মরক্কো থেকে স্পেনের ছিটমহল সেউতায় অনুপ্রবেশের চেষ্টার ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৪ জনে দাঁড়িয়েছে। মরক্কোর জাতীয় মানবাধিকার পরিষদ (সিএনডিএইচ) এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
গত ২৯ থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত চলা এই ঘটনাটিকে সেউতায় প্রবেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় অনিয়মিত অভিবাসন প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
অনুপ্রবেশের চেষ্টা চালানো অনিয়মিত অভিবাসীদের প্রতি সেউতার কর্তৃপক্ষের আচরণের তীব্র সমালোচনা করেছে সিএনডিএইচ। সংস্থাটির অভিযোগ, অভিবাসীদের প্রয়োজনীয় মানবিক সহায়তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। এমনকি সেউতার কর্তৃপক্ষ রেস্তোরাঁ, ক্যাফে ও বড় বড় দোকানপাট বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়ায় অভিবাসীরা খাদ্য ও পানীয়ের চরম সংকটে পড়েন। এছাড়া ছিটমহলটির ভেতরে অভিবাসীদের ওপর বর্ণবাদী আচরণের ঘটনাও নথিবদ্ধ করেছে মানবাধিকার পরিষদ। তাদের দাবি, অভিবাসীদের দেওয়া সুরক্ষা ও মানবিক সহায়তা ছিল অত্যন্ত অপর্যাপ্ত।
সিএনডিএইচ-এর তথ্য অনুযায়ী, এই সংঘর্ষ ও বিশৃঙ্খলার ঘটনায় ১৩৬ জন বেসামরিক ব্যক্তি সামান্য আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ১৩ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে। আহতদের বেশিরভাগেরই হাড় ভেঙে গেছে অথবা সিটি স্ক্যানের প্রয়োজন হয়েছে। অন্যদিকে, মরক্কোর নিরাপত্তা বাহিনীর ৮৭ জন সদস্যকে চিকিৎসা দেওয়া হলেও স্পেনের আহত নিরাপত্তা বাহিনীর সংখ্যা প্রকাশ করেনি দেশটির কর্তৃপক্ষ। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে প্রায় ১০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যাদের মধ্যে ১১ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক।
এদিকে স্পেনের অপর ছিটমহল মেলিলার নিকটবর্তী উত্তরাঞ্চলীয় শহর বেনি আনসারে একটি পৃথক ঘটনায় ২৩ জনকে নাদোর আদালতে পাঠানো হয়েছে, যাদের মধ্যে দুজন বিদেশি নাগরিক রয়েছেন। একই ঘটনায় আরও ১১ জন অপ্রাপ্তবয়স্ককে বিচারিক তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে। এছাড়া সীমান্ত এলাকা ফনিদেক ও বেনি আনসারে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। সেখানে ৬১টি ব্যক্তিগত গাড়ি, ১৫টি মোটরসাইকেল এবং মরক্কোর নিরাপত্তা বাহিনীর ১৮টি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সেউতা কর্তৃপক্ষ জানায়, গণঅনুপ্রবেশের ঘটনার পর ৬৯ হাজারেরও বেশি মানুষ মরক্কোতে ফেরত গেলেও এখনো ৩ থেকে ৫ হাজার অভিবাসী ছিটমহলটির ভেতরে অবস্থান করছেন। সীমান্তে জড়ো হওয়া কয়েক হাজার মরক্কোর নাগরিকের বেশিরভাগই অবশ্য পরবর্তীতে মরক্কোর ফনিদেক শহরে ফিরে গেছেন।
