সিলেটে ৪ বছরের শিশু ফাহিমা আক্তারকে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যা মামলার প্রধান আসামি জাকির হোসেনকে মৃতুদণ্ড প্রদান করেছেন আদালত।
একই সঙ্গে তাকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া এই মামলার অপর দুই আসামি জাকিরের ভাই জয়নাল আহমদ ও আবুল কালামকে খালাস প্রদান করা হয়েছে।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জাকির সিলেট সদর উপজেলার পশ্চিমপাড়া রায়ের চক এলাকার মৃত তোতা মিয়ার ছেলে। গতকাল বৃহস্পতিবার সিলেটের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আবু উবায়দা এই রায় প্রদান করেন। ফাহিমা ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যার ঘটনার মাত্র তিন মাসের মাথায় এই রায় প্রদান করা হলো।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বদরুর রহমান রায়ের তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই রায় ঘোষণা করেছেন আদালত। এতে আইন ও বিচার বিভাগের প্রতি মানুষের আস্থা বাড়বে।
এদিকে মামলার দুই আসামি খালাস পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ফাহিমার পরিবার। ফাহিমার বাবা রাইসুল হক বলেন, লাশ গুমের সঙ্গে জড়িতরা খালাস পেয়েছে। তাদেরও শাস্তির আওতায় আনতে হবে এবং মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত জাকিরের ফাঁসি দ্রুত কার্যকর করতে হবে।
মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণ থেকে জানা যায়, গত ৬ মে সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নের সোনাতলা গ্রামের জাকির হোসেন শিশু ফাহিমাকে কৌশলে নিজ ঘরে আটকে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। এসময় ফাহিমা অজ্ঞান হয়ে পড়লে জাকির তাকে গলা টিপে হত্যা করে এবং লাশ গুম করতে দুইদিন নিজ ঘরে একটি সুটকেসে লুকিয়ে রাখে। পরবর্তীতে বাদাঘাট এলাকার একটি ডোবায় লাশ ফেলে দেওয়া হয়।
এরপর ৮ মে ফাহিমার লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ব্যাপারে হত্যা মামলা দায়ের করলে পুলিশ জাকিরকে গ্রেপ্তার করে। পরে জাকির আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। ঘটনার এক মাসের মাথায় পুলিশ জাকির ও তার দুই ভাইকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশীট দাখিল করে। গত ১ জুলাই মামলার বিচার কাজ শুরু হয় এবং সাক্ষ্যপ্রমাণ শেষে বৃহস্পতিবার আদালত রায় ঘোষণা করেন।
মোটরে বিদ্যুৎ সংযোগ দিতে গিয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থীর মৃত্যু