শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে

আপডেট : ১২ আগস্ট ২০২৬, ০৭:৪৭ এএম

ক্রিকেটার ও সাবেক সংসদ সদস্য সাকিব আল হাসানকে ‘নষ্ট-পচে যাওয়া মানুষ’ অভিহিত করে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেছেন, তিনি তো আর শেখ হাসিনার চেয়ে বড় অপরাধী না। একজন বীভৎস অপরাধীও বিচারিক প্রক্রিয়ায় সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃত কতিপয় ক্ষেত্রে মানবাধিকার পাওয়ার যোগ্য এবং সরকার সেটা নিশ্চিত করবে। তারা যদি দেশে আসে তবে তাদের পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই বিচারের মুখোমুখি করা হবে। আদালতেই অপরাধীর বিষয়ে ফয়সালা হবে।

গতকাল মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে সরকারের সাম্প্রতিক কর্মকা-ের অগ্রগতি তুলে ধরতে গিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জাহেদ উর রহমান এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘সাকিব আল হাসান ভালো খেলোয়াড় হতে পারেন; কিন্তু উনি একজন নষ্ট-পচে যাওয়া মানুষ, যে মানুষ হাসিনার সঙ্গে অ্যালাইন হন এবং এখনো অ্যালাইনড থাকেন।’

উপদেষ্টা বলেন, উনি (সাকিব) দেশে ফিরলে বিমানবন্দরে কেউ ’মব’ করবে না। তাকে পূর্ণ নিরাপত্তার সঙ্গে আইনগত প্রক্রিয়ায় তার বিরুদ্ধে সব অভিযোগ মোকাবিলা করার সুযোগ দেওয়া হবে। তিনি তো আর শেখ হাসিনার চেয়ে বড় অপরাধী না।

জাহেদ উর রহমান বলেন, শুধু তিনি (সাকিব) নন; শোনা যাচ্ছে শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে দেশে ফিরবেন। তার ক্ষেত্রেও নিরাপত্তাসহ সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করেই আদালতের মুখোমুখি করা হবে। এরপর আদালত যে সিদ্ধান্ত দেবে, তা সবাইকে মেনে নিতে হবে।

ভারত সম্পর্কে প্রতিক্রিয়া : অপর এক প্রশ্নের জবাবে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, সরকার এখন সামনের দিকে তাকাতে চায়। বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে ভারতের দিক থেকে এগিয়ে আসার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। কারণ, অতীতে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও একটি নির্দিষ্ট সরকারের ক্ষমতায় টিকে থাকার ক্ষেত্রে ভারতের ভূমিকা নিয়ে বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে দীর্ঘদিনের প্রশ্ন ও সন্দেহ রয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভারতের হাইকমিশনারের বৈঠক (গত সোমবার) প্রসঙ্গে সরকারের অবস্থান নিয়ে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দেওয়া ব্রিফিং এবং সরকারের প্রকাশ্য বক্তব্য থেকে স্পষ্ট হয় যে, বাংলাদেশ বিষয়টি অত্যন্ত দৃঢ়ভাবে ভারতের কাছে উপস্থাপন করেছে।

উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশ একটি স্বাধীন সার্বভৌম দেশ। এই দেশের সঙ্গে আগামীতে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে হলে উপর্যুক্ত মর্যাদাপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে আসতে হবে। আমরা মনে করি, বন্ধু পরিবর্তন করা যায় কিন্তু প্রতিবেশী পরিবর্তন করা যায় না। পারস্পরিক উদ্যোগেই সম্পর্ক উন্নয়ন করতে হয়।  

তিনি বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের দায়ে একজন মৃত্যুদ-প্রাপ্ত আসামি। তাকে রীতিমতো সংবাদ সম্মেলনের অনুমতি দেওয়ার মধ্যে প্রচ্ছন্ন সমর্থনের প্রশ্ন জড়িত রয়েছে।

উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘আমরা হাসিনার মতো আরও একটা মাফিয়া রেজিম এই দেশে আর দেখতে চাই না। এটা ভবিষ্যতেও হতে দেব না। এটি একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র।’

তিনি বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা সরকারের সঙ্গে নয়, বরং বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে হওয়া উচিত। ভবিষ্যতে দুই দেশের সম্পর্ক নতুনভাবে বিন্যাস বা ‘রিঅ্যালাইনমেন্ট’-এর প্রয়োজন রয়েছে।

সাংবাদিকদের কেউ কেউ সরকারি-বেসরকারি গণমাধ্যম এবং তথ্য ও সম্প্রচারসহ অন্যান্য মন্ত্রণালয় ও বিভাগে এখনও থেকে যাওয়া পতিত সরকারের দোসরদের ব্যাপারে কী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছেÑ জানতে চাইলে উপদেষ্টা বলেন, এ ব্যাপারে ধাপে ধাপে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং এই প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে। রাতারাতি কোনো ক্ষেত্রে ড্রাস্টিক (দ্রুত কিংবা সহিংস) পরিবর্তন হবে না।

উপদেষ্টা এ প্রসঙ্গে আরও বলেন, একটা দেশে সরকারের প্রশাসনসহ দাপ্তরিক সব স্তরে বিভিন্ন মতাদর্শের মানুষ থাকে। এটি ভারসাম্য সৃষ্টিতে কাজ করে। সিরিয়াস কোনো অপরাধ না থাকলে কাউকে কোনোরকম শাস্তি বা নিপীড়নমূলক কোনো ব্যবস্থার আওতায় আনার প্রয়োজন নেই।

উপদেষ্টা তার সরকারের সাম্প্রতিক কর্মকা- এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সব বাহিনীর অভিযান ও সাফল্যও তুলে ধরেন। 

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত