সাতক্ষীরা

আদালতে তিন ‘নজরুল’: দুইজন কারাগারে, একজনের জামিন

আপডেট : ১০ আগস্ট ২০২৬, ০৯:১৮ পিএম

দেশব্যাপী বহুল আলোচিত এবং সাতক্ষীরার রাজনীতি ও স্থানীয় অঙ্গনে পরিচিত তিন ‘নজরুল’—একজন শ্যামনগরের সাবেক সংসদ সদস্য, একজন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং অন্যজন জামায়াতে ইসলামীর নেতা ও ইউপি চেয়ারম্যান। 

বিরল এক কাকতালীয় ঘটনায় একই দিনে, সোমবার (১০ আগস্ট), আদালতের কাঠগড়ায় মুখোমুখি হন এই তিন আলোচিত ব্যক্তি। তবে দিনের শেষে তাঁদের আইনি পরিণতি হয়েছে ভিন্ন। বহুল আলোচিত সাবেক সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম হাইকোর্ট থেকে আগাম জামিন পেলেও বাকি দুই নেতাকে পাঠানো হয়েছে জেলা কারাগারে।

অনৈতিক সম্পর্কের প্রতিবাদ ও ভিডিও ফাঁসের সন্দেহে গাড়িচালককে মারধর এবং শ্বাসরোধে হত্যাচেষ্টার মামলায় হাইকোর্ট থেকে আগাম জামিন পেয়েছেন সাতক্ষীরা-৪ আসনের বহিষ্কৃত সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম। সোমবার (১০ আগস্ট) বিকেলে হাইকোর্ট তাঁর জামিন মঞ্জুর করেন।

এর আগে এক তরুণীর সঙ্গে আপত্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার জেরে গত ২২ জুলাই তাঁর বিরুদ্ধে রাজধানীর পল্লবী থানায় মামলাটি করেন ভুক্তভোগীর মামা ওবায়দুর রহমান। একই অভিযোগে ওই দিনই জামায়াতে ইসলামী তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করে।

সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলামকে পাঁচটির বেশি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বিলাশ মণ্ডলের আদালতে তাঁকে হাজির করা হলে শুনানি শেষে বিচারক কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

২০১৪ সালে বিএনপি-জামায়াতের নেতা-কর্মীদের ‘ক্রসফায়ারের’ নামে হত্যার নির্দেশ ও মদদ দেওয়ার অভিযোগে সম্প্রতি সাতক্ষীরা সদর থানায় এসব মামলা করা হয়। মামলাগুলোর পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে ২৯ অক্টোবর।

জাইকার অর্থায়নে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ প্রকল্পে ১৫ লাখ টাকা চাঁদাবাজি, প্রকৌশলীকে মারধর এবং কাজ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগে শ্যামনগর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর নেতা ও বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী মো. নজরুল ইসলাম এবং তাঁর সহযোগী বিশ্বজিৎ মণ্ডলকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।

ছয় সপ্তাহের হাইকোর্টের জামিনের মেয়াদ শেষে তাঁরা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির হয়ে পুনরায় জামিন আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাঁদের জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

জামায়াত নেতার পক্ষে আদালতে আইনি লড়াই করেন জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট ইফতেখার ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক নেতা অ্যাডভোকেট আবু বকর।

একই দিনে সাতক্ষীরার তিন ‘নজরুলের’ আদালত ভাগ্য নিয়ে সাতক্ষীরার পাশাপাশি দেশব্যাপী আলোচনা চলছে। একই দিনে আদালতে হাজির হওয়া তিন ‘নজরুলের’ মধ্যে দুজনের ঠাঁই হয়েছে কারাগারে, আর একজন হাইকোর্ট থেকে পেয়েছেন আগাম জামিন।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত