জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ বলেছেন, রাষ্ট্রপতি যদি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় হয়ে যায়, তাহলে গণতন্ত্র চর্চা হচ্ছে না। আমরা গণতান্ত্রিক ধারাটাকে ফিরিয়ে আনতে চাই, সুস্থ ধারার রাজনীতিতে দেশকে পরিচালনা করার জন্য আমরা রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। গতকাল সোমবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জোটের পক্ষে অলি আহমদের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করে ১১ দলীয় জোটের সমন্বয়ক এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ এ কথা বলেন। এর আগে রবিবার ১১ দলীয় ঐক্যর তরফে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রার্থী হিসেবে এলডিপি প্রেসিডেন্ট অলি আহমদের নাম ঘোষণা করা হয়।
নির্বাচন ভবনের তৃতীয় তলায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জোটের সমন্বয়ক বলেন, ‘এখানে জয়-পরাজয়টি বিষয় না; আমরা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াটা সামনে নিয়ে আসছি। সংবিধানের ৫৯ অনুচ্ছেদে বলা আছে, রাষ্ট্রের সর্বস্তরে নির্বাচিত প্রতিনিধির মাধ্যমে পরিচালনা। এখানে যদিও প্রতিনিধি সেভাবে না, রাষ্ট্রের তো প্রধান ব্যক্তি, পদমর্যাদা সম্পন্ন, রাষ্ট্রের অভিভাবকত্বের জায়গা হলো রাষ্ট্রপতির পদ। নব্বইয়ের দশকে সংসদীয় ব্যবস্থায় ফেরার পর আটবারের মধ্যে সাতবারই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন ক্ষমতাসীন দল মনোনীত প্রার্থী। কেবল ১৯৯১ সালে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের প্রার্থী থাকায় ভোটাভুটি হয়। ওই নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন আব্দুর রহমান বিশ্বাস। আর বিরোধীদল আওয়ামী লীগ ও সমমনারা বদরুল হায়দার চৌধুরীকে প্রার্থী করে। বিএনপি ও আওয়ামী লীগের বাইরে আরেকজন সংসদ সদস্য মকবুল হোসেন প্রার্থী হয়েছিলেন। তবে পরে নিজেকে প্রত্যাহার করে নেন তিনি। ভোটে বিএনপির প্রার্থী আবদুর রহমান বিশ্বাস ১৭২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। আওয়ামী লীগের প্রার্থী সাবেক প্রধান বিচারপতি বদরুল হায়দার চৌধুরী পেয়েছিলেন ৯২ ভোট। ১৯৯১ সালে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সম্ভাবনার জায়গা থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছিল বলে মনে করেন জামায়াত নেতা হামিদুর রহমান আযাদ। তিনি বলেন, ‘এবার হয়তো বলতে পারেন সেই সম্ভাবনাটা তো নেই। অর্থাৎ একানব্বইয়ে ভোটার সংখ্যার হিসাব-নিকাশে বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশ মেজরিটি ছিল না। আমরা সমর্থন দিয়ে বিএনপিকে সেইবার সরকার গঠনের সুযোগ দিয়েছিলাম।
সেখানে সব দল বিএনপির প্রার্থীর বিরুদ্ধে অবস্থান নিলে তাদের প্রার্থী পরাজিত হতো। সেই সম্ভাবনা থেকে একানব্বইয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জায়গা তৈরি হয়েছিল।’
এবার প্রতিদ্বন্দ্বিতার সম্ভাবনা না থাকলেও জামায়াতের জোটের মনোনয়ন সংগ্রহ করার কারণ ব্যাখ্যায় হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘বিএনপির রাষ্ট্র ও জনগণের সঙ্গে দ্বিচারিতা করেছে, সেটা জাতির সামনে আনতে চাই। গণভোটের রায়টা, জনগণের রায়টা বিএনপি বাস্তবায়ন করে নাই। সেটা বাস্তবায়ন হলে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংস্কারের মধ্যেই চলে আসত। এখন সংসদ সদস্যরা স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারবেন না। এখানে তাদের ভোটাধিকার দিয়ে তার অধিকারের ওপর আপনি হস্তক্ষেপ বা নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে গেছেন। আমরা এই জায়গা থেকেই জাতিকে মুক্ত করতে চেয়েছি।’
জামায়াত জোটের এ সমন্বয়ক আরও বলেন, ‘সংসদ সদস্যদের এই স্বাধীনতা, ভোটাধিকার যে নিয়ন্ত্রিত, সেই জায়গাটাকে মুক্ত করতে চেয়েছি। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন হলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সঠিক গণতন্ত্রের পতিফলনটা ঘটত।’
নির্বাচনী ইশতেহারে ৭০ অনুচ্ছেদের আংশিক পরিবর্তনে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বিএনপি, যদিও তা এখনো বাস্তবায়ন হয়নি। তাদের ইশতেহারে অর্থ বিল, সংবিধান সংশোধনী বিল, আস্থা ভোট এবং রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা সংক্রান্তবিল ছাড়া অন্য যেকোনো বিষয়ে সংসদ সদস্যদের নিজ দলের বিরুদ্ধে ভোট দেওয়ার সুযোগ রাখার কথা বলা হয়েছে। হামিদুর আযাদ বলেন, ‘এ রাষ্ট্রের ধাপে ধাপে যে বাধা, মানুষের অধিকার যে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এটাকে আমরা উঠিয়ে দিতে চাই। এজন্য আমরা সংস্কারের কথা বলেছি। সংসদেও বলেছি, সংসদের বাইরে আন্দোলন কর্মসূচির মাধ্যমে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। এখানে সংসদ সদস্যরা স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারছেন না। যদি ভোট দিতে পারতেন, আমাদের প্রার্থী দিয়েছি একজন বর্ষীয়ান নেতা, খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা। জাতির পক্ষ থেকে জনগণের পক্ষ থেকেও প্রতিনিধিরা একটা যোগ্য প্রার্থী এখানে পেত। তার প্যারালাল কোনো প্রার্থী তার প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আসত না।’
সংসদে এমপিরা স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারলে জামায়াত জোটের এ প্রার্থী জয়ী হতেন দাবি করে আযাদ বলেন, ‘যদি সংস্কার হতো অলি সাহেব নিশ্চিতভাবে বিজয়ী হতেন এবং সবার কাছে গ্রহণযোগ্য প্রার্থী হিসেবে তিনি আজকে নির্বাচিত হতেন। এই সম্ভাবনাটা সমুজ্জ¦ল ছিল। কিন্তু ‘দুর্ভাগ্য এটা জাতির জন্য। ‘আমরা সেই জায়গাটা বিএনপির দ্বিচারিতার কারণে অথবা তাদের সংস্কারের ব্যাপারে ইতিবাচক মানসিকতা না থাকার কারণে জাতি এখান থেকে বঞ্চিত হলো। একজন দক্ষ যোগ্য লোকের সার্ভিস থেকে রাষ্ট্র বঞ্চিত হলো।’
