রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের আকস্মিক পদত্যাগের পর খালি হওয়া রাষ্ট্রপ্রধানের পদে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তৎপরতা। নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামীর রাষ্ট্রপ্রধান নির্বাচনের দৌড়ে অংশ নিচ্ছে বিরোধী জোটে থাকা জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য। এই জোটের প্রার্থী হিসেবে বীর বিক্রম অলি আহমদের পক্ষে আনুষ্ঠানিক মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকালে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের কাছে এই মনোনয়নপত্র হস্তান্তর করে জামায়াত নেতা এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদের নেতৃত্বাধীন একটি প্রতিনিধি দল। এই মনোনয়নে প্রস্তাবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতের সংসদ সদস্য শফিকুর রহমান। একই সঙ্গে সমর্থক হিসেবে স্বাক্ষর করেছেন এনসিপির সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল আমিন।
বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক সেনা কর্মকর্তা অলি আহমদ দীর্ঘ দিন বিএনপির নীতিনির্ধারণী রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন এবং সরকারের মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। পরবর্তীকালে দলীয় মতবিরোধের কারণে বিএনপি থেকে বের হয়ে তিনি লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (এলডিপি) গঠন করেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় বিভিন্ন জোটের অংশ হলেও দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তিনি ১১ দলীয় ঐক্যের সঙ্গে নতুন সমীকরণে যুক্ত হন।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, রাষ্ট্রপতি পদের এই নির্বাচনের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই ও প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শেষ করে চলতি মাসের ২০ তারিখে সংসদ কক্ষে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। সংবিধানের বিধান অনুযায়ী স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন।
বিরোধী দলীয় জোটের প্রার্থীর মনোনয়ন জমা দেওয়া নিয়ে জামায়াত এবং জোটের নেতাদের মতে, গণতন্ত্র চর্চাকে অব্যাহত রাখা ও অংশগ্রহণমূলক পরিবেশ বজায় রাখার লক্ষ্যেই তারা রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে প্রবীণ নেতা অলি আহমদকেই সবচেয়ে যোগ্য অভিভাবক মনে করছে বিরোধী রাজনৈতিক জোটটি।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কবে, কীভাবে-সংবিধান কী বলছে?