তিন বিতর্কিত আইনে সংকুচিত মানবাধিকার: এইচআরডব্লিউ

আপডেট : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৩৮ পিএম

বাংলাদেশের নতুন সরকার সম্প্রতি সংসদে তিনটি বিতর্কিত আইন পাস করে মানবাধিকার সুরক্ষা সংকুচিত করেছে এবং তাদের আগের সংস্কার প্রতিশ্রুতি থেকে সরে এসেছে বলে অভিযোগ করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য প্রকাশ করে সংস্থাটি। তাদের মতে, এই পদক্ষেপগুলো বিগত সরকারগুলোর মতো গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের মতো মারাত্মক মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঝুঁকি আবার বাড়িয়ে দিচ্ছে।

এইচআরডব্লিউ জানায়, অন্তর্বর্তী সরকার জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে (এনএইচআরসি) স্বাধীনভাবে গুমসহ বিভিন্ন অপরাধের তদন্ত ও জবাবদিহির ক্ষমতা দিয়ে যে অধ্যাদেশগুলো জারি করেছিল, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন বিএনপি সরকার আইন পাসের মাধ্যমে তা বাতিল ও দুর্বল করেছে।

একই সাথে, ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায়ে অভিযুক্ত র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নকে (র‍্যাব) বিলুপ্ত করার যে প্রতিশ্রুতি দলটির ছিল, তা বাস্তবায়নের বদলে 'বিশেষ রেসপন্স ব্যাটালিয়ন' (এসআরবি) নামে নতুন রূপ দেওয়া হয়েছে। লোগো ছাড়া বাহিনীর কাঠামো, সদস্য ও মূল কাজ আগের মতোই রাখা হয়েছে, যা সংস্কারের পরিবর্তে কেবল নাম পরিবর্তনের নামান্তর।

এইচআরডাব্লিউ-এর এশিয়া বিষয়ক পরিচালক ইলেইন পিয়ারসন বলেন, 'অতীতের নির্মম নিপীড়নের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে বাংলাদেশে সত্যিকার নিরাপত্তা খাত সংস্কার ও একটি স্বাধীন মানবাধিকার সংস্থা প্রয়োজন। কিন্তু নতুন সরকার যেভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জবাবদিহি থেকে সুরক্ষার চেষ্টা করছে, তাতে হত্যা ও গুম স্থায়ীভাবে বন্ধ হবে—এমন বিশ্বাস রাখা কঠিন।' 

সংস্থাটি জানায়, নতুন পাস হওয়া 'জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন'-এ বাহিনীর বিরুদ্ধে সরাসরি স্বাধীন তদন্তের ক্ষমতা কমিশনকে দেওয়া হয়নি এবং কমিশনের স্বাধীনতা অনেকাংশে খর্ব করা হয়েছে। পাশাপাশি 'গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন'-এ কমান্ড রেসপন্সিবিলিটির আন্তর্জাতিক মানদণ্ড শিথিল করে কমান্ডারদের জবাবদিহি থেকে রেহাই পাওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।

এছাড়াও সংস্থাটি জানায়, জরুরি ভিত্তিতে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অংশীদারদের বর্তমান সরকারের ওপর চাপ দেওয়া উচিত। তারা যেন নিশ্চিত করে, নতুন আইনের আওতায় এসআরবির কার্যক্রম পরিচালনার জন্য যে বিধিমালা এখনো তৈরি হয়নি, তাতে কঠোর মানবাধিকার যাচাইয়ের ব্যবস্থা থাকে। মানবাধিকার রক্ষা এবং অতীতের মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য জবাবদিহি নিশ্চিত করার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখা উচিত বলে মনে করে এইচআরডব্লিউ।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্যসহ বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অংশীদারদেরও দেশটির নতুন সরকারের মানবাধিকার পরিস্থিতি ও নীতিমালা নিয়ে জোরালো উদ্বেগ প্রকাশ করা উচিত বলে জানিয়েছে এইচআরডব্লিউ।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত