কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের শিক্ষার্থী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলার আসামি সেনাবাহিনীর সাবেক ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমানকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিত করেছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। একই সঙ্গে তাকে আদেশের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অধস্তন আদালতে আত্মসমর্পণ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আত্মসমর্পণ না করলে তাকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিয়েছে চেম্বার আদালত। হাফিজকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিনের আদেশ স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের ওপর গতকাল বৃহস্পতিবার শুনানি নিয়ে এ আদেশ দেন চেম্বার আদালতের বিচারপতি মো. রেজাউল হক। গত ২ আগস্ট হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ হাফিজকে জামিন দেয়। এরপর ৪ আগস্ট তিনি কুমিল্লা কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে বেরিয়ে যান। এর ধারাবাহিকতায় তার জামিন চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে যায়।
অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘চেম্বার আদালতের বিশেষ অনুমতি নিয়ে আসামির জামিন স্থগিত চেয়ে আবেদনটি করেছিলাম। সন্ধ্যা ছয়টার দিকে শুনানি শেষে আদালত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আসামিকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছে। যদি আত্মসমর্পণ না করেন তাহলে তাকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিয়েছে চেম্বার আদালত।’
চলতি বছরের ২২ এপ্রিল রাতে ঢাকার কেরানীগঞ্জের বাসা থেকে হাফিজকে গ্রেপ্তার করে মামলার তদন্তকারী সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। হাফিজ ছিলেন এ মামলায় গ্রেপ্তার একমাত্র আসামি। আরও দুই আসামি হলেন, সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট জাহিদুজ্জামান ও সৈনিক শাহিনুল আলম।
২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরে একটি বাসায় টিউশনি করতে গিয়ে বাসায় ফেরেননি তনু। পরে সেনানিবাসের পাওয়ার হাউসের অদূরে একটি ঝোপের মধ্যে তার লাশ পাওয়া যায়। পরদিন তনুর বাবা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের অফিস সহায়ক (এখন অবসরে) ইয়ার হোসেন কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন। কুমিল্লা পুলিশ, জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) দীর্ঘ সময় মামলার তদন্ত করেও কোনো রহস্য বের করতে পারেনি। ২০২০ সালের অক্টোবর তনু হত্যা মামলার নথি পিবিআইয়ের ঢাকা সদর দপ্তরে হস্তান্তর করে সিআইডি। প্রায় চার বছর মামলাটি তদন্ত করে পিবিআই। সর্বশেষ ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে ষষ্ঠ তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে মামলাটির দায়িত্ব পান পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলাম। গত ৬ এপ্রিল তিনি কুমিল্লার আদালতে সাবেক তিন সেনা সদস্যের ডিএনএ প্রোফাইল তৈরির আবেদন করেন। পাশাপাশি তনু হত্যা মামলার প্রধান সন্দেহভাজন জাহিদুজ্জামান ও শাহিনুল আলমের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলে রেড নোটিস জারির নির্দেশ দেয় অধস্তন আদালত। গত ১৭ জুলাই কুমিল্লার আদালতে আরও দুজনের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের আবেদন করা হলে আদালত তা মঞ্জুর করে এবং ডিএনএ প্রোফাইল প্রস্তুতের পাশাপাশি তনুর পোশাক থেকে পাওয়া ডিএনএ নমুনার সঙ্গে তুলনামূলক পরীক্ষার নির্দেশ দেয়।
