বন্ধুরা আমার স্বস্তির ঠিকানা

আপডেট : ১০ আগস্ট ২০২৬, ১২:২৭ এএম

বন্ধু মানে জমে থাকা হাজারো স্মৃতি, দুষ্টামি, হাসি, কান্না, আড্ডা। মন খারাপে পাশে থাকা এক নিঃসংকোচ আস্থা। জীবন চলার পথে কত মানুষ আসে, আবার সময়ের স্রোতে হারিয়েও যায়। কিন্তু হাতে গোনা কয়েকজন থেকে যায় আত্মার অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে, বন্ধু নামের শেকলে আবদ্ধ হয়ে। ইসরাত সুলতানা আঁখি এবং মাহাফুজা আক্তার ইমা আমার বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের সবচেয়ে সুন্দর পাওয়া। বিশ্ববিদ্যালয়ে আসার প্রথম দিন থেকেই আমাদের পরিচয়। আমরা শুধু একই অনুষদে পড়ি না, একই হলে এবং একই রুমেও থাকি। তাই ফ্যাকাল্টি করিডর থেকে শুরু করে হলের বারান্দা প্রায় সবসময়ই আমরা একসঙ্গে থাকি। এভাবেই ধীরে ধীরে আমাদের বন্ধুত্ব আরও গভীর ও সুন্দর হয়ে উঠেছে। ওরা আমার খুব কাছের, কারণ ওদের সঙ্গে আমি খুব সহজেই নিজের মতো করে থাকতে পারি। সুখ-দুঃখ সবকিছুই শেয়ার করতে পারি আর আমাদের বোঝাপড়াটাও খুব ভালো। আমার মন খারাপ থাকলেও কিছু না বলতেই ওরা বুঝে যায়। আমার ভালো-মন্দ সবকিছুই ওরা খুব সহজেই অনুভব করতে পারে। আমি অসুস্থ হলে ওরা যেভাবে যত্ন নেয়, তাতে কখনো মা-বাবার অনুপস্থিতিটা অনুভব করতে দেয় না। তাই ওদের সঙ্গে আমার বন্ধুত্বটা সবার থেকে একটু আলাদা। ক্যাম্পাস জীবনের নিত্যদিনের ক্লাস, প্র্যাকটিক্যাল, ল্যাব, রিপোর্ট, কুইজ, অ্যাসাইনমেন্ট, প্রেজেন্টেশন সব মিলিয়ে এই ক্লান্ত জীবনে ওরা আমার স্বস্তির ঠিকানা। এই দেড় বছরে আমাদের জমেছে অজস্র স্মৃতি। একসঙ্গে হাসি-ঠাট্টা করা, মাঝ রাতে চা নিয়ে ছাদে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আড্ডা দেওয়া, রাত জেগে তারাভরা আকাশ দেখা, নিজেদের দুঃখ-হতাশা ভাগাভাগি করে নেওয়া, দোলনায় দোল খাওয়া, পরীক্ষার আগে রিকশায় ঘুরে বেড়ানো আরও কত কী! আমার সব পাগলামির সঙ্গী তারাই।

লেখক : শিক্ষার্থী, ভেটেরিনারি অনুষদ (দ্বিতীয় বর্ষ), বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত