পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য এডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস বলেছেন, জুলাইয়ের ৩৬ দিনের যে লড়াই সেই লড়াইয়ের পটভূমি তৈরি করেছিল গত ১৮টি বছর। ১০ হাজারের মানুষ এইখানে আত্মহুতি দিয়েছে।
তিনি বলেন, আমরা জুলাইতে ২ হাজারের আত্মত্যাগের শহীদের সংখ্যা জানি, ১৪শ খবরের কাগজ লিখেছে, ৮৪৪ জনের ময়নাতদন্তে নাম এসেছে। এই সংখ্যা হিসেবেও জুলাইয়ের এত বড় হত্যাকাণ্ড ইতিহাসে গণহত্যার পর্যায়েই আসে। এই এতো বড় ত্যাগ আমরা কখনোই বৃথা যেতে দিতে পারি না এবং বৃথা যাবেও না।
‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে পাবনা জেলা প্রশাসনের আয়োজনে বুধবার (৫ আগস্ট) দুপুরে পাবনা শিল্পকলা একাডেমী মিলনায়তনে আলোচনা সভা, জুলাই শহিদ পরিবার এবং জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা এবং পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানিয়ে শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস বলেন, অকারণে যে আমাদের মধ্যে অনৈক্য তৈরি না হয়। যখন আমাদের মধ্যে অনৈক্য আসবে তখন শত্রুপক্ষ সুযোগ খুঁজবে। আমাদের মধ্যে রাজনৈতিক অনৈক্য থাকবে কিন্তু তরুণরা রাজনৈতিক গণ্ডির মধ্যে থাকবে না। তারাই সঠিক পথ দেখাবে। কোনো রাজনৈতিক পক্ষে না থেকে জাতীয় স্বার্থের প্রতিনিধিত্ব করবে বিপ্লবীরা।
তিনি বলেন, আমরা যেন সমালোচনা করে নিজের ক্ষতি নিজেরা না নিয়ে আসি। পাবনায় যেই সংগ্রাম গড়ে উঠেছিল সেই সংগ্রামে সবাইকে যেন ঐক্যবদ্ধ রাখা যায়। আর অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা যেন নেওয়া হয় এবং যথা উপযুক্ত ন্যায় বিচার করা হয়। এজন্য বিচার বিভাগ, প্রশাসন বিভাগ, পুলিশ বিভাগ যার যার অবস্থান থেকে যথাযথ দায়িত্ব পালন করবে।
পাবনা জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে পাবনা-২ আসনের সংসদ সদস্য এডভোকেট একেএম সেলিম রেজা হাবিব, পাবনা পুলিশ সুপার আবু আশ্রাফ, জেলা পরিষদের প্রশাসক জহুরুল ইসলাম বিশু, পাবনা প্রেসক্লাবের সভাপতি আখতারুজ্জামান আখতার, জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির প্রিন্সিপাল ইকবাল হুসাইন, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক আবু ওবায়দা শেখ তুহিন এবং জুলাই শহিদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধারা বক্তব্য রাখেন।
