সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা মামলায় রাজনৈতিক সংগঠন নতুন ধারা বাংলাদেশ’র চেয়ারম্যান মোমিন মেহেদী ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান শান্তা ফারজানাসহ ছয়জনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। কারাগারে যাওয়া অপর আসামিরা হলেনÑ সংগঠনটির ভাইস চেয়ারম্যান নুরজাহান নীরা, যুগ্ম মহাসচিব মনিরুজ্জামান, সাংগঠনিক সম্পাদক আফতাব ম-ল ও হরী সরকার।
গতকাল বুধবার ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অভিযুক্তদের হাজির করে পুলিশ। এরপর মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীন তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। শাহবাগ থানার আদালতের সাধারণ নিবন্ধন শাখার কর্মকর্তা শাহ আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। খবর : বাসস।
মোমিন মেহেদী, শান্তা ফারজানাসহ ওই ছয়জনের বিরুদ্ধে গত মঙ্গলবার বাবুল সরদার নামে এক ব্যক্তি বাদী হয়ে শাহবাগ থানায় মামলা করেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ৫০ থেকে ৬০ জনকে আসামি করা হয়। আসামিদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনসহ দ-বিধি আইনের বিভিন্ন ধারার অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, আসামিরা আওয়ামী লীগের দোসর এবং বর্তমান সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্রকারী। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আসামিরা উসকানিমূলক স্লোগান ও মিছিল করে। এ সময় বাবুল সরকার এবং ‘রাষ্ট্র সংলাপ ফোরাম’র সদস্য সচিব আল নুর মোহাম্মদ আয়াসসহ জুলাই আন্দোলনের কয়েকজন এর প্রতিবাদ করলে আসামিরা দেশীয় অস্ত্র, লাঠি, এসএস পাইপ, চেয়ার ও হকিস্টিক নিয়ে হামলা চালায়। এতে আয়াসসহ কয়েকজন আহত হন।
এর আগে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ৩ ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর শাহবাগ থানা পুলিশ ‘নতুন ধারা বাংলাদেশ’র চেয়ারম্যান মোমিন মেহেদী ও সিনিয়ার ভাইস চেয়ারম্যান শান্তা ফারজানাসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করে।
গত মঙ্গলবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নতুন ধারা বাংলাদেশ ও রাষ্ট্র সংলাপ ফোরামের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় হাসপাতালের জরুরি বিভাগে দেড় ঘণ্টা চিকিৎসাসেবা বন্ধ থাকার পর ফের চালু হয়। পরে আবারও হামলায় চিকিৎসাসেবা বন্ধ হয়ে যায়। এর আগে মঙ্গলবার সন্ধার দিকে প্রেস ক্লাবের সামনে দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
