বিশ্বকাপ ফুটবলের বাণিজ্যিক স্বত্ব একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রির ব্যর্থ প্রচেষ্টাকে কেন্দ্র করে ফিফা সভাপতি জিয়ানি ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে একজোট হয়ে তোপ দেগেছে ইউরোপ (উয়েফা), এশিয়ার (এএফসি) এবং উত্তর ও মধ্য আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের (কনকাকাফ) ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
সোমবারে দেওয়া একটি যৌথ খোলা চিঠিতে এই তিন মহাদেশীয় সংস্থা ইনফান্তিনোর ওপর থেকে আস্থা হারানোর কথা জানিয়ে বিষয়টি নিয়ে একটি স্বাধীন তদন্তের দাবি জানিয়েছে। তবে তারা সরাসরি ইনফান্তিনোর পদত্যাগ দাবি করা থেকে সামান্য দূরত্ব বজায় রাখলেও, এই চিঠির বার্তা স্পষ্ট—ফিফায় নেতৃত্ব পরিবর্তন এখন সময়ের দাবি।
চিঠিতে সংস্থাগুলো উল্লেখ করে, বাতিল হয়ে যাওয়া এই প্রাইভেট ইকুইটি প্রস্তাবের মাধ্যমে ইনফান্তিনো ‘প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে বিশ্বাসভঙ্গ করেছেন’ এবং নিজেকে ‘সংস্থার ঊর্ধ্বে’ বসিয়েছেন। তারা যৌথভাবে পুরো ঘটনার একটি সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ও স্বাধীন তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে।
ফুটবল পরিবারের উদ্দেশ্যে পাঠানো সেই চিঠিতে বলা হয়, “ফুটবলের আসল শক্তি ছিল এর ঐক্য। আমরা এখন সেই ঐক্যের প্রতি সম্মান জানানোর আহ্বান জানাচ্ছি। ফুটবলকে এমন নেতৃত্বের অধীনে আনা দরকার যা ফুটবলকে সেবা করবে, শাসনের নামে নিজের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে চাইবে না।”
ঘটনার সূত্রপাত হয় যখন ইনফান্তিনো বিশ্বকাপ ফুটবলের বাণিজ্যিক স্বত্বের ২০ শতাংশ শেয়ার বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে প্রায় ৪.২ বিলিয়ন (৪২০ কোটি) ডলারে বিক্রি করার একটি বিতর্কিত পরিকল্পনা প্রকাশ করেন। তবে তীব্র বিরোধিতার মুখে তিনি দ্রুত সিদ্ধান্তটি প্রত্যাহার করতে বাধ্য হন। তা সত্ত্বেও বিশ্ব ফুটবলে তার বিরুদ্ধে একটি নজিরবিহীন গণবিক্ষোভের জন্ম হয়েছে।
ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো জানাচ্ছে, আগামী বছর পুনর্নির্বাচনে অংশ নিতে যাওয়া ইনফান্তিনো যাতে নিজের আত্মসম্মান বজায় রেখে পদত্যাগ করতে পারেন, সেই পথ তৈরি করতেই সংস্থাগুলো এই খোলা চিঠিটি দিয়েছে।
উয়েফা, এএফসি এবং কনকাকাফ ইতোমধ্যে হুমকি দিয়েছে যে, ভবিষ্যতে এ ধরনের কোনো পরিকল্পনা আর আনা হবে না বলে শক্ত প্রতিশ্রুতি না পাওয়া পর্যন্ত তারা ফিফার টুর্নামেন্টগুলো বর্জন করবে। তারা চিঠিতে লিখেছে, “ফুটবলের নেতৃত্ব কোনো ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। ক্ষমতা ধরে রাখা বা দাবি করার বিষয় এটি নয়... যখন প্রতারণার মাধ্যমে বিশ্বাস ভেঙে যায় এবং কোনো ব্যক্তি নিজেকে ক্ষমতার ওপর বসান, তখন ধরে নিতে হয় তিনি দায়িত্ব পালন করতে ব্যর্থ হয়েছেন।”
ফিফার সঙ্গে চলমান এই সংকটের মধ্যে ফুটবলারদের খেলায় রাখতে উয়েফা, এএফসি এবং কনকাকাফ নিজেদের মধ্যে বিকল্প টুর্নামেন্ট আয়োজনের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখছে।
গত সপ্তাহে মরক্কোতে ফিফার একটি জরুরি বৈঠকের কঠোর সমালোচনা করে সংস্থা তিনটি জানায়, সেখানে একজনমাত্র নির্বাচিত প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। ইনফান্তিনোর এই চরম ব্যর্থতার নিরপেক্ষ বিচারে এমন এক স্বাধীন তদন্ত প্রয়োজন, যেখানে ফিফার কোনো ধরনের হাত থাকবে না।
নরওয়েজিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের (এনএফএফ) সভাপতি লিসে ক্লাভনেসও ইনফান্তিনোকে অবিলম্বে সভাপতির পদ ছাড়ার জোর দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে, গত সপ্তাহে সদস্য দেশগুলোর কাছে ফিফা ক্ষমা চাইলেও ইনফান্তিনো তার সমর্থনে বেশ কিছু দেশের সমর্থন আদায় করেছেন। আফ্রিকান ফুটবল কনফেডারেশন (সিএএফ) এবং দক্ষিণ আমেরিকার আর্জেন্টিনা, প্যারাগুয়ে, ইকুয়েডর ও বলিভিয়া ইনফান্তিনোর পাশে থাকার কথা জানিয়েছে।
পাল্টা পদক্ষেপে ফিফাও তাদের সভাপতির বিরুদ্ধে হওয়া এসব সমালোচনাকে ‘পরিকল্পিত আক্রমণ’ বলে আখ্যা দিয়ে একটি বিবৃতি দেয়। কিন্তু উয়েফা এবং বড় তিন কনফেডারেশনের এমন অনড় অবস্থান ইনফান্তিনোর ভবিষ্যৎকে চরম অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে।
নিজের বিয়ের খবর শুনে খুব মজা পেয়েছেন রোনালদো