খুলনার ডুমুরিয়ায় চতুর্থ শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণের দায়ে শাহিন আলম গাজীকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও দুই মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুরে খুলনার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল জেলা আদালতের বিচারক মো. রাখিবুল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন। আদালতের বেঞ্চ সহকারী হরিদাস তরফদার রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত শাহিন আলম গাজী খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার থুকড়া গ্রামের মাহাবুর গাজীর ছেলে।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী। ২০২৪ সালের ১ মে রাত ৮টার দিকে তার পরিবারের সদস্যরা একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যান। পরিবারের অনুপস্থিতির সুযোগে রাত সাড়ে ১২টার দিকে শাহিন আলম গাজী মিথ্যা কথা বলে শিশুটিকে ডুমুরিয়া উপজেলার রুপরামপুর গ্রামের একটি ভিটা-বাগানে নিয়ে যান। সেখানে তাকে ধর্ষণ করা হয়।
শিশুটির চিৎকার শুনে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে তাকে উদ্ধার করেন। পরে গুরুতর অবস্থায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে ডুমুরিয়া থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্ত শেষে একই বছরের ৩০ জুন ডুমুরিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সুকান্ত কর্মকার শাহিন আলম গাজীকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
পরে ৭ অক্টোবর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ আদালত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। বিচারিক কার্যক্রমে সাক্ষ্য-প্রমাণ ও উপস্থাপিত তথ্য পর্যালোচনা শেষে বৃহস্পতিবার আদালত শাহিন আলম গাজীকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড, ১০ হাজার টাকা জরিমানা এবং জরিমানা অনাদায়ে আরও দুই মাসের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন।