বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার ডারউইন টেস্ট দিয়ে প্রথমবারের মতো বাউন্ডারি রোপে কোনো জুয়া বা বেটিং প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন ছাড়া মাঠে নামতে যাচ্ছে অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দল। দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় (১৫ বছর) পর ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার বাউন্ডারি স্পন্সরশিপ থেকে বাদ পড়েছে বেটিং প্রতিষ্ঠান 'বেট৩৬৫'।
কাল (বৃহস্পতিবার) থেকে মারারা স্টেডিয়ামে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে শুরু হতে যাওয়া প্রথম টেস্টে 'বেট৩৬৫'-এর পরিবর্তে বাউন্ডারি রোপের স্পন্সরশিপ পেয়েছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার মূল বাণিজ্যিক অংশীদার ‘টোয়োটা’।
২০১২ সাল থেকে টেস্ট ম্যাচের বাউন্ডারি রোপের বিজ্ঞাপনে ছিল 'বেট৩৬৫'। তবে ২০০০ সালের শেষের দিকে 'বেটফেয়ার'-এর মাধ্যমে ক্রিকেটে বড় ধরনের বেটিং স্পন্সরশিপ শুরু হওয়ার পর এই প্রথম কোনো প্রধান বেটিং স্পন্সর ছাড়া টেস্ট ম্যাচ আয়োজন করছে তারা।
জুলাই মাসে প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজের নেতৃত্বাধীন অস্ট্রেলিয়া সরকার জুয়ার বিজ্ঞাপন নিয়ন্ত্রণে নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেয়। প্রস্তাবিত আইনে স্টেডিয়াম এবং খেলোয়াড়দের জার্সিতে বেটিং বিজ্ঞাপন সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ করার কথা বলা হয়েছে। যদিও আইনটি এখনও সংসদে পুরোপুরি পাস হয়নি, তবে দেশটির বিভিন্ন ক্রীড়া সংস্থা ও বেটিং পার্টনাররা ইতোমধ্যেই তাদের উপস্থিতি কমাতে শুরু করেছে।
প্রধানমন্ত্রী অ্যালবানিজ বলেন, "আমরা একটি ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করছি। প্রাপ্তবয়স্করা চাইলে বাজি ধরতে পারেন, কিন্তু আমাদের শিশুদের চারপাশে যেন সবসময় বেটিং বিজ্ঞাপন না থাকে তা নিশ্চিত করতে হবে। আমরা চাই না খেলাধুলা আর জুয়াকে শিশুরা একই সূত্রে গাঁথুক।"
ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার মুখপাত্র জানিয়েছেন, বেটিং প্রতিষ্ঠানের চুক্তি নবায়ন না হওয়ার বিষয়টি সরকারের কঠোর নীতির কারণে কি না সে বিষয়ে তারা মন্তব্য করবেন না। তবে ভবিষ্যতে নতুন কোনো বাণিজ্যিক বেটিং পার্টনারের চুক্তি করার সম্ভাবনাও তারা একেবারে উড়িয়ে দেননি।
উল্লেখ্য, বিগ ব্যাশ লিগ ও নারী বিগ ব্যাশ লিগে শুরু থেকেই শিশুদের ও পারিবারিক বিনোদনের কথা মাথায় রেখে বেটিং স্পন্সর না নেওয়ার নীতি বজায় রেখেছিল ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। এবার টেস্ট ক্রিকেটেও এর প্রভাব স্পষ্ট হতে শুরু করল।