বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে ও দুর্গত এলাকা পরিদর্শনে আগামী ৯ আগস্ট (রবিবার) চট্টগ্রামের বাঁশখালী সফরে আসছেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তার আগমনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় প্রশাসন ও দলের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে বাঁশখালীর বাহারছড়া সমুদ্রসৈকত এলাকায় তৈরি করা হয়েছে হেলিপ্যাড। সমাবেশের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে বিশাল মঞ্চ। প্রিয় নেতাকে কাছে পাওয়ার অপেক্ষায় উন্মুখ এ উপকূলীয় জনপদের মানুষ।
স্থানীয়দের প্রধান প্রধান দাবির মধ্যে রয়েছে সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য টেকসই পুনর্বাসন ব্যবস্থা গ্রহণ, উপকূলীয় এলাকায় দীর্ঘমেয়াদি স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ এবং উপকূলজুড়ে ‘মেরিন ড্রাইভ’ সড়ক বাস্তবায়ন। এ ছাড়া বাঁশখালীর প্রধান সড়ককে দ্রুত চার লেনে উন্নীত করা এবং এলাকার অপার সম্ভাবনাময় সমুদ্রসৈকতকে পূর্ণাঙ্গ পর্যটন অঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলার জোর দাবি উঠেছে। পাশাপাশি, বাঁশখালীবাসীর জন্য শতভাগ নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সুবিধা নিশ্চিতকরণ এবং শংখনদীর তৈলারদ্বীপ সেতু টোলমুক্ত করার দাবিও এখন এলাকার সর্বস্তরের মানুষের মুখে মুখে।
দলীয় সূত্র জানায়, আয়োজন সফল করতে দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এই জনসভা বাঁশখালীর সার্বিক উন্নয়ন ও রাজনীতিতে একটি নতুন দিকনির্দেশনা দেবে বলে মনে করছেন স্থানীয় নেতারা।
বাঁশখালী পৌরসভার সাবেক মেয়র কামরুল ইসলাম হোছাইনী বলেন, প্রধামন্ত্রীর বাঁশখালী সফরকে ঘিরে সব প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও বাহারছড়ার সাবেক চেয়ারম্যান লোকমান আহমদ বলেন, এলাকার স্বার্থে যৌক্তিক দাবিগুলো পেশ করা হবে। আশা রাখি, প্রধানমন্ত্রী দাবিগুলো পূরণে অঙ্গীকার করবেন।
চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা বলেন, তারেক রহমানের বাঁশখালীতে আগমনকে ঘিরে দলীয়ভাবে নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অবহেলিত বাঁশখালীর উন্নয়নে সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য টেকসই পুনর্বাসন ব্যবস্থা গ্রহণ, উপকূলীয় এলাকায় দীর্ঘমেয়াদি স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ এবং উপকূলজুড়ে ‘মেরিন ড্রাইভ’ সড়ক বাস্তবায়ন, বাঁশখালীর প্রধান সড়ককে দ্রুত চার লেনে উন্নীত করা এবং অপার সম্ভাবনাময় সমুদ্রসৈকতকে পূর্ণাঙ্গ পর্যটন অঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলার দাবি রাখা হবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এ সফরকে ঘিরে বিএনপির স্থানীয় নেতৃবৃন্দের পাশাপাশি সাধারণ জনগণের মনেও প্রত্যাশা জেগে উঠেছে। সমাবেশ থেকে এই অঞ্চলের অবকাঠামোগত ও সামাজিক উন্নয়নের জন্য সুনির্দিষ্ট ঘোষণার আশা করছেন সর্বস্তরের জনগণ।
