পরকীয়ার অপবাদে ব্যবসায়ীকে আটকে রেখে মারধরের অভিযোগ, ভোরে মিলল লাশ

ব্যবসায়িক বিরোধের জেরে পরকীয়ার অপবাদ দিয়ে সারারাত দোকানঘরে আটকে রেখে চাঁদা দাবি ও নির্যাতনের পর ভোরে এক লেপ-তোষক ব্যবসায়ীর সন্দেহজনক মৃত্যু হয়েছে।

আপডেট : ১৭ আগস্ট ২০২৬, ১২:৫৭ পিএম

পিরোজপুরের নাজিরপুরে এক বিধবা নারীর সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্কের কাল্পনিক অভিযোগ তুলে মো. আনিছুর রহমান সিকদার (৪৫) নামের এক ব্যবসায়ীকে মারধর, অবরুদ্ধ ও চাঁদা দাবির পর রহস্যজনক মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। শনিবার (১৫ আগস্ট) ভোরে উপজেলার শাঁখারিকাঠী ইউনিয়নের তৈয়বের হাট বাজারে এ ঘটনা ঘটে।

তবে মৃত্যুর সঠিক কারণ সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত কিছু জানা যায়নি। সোমবার (১৭ আগস্ট) নাজিরপুর থানার ওসি তরিকুল ইসলাম জানান, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ জানা সম্ভব হবে।

নিহত আনিছুর রহমান সিকদার নাজিরপুর উপজেলার দীর্ঘা ইউনিয়নের ছৈলাবুনিয়া গ্রামের মৃত আলাউদ্দিন শিকদারের ছেলে। তিনি তৈয়বের হাট বাজারে লেপ-তোষকের ব্যবসা করতেন।

ঘটনার বিবরণে স্থানীয় হোটেল ব্যবসায়ী আসমা আক্তার (৪৫) অভিযোগ করেন, ব্যবসায়িক শত্রুতার জেরে বাজারের ব্যবসায়ী আতাহার মোল্লা ও তার সঙ্গীরা আনিছুর রহমানের সাথে তার পরকীয়ার মিথ্যা অভিযোগ তোলে। এরপর তাদের দুজনকে একটি দোকানে আটকে রেখে মারধর ও টাকা দাবি করা হয়।

আসমা আক্তারের ভাষ্যমতে, শুক্রবার (১৪ আগস্ট) রাতে বাজারের কয়েকজন ব্যবসায়ী মিলে খিচুড়ি খান। রাত আনুমানিক ২টার দিকে তিনি টয়লেটে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বের হলে তাকে জোরপূর্বক ডেকে এনে আনিছুর রহমানের দোকানে বন্দি করা হয়।

তিনি আরও জানান, বিষয়টি রফা করার নামে আনিছুর রহমানের নিকট প্রথমে ২০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। আতাহার মোল্লা দীর্ঘদিন ধরে তাকে নানা ধরনের কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন এবং প্রস্তাব প্রত্যাখান করায় আক্রোশ থেকে তিনি এ পরকীয়ার নাটক সাজিয়েছেন বলে আসমা আক্তার অভিযোগ করেন।

নিহতের স্ত্রী কহিনুর আক্তার কেয়া বলেন, রাত আড়াইটার দিকে তাকে ফোনে জানানো হয় যে তার স্বামী পরকীয়া করতে গিয়ে ধরা পড়েছেন এবং তাকে আটকে রাখা হয়েছে। এরপর তার কাছে ৫০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। স্বামীদের ওপর নির্যাতন না চালানোর আকুতি জানিয়ে তিনি সকালে আসবেন বলে জানান। কিন্তু সকালে গিয়ে তিনি স্বামীর নিথর দেহ দেখতে পান। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।

নিহতের মেয়ে আখি আক্তার জানান, তিনি রাত ২টার দিকে কল করে বাবাকে মারধর না করতে আকুতি জানিয়েছিলেন, কিন্তু তারা সেই অনুরোধ রাখেনি।

অন্যদিকে নিহতের ছেলে নুর সিকদার তামিমের দাবি, রাতে পরিবারের কাছে খবর আসে যে তার বাবাকে সারারাত আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়েছে। তার ধারণা, রাত ২টা থেকে আড়াইটার মধ্যেই তার বাবা মারা যান। সকালে ভাইয়ের মাধ্যমে তারা মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হন।

নাজিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম জানান, প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে আনিছুর রহমান সকালে টয়লেটে যাওয়ার সময় পড়ে গিয়ে মারা গেছেন। তবে এর আগে নারীঘটিত বিষয় নিয়ে তাকে রাতে আটকে রাখার একটি অভিযোগ তারা পেয়েছেন।

তিনি আরও জানান, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পিরোজপুরে পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট এলে মৃত্যুর আসল কারণ জানা যাবে এবং সেই অনুযায়ী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, আসমা আক্তারের অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার বিষয়ে অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত