পাবজি খেলার বিরোধে আবির হত্যা; দুই শিশুর সর্বোচ্চ সাজা

একই সঙ্গে দেশে ফ্রি ফায়ার ও পাবজি গেমের অ্যাপস অপসারণে বিটিআরসিকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

আপডেট : ০৬ আগস্ট ২০২৬, ০৭:৪০ পিএম

পাবজী বা ফ্রি ফায়ার গেম খেলাকে কেন্দ্র করে মেহেরপুরের আলোচিত শিশু আবির হত্যা মামলায় দুই শিশু বন্ধু আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করে মুজাহিদকে ১০ বছর এবং হামিমকে ৭ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি তাদের ১৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। এই অর্থ আদায় করে ভুক্তভোগী পরিবারের হাতে তুলে দিতে মেহেরপুর জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। 

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বিকেলে মেহেরপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আলী মাসুদ শেখ এই রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় দুই আসামি, বাদী ও উভয় পক্ষের পরিবারের সদস্যরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। 

একইসাথে আদালত অপরাধ সংঘটনের কেন্দ্রবিন্দু বিবেচনায় দেশে নিষিদ্ধ ফ্রি ফায়ার ও পাবজি গেমের সব ধরনের অ্যাপস মোবাইল থেকে দ্রুত অপসারণের জন্য বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)-কে নির্দেশ দিয়েছেন। 

মামলার বিবরণে জানা গেছে, ২০২১ সালের ২৬ জুন মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার মিনাপাড়া গ্রামের পঞ্চম শ্রেণির মেধাবী ছাত্র আবির তার পাবজি গেমের পাসওয়ার্ড দিতে না চাইলে তারই দুই বন্ধু তাকে একটি কক্ষে আটকিয়ে নির্যাতন শেষে  শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করে। পরে মৃত্যু নিশ্চিত করতে অপরাধীরা তাদের প্যান্টের বেল্ট খুলে আবিরের গলায় ফাঁস লাগায়।

মৃত্যু নিশ্চিতের পর মরদেহ পাশের পাটক্ষেতের মধ্যে নিয়ে গিয়ে নিহতের হাতপা পাটের আঁশ দিয়ে বেঁধে মরদেহ গুম করে। এরপর নিহতের মোবাইল থেকে মালয়েশিয়া প্রবাসী আবিরের পিতাকে ইমোতে ফোন দিয়ে হিন্দি ভাষায় আবিরের মুক্তিপণ বাবদ ১ লক্ষ টাকা চাঁদা চাওয়া হয়।

বিষয়টি ৯৯৯-এ জানানো হলে পুলিশ অভিযান চালিয়ে দুই আসামিকে আটক করে। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পাশের মানিকদিয়া গ্রামের একটি পাটক্ষেত থেকে আবিরের হাত-পা বাঁধা মরদেহ উদ্ধার করা হয়। আসামিরা ম্যাজিস্ট্রেের কাছে ১৬৪ ধারার জবানবন্দীতে হত্যার কথা স্বীকার করে। 

এ ঘটনায় আবিরের মা রোজিনা খাতুন গাংনী থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় ১১ জন সাক্ষীর জবানবন্দি জেরা গ্রহণ শেষে আদালত ৩০২ এবং ৩৮৫ ধারার অপরাধ প্রমানিত হওয়ায় এই সাজা রায় দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জানান, অপরাধীরা শিশু হওয়ায় শিশু আইনে এটাই সর্বোচ্চ সাজা। অন্যদিকে একমাত্র সন্তান হারানো শিশু আবিরের মা এই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

রায় শুনে আদালতে উপস্থিত মামলার বাদী শিশু আবিরের মা রোজিনা খাতুন অশ্রুসিক্ত অবস্থায় বলেন, একমাত্র সন্তান ছিল আবির। পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত সব পরীক্ষায় স্কুলের ফাস্টবয় ছিল। বাবা প্রবাসী। এই ঘটনায় তিনি শুধু আদরের একমাত্র সন্তানকেই হারাননি, সংসারও হারিয়েছেন। কারণ সন্তানকে রক্ষা না করতে পারার কারণে ঘটনার পরপর তাকে স্বামী পরিত্যক্ত হতে হয়। আজ ৫ বছর এই দিনটির অপেক্ষায় ছিলেন। আদালতের রায়ে কিছুটা তার কষ্ট লাঘব হয়েছে বলে জানান তিনি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত