ইনকিলাব কালচারাল সেন্টারে একদিন

আপডেট : ১০ আগস্ট ২০২৬, ১২:২৭ এএম

বাইরে মুষলধারে বৃষ্টি, কাঁদাযুক্ত রাস্তা, জ্যামের শহর ঢাকা। বড় বোন একটি জরুরি কাজে হঠাৎই ঢাকায় এসেছেন। তিনি আবদার করে বসলেন, শহীদ শরীফ ওসমান হাদির হাতে গড়া ইনকিলাব কালচারাল সেন্টার দেখতে যাবেন, নিয়ে যেতেই হবে।

দিনটি ছিল সোমবার, ২০ জুলাই; বাইরে রিমঝিম বৃষ্টি, দিনের আলো শেষে সন্ধ্যার আঁধার নেমে এসেছে। বড় বোনের কথা, আবার কবে ঢাকায় আসি বা না আসি, এখনই সেখানে গিয়ে ঘুরে আসি, আবার আগামীকালই তো চলে যাব গ্রামের বাড়িতে।

আমিও তাকে নিয়ে বের হলাম, গন্তব্য ইনকিলাব কালচারাল সেন্টার। যাওয়ার আগে ইনকিলাব কালচারাল সেন্টারের সদ্য দায়িত্বপ্রাপ্ত ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. খালেদ সাইফুল্লাহকে বিষয়টি বললাম। তিনিও আন্তরিকতার সঙ্গে যেতে আমন্ত্রণ জানালেন, বাইরে বৃষ্টি হওয়ায় তিনিও সেখানে সেদিন যেতে চাননি। আমরা যাব, তাই তিনিও সেন্টারে গেলেন। উল্লেখ্য, সেদিন অবশ্য খালেদ সাইফুল্লাহর সঙ্গে দেখা হয়নি। আমাদের যেতে দেরি হওয়ায়, তার জরুরি কাজ পড়ায় সেখান থেকে বের হয়ে যান।

যা-ই হোক, দেরিতে হলেও বৃষ্টির মধ্যেই অবশেষে আমরা বাংলামোটরে গিয়ে পৌঁছলাম। তবে সেন্টারটা খুঁজে পাচ্ছিলাম না, রিকশাওয়ালারাও চিনছিলেন না। এ তো মহা ঝামেলায় পড়লাম, একে তো সময়টা সন্ধ্যা রাত, তার ওপর হচ্ছে বৃষ্টি, ঘুটঘুটে অন্ধকারে গন্তব্য হারা পথিকের ন্যায় আমরা। তবুও কি এত কাছে গিয়ে হাল ছেড়ে দেওয়া যায়, শুনতে শুনতে এক অপরিচিত ব্যক্তি, পথটা দেখিয়ে দিলেন, একদম নিকটেই ছিলাম। চোখে পড়ল বিল্ডিংয়ের তৃতীয়তলা ঝোলানো লাল বর্ণের একটি সাইনবোর্ড, যার মাঝখানে সাদা রঙে লেখা ‘ইনকিলাব কালচারাল সেন্টার’। অবশেষে স্বস্তির শ^াস ফেললাম।

কিন্তু সমস্যাটা বাঁধলো অন্য জায়গায়। সেন্টার বিল্ডিংয়ে থাকা দায়িত্বরত নিরাপত্তা প্রহরী জানালেন, সেন্টার তো বন্ধ! চোখ তো কপালে, এত কষ্ট করে, সন্ধ্যা রাতে, বৃষ্টিতে ভিজে এসে এ কি শুনছি? আবার ফোন করলাম খালেদ সাহেবকে, তিনি বললেন, আজ তো বন্ধ না, আপনারা উপরে যান। তার কথামতো আমরা উপরে যাওয়ার উদ্দেশ্যে লিফটের সামনে যেতে দেখা হলো ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবেরসহ তার পুরো টিমের একাংশ বাইরে থেকে আসছেন। আমাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা আদান-প্রদানের মধ্য দিয়ে সঙ্গে করেই নিয়ে এলেন উপরে।

ভেতরে প্রবেশ করলাম, ঘুরে ঘুরে সেন্টারের বিভিন্ন অংশ দেখলাম। উপর-নিচে তাকে তাকে সাজানো বইগুলো বড় বোন নেড়ে-চেড়ে দেখছিলেন এবং শহীদ শরীফ ওসমান হাদি ভাইয়ের লেখা প্রথম ও শেষ বই ‘লাভায় লালশাক পুবের আকাশ’ বইটি কিনলেন।

সবশেষে আব্দুল্লাহ আল জাবের তার ব্যস্ততার মধ্যেও আমাদের সেন্টার ঘুরিয়ে দেখালেন, এমন মুহূর্তে বড় বোনের চোখ পড়ল শহীদ ওসমান হাদির নির্বাচনী পোস্টার লাগানো একটি বিলবোর্ডের দিকে। জাবের সাহেব বললেন, এটি শহীদ হাদি ভাইয়ের নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যবহার করা হতো। কথাটি শুনে বোনেরও কণ্ঠস্বর ভারী হয়ে এলো।

 জাবের সাহেবের আন্তরিকতার সঙ্গে সেন্টারের সক্রিয়তা ও কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা করেন এবং ঘুরিয়ে দেখান সেন্টারের হওয়া সফল কার্যক্রম, ভবিষ্যতে এর প্রভাব ও কার্যকারিতা নিয়েও কথা বলেন। এরপর আমাদের সঙ্গে তার স্মৃতিস্বরূপ ছবি ফ্রেমবন্দি করা হয়।

পরিশেষে বড় বোনের ছোট ছেলে আছে শুনে, লেখক সাদ বিন ইলিয়াসের লেখা ‘ছোটদের ওসমান হাদি’ বইসহ শহীদ হাদি ভাইয়ের মুখাচ্চারিত কিছু বাণীতে ডিজাইনকৃত গিফট কার্ড উপহার দেন এবং অমায়িকতা সঙ্গে জাবের আমাদের থেকে বিদায় নেন, আমরাও সেখানে কাটানো কিছু সুন্দর মুহূর্ত স্মৃতিপটে রেখে সফরটির ইতি টানি।

লেখক : শিক্ষার্থী, ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত