১৯৪৫ সালের ৬ আগস্ট হিরোশিমায় এবং ৯ আগস্ট নাগাসাকিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফেলা পারমাণবিক বোমার ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞের স্মরণে যথাক্রমে হিরোশিমা ও নাগাসাকি দিবস পালিত হয়। মানব ইতিহাসের এই বিয়োগান্তক ঘটনা থেকে যুদ্ধবিরোধী চেতনা ও পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত বিশ্বের বার্তা ছড়িয়ে দিতেই এ দিবস দুটি পালিত হয়।
হিরোশিমা দিবস (৬ আগস্ট) : ১৯৪৫ সালের ৬ আগস্ট সকালে জাপানের হিরোশিমা শহরে ফেলা হয় ‘লিটল বয়’ নামের পারমাণবিক বোমা। মুহূর্তের মধ্যে শহরটির দুই-তৃতীয়াংশ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় এবং লাখের বেশি মানুষ প্রাণ হারান। পারমাণবিক অস্ত্রের ধ্বংসলীলা স্মরণ করে বিশ্বজুড়ে ৬ আগস্ট শোক ও শান্তির বার্তা নিয়ে হিরোশিমা দিবস পালিত হয়।
নাগাসাকি দিবস (৯ আগস্ট) : হিরোশিমায় হামলার মাত্র তিন দিন পর, ১৯৪৫ সালের ৯ আগস্ট নাগাসাকিতে ফেলা হয় দ্বিতীয় পারমাণবিক বোমা ‘ফ্যাট ম্যান’। এই হামলায় তাৎক্ষণিক ও পরবর্তী তেজস্ক্রিয়তার প্রভাবে প্রায় ৭৪ হাজার বা তার বেশি মানুষ মারা যান। যুদ্ধ ও পারমাণবিক বিপদের বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরি করতে প্রতি বছর ৯ আগস্ট নাগাসাকি দিবস পালন করা হয়।
হিরোশিমা ও নাগাসাকি দিবস জাতিসংঘ (টঘ) কর্র্তৃক ঘোষিত বা আনুষ্ঠানিকভাবে তালিকাভুক্ত না হলেও পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ ও বিশ্ব শান্তির প্রতীক হিসেবে সারা বিশ্বের শান্তিকামী মানুষ এটি পালন করে। তবে জাতিসংঘও পারমাণবিক অস্ত্রের ভয়াবহতা স্মরণ করতে প্রতি বছর ২৬ সেপ্টেম্বর ‘আন্তর্জাতিক পারমাণবিক অস্ত্র সম্পূর্ণ নির্মূল দিবস’ এবং ২৯ আগস্ট ‘আন্তর্জাতিক পারমাণবিক পরীক্ষা বিরোধী দিবস’ পালন করে।
