টাকার অভাবে চিকিৎসা সংকটে আগুনে পোড়া কিশোরী ইভা 

আপডেট : ১০ আগস্ট ২০২৬, ০৪:৪৪ পিএম

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার ১১ নম্বর বাঘাসুরা ইউনিয়নের হরিতলা ছালেহাবাদ গ্রামের কিশোরী মোছা. ইসরাত জেরিন (ইভা) আগুনে দগ্ধ হয়ে দীর্ঘদিন ধরে অসহনীয় কষ্টে দিন কাটাচ্ছে। মুখমণ্ডলের একটি বড় অংশ আগুনে ঝলসে যাওয়ায় তার স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হচ্ছে। তবে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা চালিয়ে যেতে না পারায় পরিবারটি এখন চরম অসহায় অবস্থায় রয়েছে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, কিছুদিন আগে দুর্ঘটনায় ইভার মুখে গুরুতর অগ্নিদগ্ধের ঘটনা ঘটে। এরপর স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা করানো হলেও উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন বিপুল অর্থ। কিন্তু দরিদ্র পরিবারের পক্ষে সেই ব্যয় বহন করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে চিকিৎসা অসম্পূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।

ইভার বাবা মোহাম্মদ নানু মিয়া বলেন, মেয়ের মুখের দিকে তাকালে বুকটা ফেটে যায়। অনেক চেষ্টা করেছি চিকিৎসা করাতে, কিন্তু এখন আর সামর্থ্য নেই। ডাক্তাররা আরও উন্নত চিকিৎসার কথা বলেছেন। সমাজের বিত্তবান মানুষ ও সরকারের সহযোগিতা পেলে আমার মেয়েটা হয়তো আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবে।

মা জ্যোস্না বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার মেয়েটা আগে খুব হাসিখুশি ছিল। এখন আয়নায় নিজের মুখ দেখতে চায় না। চিকিৎসার খরচ জোগাতে আমরা দিশেহারা হয়ে পড়েছি। একজন মায়ের কাছে এর চেয়ে বড় কষ্ট আর কিছু হতে পারে না। আমি সবার কাছে আমার মেয়ের জন্য সাহায্য চাই। 

কিশোরী ইভা বলেন, আমি সুস্থ হতে চাই। আবার স্কুলে যেতে চাই, সবার সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে চলতে চাই। কিন্তু টাকার অভাবে আমার চিকিৎসা হচ্ছে না। যারা পারেন, তারা যদি আমাকে একটু সাহায্য করেন, তাহলে হয়তো আমি নতুন জীবন ফিরে পাব।

মানবাধিকার কর্মী শেখ ইমন জানান, ইভার উন্নত চিকিৎসার জন্য সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি ও মানবিক সংগঠনগুলোর এগিয়ে আসা প্রয়োজন। সবার সহযোগিতা পেলে আগুনে পোড়া এই কিশোরীর চিকিৎসা সম্পন্ন করা সম্ভব হবে এবং সে আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবে।

বর্তমানে ইভা ও তার পরিবার মানবিক সহায়তার আশায় দিন গুনছে। একটি সহানুভূতির হাতই বদলে দিতে পারে তার ভবিষ্যৎ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত