুলিশ কোনো দলের লাঠিয়াল বাহিনী নয়-এমন বক্তব্যের সঙ্গে বাস্তবতার মিল নেই।’
 
তিনি অভিযোগ করেন, পুলিশের উপস্থিতিতে ছাত্রশিবিরের ওপর হামলা হয়েছে এবং হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করে শিক্ষাঙ্গনে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানান। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, বিএনপি শিক্ষাঙ্গন দখলের চেষ্টা করছে, কারণ জনগণ ও শিক্ষার্থীরা তাদের প্রত্যাখ্যান করেছে।
 
হামিদুর রহমান আজাদ বলেন, ‘ছাত্রশিবির, ১১ দল ও ছাত্র-জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে এসব কর্মকাণ্ড প্রতিরোধ করবে।’ প্রয়োজনে জুলাইয়ের চেতনা ধারণ করে আবারও রাজপথে আন্দোলনে নামার ঘোষণা দিয়ে তিনি শিক্ষাঙ্গনকে সন্ত্রাসমুক্ত রাখা এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য শান্তিপূর্ণ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।
×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত