ইয়েমেনের সামরিক শিবিরে হুথিদের ভয়াবহ হামলা, নিহত ৪৫

আপডেট : ০৬ আগস্ট ২০২৬, ০৮:১২ পিএম

ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা দাবি করেছে, দেশটির সরকারি বাহিনীর সামরিক ঘাঁটিতে তাদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ৪৫ জন নিহত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) মারিব ও হাদরামাউত প্রদেশে পরিচালিত এ হামলাকে ২০২২ সালের পর ইয়েমেনে সবচেয়ে বড় সামরিক উত্তেজনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। সূত্র আল জাজিরা ও এপি নিউজ।   
 
হুথিদের দাবি, ইয়েমেনের জরুরি বাহিনীর (ইমার্জেন্সি ফোর্সেস) পরিচালিত সামরিক শিবিরগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে এটি দেশটির গৃহযুদ্ধের অন্যতম প্রাণঘাতী হামলা।

ইয়েমেনের সামরিক বাহিনী হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তবে তারা এটিকে হুথিদের বিরুদ্ধে নিজেদের সাম্প্রতিক অভিযানের পাল্টা প্রতিক্রিয়া হিসেবে উল্লেখ করেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইয়েমেনি কর্মকর্তারা জানান, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন মারিব ও হাদরামাউত প্রদেশের সামরিক ঘাঁটিগুলোতে এই হামলা চালানো হয়।

ইয়েমেনের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, হামলায় তাদের বেশ কয়েকজন সেনা নিহত ও আহত হয়েছেন। তবে তারা হতাহতের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা প্রকাশ করেনি।

অন্যদিকে হুথিরা তাৎক্ষণিকভাবে হামলার বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য না করলেও জানিয়েছে, খুব শিগগিরই একটি 'বড়' সামরিক অভিযানের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, ২০২২ সালের এপ্রিল মাসে কার্যকর হওয়া অনানুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতির পর এটিই সবচেয়ে বড় সামরিক উত্তেজনার ঘটনা। ওই যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহী এবং সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন জোটের মধ্যে বড় ধরনের সংঘর্ষ বন্ধ হয়েছিল। সৌদি নেতৃত্বাধীন ওই জোট আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেনি সরকারকে সমর্থন দিয়ে আসছে।

২০১৪ সালে হুথিরা রাজধানী সানা দখল করে নিলে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার সৌদি আরবে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়। এর পরের বছর, ২০১৫ সালে, সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন জোট সামরিক হস্তক্ষেপ শুরু করে সরকারকে পুনরায় ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে।

দীর্ঘ এক দশকের সংঘাতে ইয়েমেনের যুদ্ধ এখন কার্যত অচলাবস্থায় রয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই নির্ণায়ক বিজয় অর্জন করতে পারেনি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত