কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের মকিমপুর স্টেশন। সেখান থেকে গ্রামের পাকা রাস্তা ধরে পশ্চিম দিকে সামান্য এগোলেই বুক জুড়িয়ে দেবে এক বিশাল জলরাশি। নাম তার ‘ডালপা বিল’। প্রায় ১০০০ একর জুড়ে বিস্তৃত এই বিলের বুক চিরে চলে গেছে আঁকাবাঁকা সরু পথ। এই পথে হাঁটলে দুপাশের রুপালি ঢেউ এসে আলতো করে ছুঁয়ে যায় পথিকের পা। বিশাল আয়তনের এই বিলটি হাওরের চেয়ে কোনো অংশে কম নয়। বিশেষ করে আষাঢ়, শ্রাবণ আর ভাদ্র এই তিন মাস বিলটি পানিতে কানায় কানায় পূর্ণ থাকে। জল আর সবুজে গড়া এই বিল যেন আঁকা এক জীবন্ত ছবি। দুরন্ত বাতাসে বিলের তীরে আছড়ে পড়ে একের পর এক ঢেউ। শান্ত জলে ভেসে বেড়ায় সাদা মেঘ আর পাখিদের ডানার প্রতিচ্ছবি। সন্ধ্যার মায়াবী আলো যখন বিলের জলে মিশে একাকার হয়ে যায়, তখন চারপাশ রূপ নেয় এক স্বর্গীয় দৃশ্যে।
বিলের সিংহভাগ মুরাদনগর উপজেলার বাঙ্গরা বাজার থানাধীন আন্দিকোট ইউনিয়নে। মুরাদনগরের মানুষ বিলটিকে ডালপা বিল নামে চেনে। আর বাকি অংশটা ব্রাহ্মণপাড়ার মুকিমপুরে। ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার মানুষজন মকিমপুর বিল হিসেবে চেনে।
ছুটির দিন বিকেলে ঘুরতে গিয়ে দেখা যায়, কুমিল্লার বিভিন্ন উপজেলা ছাড়াও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা ও নবীনগর উপজেলা থেকে শত শত দর্শনার্থী পরিবার-পরিজন, বন্ধু-বান্ধব ও শিক্ষার্থীদের নিয়ে বিলের সৌন্দর্য উপভোগ করতে এসেছেন। কেউ নৌকায় ঘুরছেন, কেউ শাপলা-শালুক তুলছেন, আবার কেউ প্রকৃতির অপরূপ দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি করতে ব্যস্ত। কলেজ ও স্কুলপড়–য়া শিক্ষার্থী, তরুণ-তরুণীসহ সব বয়সি মানুষের পদচারণায় মুখর পুরো এলাকা।
মুরাদনগর উপজেলা সদর থেকে পরিবার নিয়ে আসা আল আমিন নামের একজন ব্যবসায়ী বলেন, ব্যবসার কাজ নিয়ে সারাক্ষণ ব্যস্ত থাকতে হয়। তবে সময় পেলে স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে যাওয়া হয়। ফেসবুকে ডালপা বিলের সৌন্দর্য দেখে ঘুরতে এসেছি। বিলের সৌন্দর্য তাকে মুগ্ধ করেছে। তবে মহিলাদের জন্য ভালো ওয়াশরুমের ব্যবস্থা করার জন্য তিনি কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। স্থানীয়রা জানান, রাস্তাটি সরু হওয়ায় যান ও লোকজনের চলাচলের সমস্যা হচ্ছে। তাছাড়া এখানে বিদ্যুতের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় ভালো কোনো খাবারের দোকানের ব্যবস্থা হচ্ছে না। বিদ্যুৎ না থাকায় স্থানটিতে দ্রুত অন্ধকার নেমে আসে তাই দর্শনার্থীরা নিরাপত্তাজনিত কারণে সন্ধ্যার আগেই স্থান ত্যাগ করে চলে যান। ডালপা বিল প্রজেক্টের সেক্রেটারি স্বপন সরদার জানান, বছরের এই সময়ে প্রতিদিন শত শত মানুষ এই বিলের সৌন্দর্য উপভোগ করতে আসেন।
