বাঁশখালী উপকূল জুড়ে স্থায়ী বেড়িবাঁধ, নাকি মেরিন ড্রাইভ, শিল্পাঞ্চল নাকি পর্যটন স্পর্ট তা নিয়ে চলছে নানা আলোচনা। সম্প্রতি বাঁশখালীর উপকূলীয় বাহারছড়া সমুদ্র সৈকত এলাকায় প্রধানমন্ত্রীর সমাবেশ, শিল্পাঞ্চল করার ইঙ্গিত এবং পর্যটন স্পর্টে রুপান্তর করার দাবীকে সামনে রেখে এসব প্রশ্ন ঘুরপাক খেলেও স্থানীয় জনগণ স্থায়ী বেড়িবাঁধ চায় সরার আগে!
এদিকে বাঁশখালীর উপকূলীয় বেড়িবাঁধের জন্য ৪৯৮ কোটি ২৯ লাখ টাকা বরাদ্দের কাজ চলমান রয়েছে। তাতে বাহারছড়া, ছনুয়া, সাধনপুর, খানখানাবাদ চার ইউনিয়নে ৬ দশমিক ২১০ কিলোমিটার সমুদ্র তীর প্রতিরক্ষার কাজ আর সাঙ্গু মোহনায় ১৩০০ মিটার পুরোনো বাঁধ শক্তিশালী (সংস্কার) কাজ করা হচ্ছে। এরই মধ্যে প্রলংকরী বন্যায় বেশ কয়জন জায়গায় নতুন করে ভাঙন এবং বন্যার পানি নিষ্কাষণের জন্য কিছু জায়গায় বেড়িবাঁধ কেটে দিয়ে পানি অপসারণ করা হয়েছে। একদিকে বাঁধ সংস্কারের কাজ অপরদিকে বন্যার পানি নিষ্কাষণে বাঁধ কেটে পানি অপসারণ সব মিলিয়ে লেজে গুবরে অবস্থা উপকূলীয় বেড়িবাঁধের কাজে। উপকূলের জনগণের মতে বেড়িবাঁধের স্থায়ীত্ব র্দীঘায়িত করতে বেড়িবাঁধ সংস্কারের পাশাপাশি ঝাউবাগান করলে সুফল পাবে জনগণ। এদিকে চলমান কাজে বিগত দিনের মত স্থানীয় রাজনীতিবিদ ও জনপ্রতিনিধিদের সাব ঠিকাদারীর কারণে কাজে বার বার প্রতিবন্ধিকতা সৃষ্টি ও কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠছে শুরু থেকে।
এছাড়া যে সব ঠিকাদার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে বিগত দিনের কাজে নানা অনিয়ম ও দুনীর্তির অভিযোগ থাকলেও তারা আবার ও কাজ পেয়ে নানা অনিয়মের আশ্রয় নিয়েছে এমন অভিযোগ স্থানীয়দের। এদিকে শুরু হওয়া কাজ অর্ধেকও গড়াতে না পারলেও ২০২৭ সালের জুন মাসের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা রয়েছে। তবে সে সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে পারবে কিনা তা নিয়ে কোন বক্তব্য দিতে চাচ্ছে না কেউ !
বাঁশখালী পানি উন্নয়ন উপ-বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী অনুপম পাল বলেন, বাঁশখালীর ছনুয়া, গন্ডামারা, সরল, বাহারছড়া, খানাখানাবাদ ও সাধনপুর এলাকায় বর্তমানে তাদের কাজ চলমান রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক বন্যায় বাঁধের নতুন করে ভাঙন এবং কেটে দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান। উপকূল জুড়ে চলমান কাজ যথাসময়ে শেষ করার জন্য তাদের নজরদারি রয়েছে , তবে সেখানে বন্যা সহ নানা কারণে তাতে প্রতিবদ্ধকতা রয়েছে। এ কাজ তদারকি করার জন্য ৩জন এসও, ২জন ওয়ার্ক অ্যাসিস্টান্ট, ও ১ জন সার্ভেয়ার মাঠে রয়েছে তিনি জানান।
উপকূলীয় বাহারছড়া এলাকার বাসিন্দা সমাজকর্মী মো. জালাল উদ্দিন চৌধুরী বলেন, উপকূল রক্ষায় ঝাউবাগানের অবদান অপরিসীম। এটি জলোচ্ছ্বাস এবং বাতাসের গতিবেগ অনেকাংশে কমিয়ে দেয়। তবে ঝাউগাছের গোড়া খুব একটা শক্ত না হওয়ায় তা বালু ধরে রাখতে পারে না; ফলে জোয়ার ও পানির তীব্র আঘাতে সহজেই উপড়ে বা ভেঙে পড়ে। তা সত্ত্বেও, সারি সারি ঝাউবন পর্যটকদের আকর্ষণ করার পাশাপাশি সমুদ্রসৈকতের সৌন্দর্য বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। ঝাউবাগানের স্থায়িত্ব রক্ষা এবং সৈকতের ভাঙন পুরোপুরি রোধ করতে এর পাশাপাশি ম্যানগ্রোভ বন (ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট) গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি। হাজার কোটি টাকা খরচ করে বাঁধ দিয়েও যা সম্ভব হয় না, তা এই প্রাকৃতিক বনায়নের মাধ্যমে অর্জন করা সম্ভব। তাই উপকূল সুরক্ষায় সৈকতে ঝাউবাগান এবং সাগরের যেসব অংশে উরিঘাস রয়েছে, সেখানে ম্যানগ্রোভ বন লাগানোর জোর দাবি জানাচ্ছি। একই সাথে এই বনাঞ্চলের যথাযথ পরিচর্যা ও রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এই কার্যক্রমে স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করতে উপকারভোগীদের পুনর্বাসন এবং আর্থিক সহযোগিতা প্রদানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
এদিকে উপকূল সুরক্ষায় ঝাউবন ও ম্যানগ্রোভ বনের গুরুপ্ত অপরিসীম উল্লেখ করে উপকুলীয় বনবিট কর্মকর্তা মো. আবুল কালাম বলেন, উপকূলে প্রায় ৫০ হেক্টর ঝাউবন রয়েছে। তিনি উপকূল জুড়ে ঝাউবাগান ও ম্যানগ্রোভ বাগানের গুরুপ্ত আরোপ করেন।