বানিয়াচংয়ে ছাত্রদলের বিক্ষোভ, ইউএনওর কাছে ফল স্থগিত দাবি

আপডেট : ১৩ আগস্ট ২০২৬, ০৭:৩২ পিএম

হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগের ফলাফলকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভ করেছেন উপজেলা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। 

তারা নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে ফলাফল স্থগিত ও পুনরায় নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার দাবি জানান।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুরে স্থানীয় শহীদ মিনারে জড়ো হয়ে উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি মোবাশ্বির আহমেদ মজনু ও যুগ্ম আহ্বায়ক শেখ রাসেল মিয়ার নেতৃত্বে প্রায় অর্ধশত নেতাকর্মী মিছিল নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন।
এ সময় তারা নিয়োগের ফলাফল নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ইউএনও মাহমুদা বেগম সাথীর কাছে ফলাফল স্থগিতের দাবি জানান। 

এর আগে ছাত্রদল নেতা নাঈম   উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোবাশ্বির আহমেদ মজনুর বরাত দিয়ে সকাল সাড়ে ১০টায় শহীদ মিনারে নেতাকর্মীদের জড়ো হওয়ার আহ্বান জানান।

বিক্ষোভে ৪ নম্বর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান মিয়া, জনাব আলী কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক ইমদাদুল ইসলাম বাবু, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক ইয়াজ উদ্দিন রাসেলসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

জানা গেছে, কয়েকদিন আগে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগের জন্য প্রার্থীদের মৌখিক ও ব্যবহারিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরে বুধবার (১২ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম প্রধান তাঁর ফেসবুক আইডিতে ফলাফল প্রকাশ করেন।

ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা শুরু করেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। তাদের অভিযোগ, বৈষম্যবিরোধী মামলার আসামি ছাত্রলীগ নেতা সালমান জামান লস্কর এবং ৭ নম্বর বড়ইউড়ি ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি শাহ শোয়েবসহ আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত কয়েকজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তারা এসব নিয়োগ বাতিল করে পুনরায় নিয়োগের দাবি জানান।

তবে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনো অনিয়ম হয়নি বলে দাবি করেছেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম প্রধান। তিনি বলেন, প্রায় ১ হাজার ৬০০ আবেদনকারীর মধ্য থেকে ৯ জন কর্মকর্তাকে নিয়ে ৯টি বোর্ডের মাধ্যমে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। মেধাক্রমের ভিত্তিতে ১০০ জনকে চূড়ান্ত এবং আরও ৬০ শতাংশ প্রার্থীকে অপেক্ষমাণ তালিকায় রাখা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, চূড়ান্ত তালিকা খসড়া করার পর স্থানীয় বিএনপির নেতাদের  বিষয়টি অবহিত করা হয়েছিল। তালিকায় কোনো মামলার আসামি বা অপরাধী থাকলে তারা জানালে যাচাই করে ব্যবস্থা নেওয়া যেত। নিয়োগ নীতিমালায়ও কোনো আসামি বা অপরাধী তালিকায় থাকলে তা বাতিলের বিধান রয়েছে।

এদিকে আন্দোলনকারীদের দাবির মুখে ফলাফল স্থগিত করা হয়েছে বলে লোকমুখে শোনা গেলেও এর সত্যতা জানতে ইউএনওর মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি কল রিসিভ করেননি।

 বানিয়াচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হক জানান, উপজেলা পরিষদে হট্টগোলের বিষয়টি শুনে তাৎক্ষণিক পুলিশ পাঠিয়ে পরিবেশ শান্ত করা হয়েছে । তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কেউ থানায় লিখিত বা মৌখিক কোনো অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত