উপজেলা হাসপাতাল উন্নয়নে গণপূর্তের ডিজিটাল উদ্যোগ

পর্যায়ক্রমে জেলা হাসপাতাল, সরকারি অফিস, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কারাগার, থানা ও আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর স্থাপনা এবং কারাগারসহ বিভিন্ন খাতে এ পদ্ধতি বাস্তবায়নের চিন্তা

আপডেট : ১৭ আগস্ট ২০২৬, ০৭:৩২ পিএম

উপজেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্য অবকাঠামো উন্নয়ন পরিকল্পনাকে আরও দ্রুত ও সুশৃঙ্খল বাস্তবায়নের লক্ষ্যে তথ্যভিত্তিক ডিজিটাল ডাটাবেইজ তৈরি করছে গণপূর্ত অধিদপ্তর। 

দেশের প্রত্যন্ত উপজেলা থেকেও হাসপাতালের বিদ্যমান অবকাঠামো, বেড সংখ্যা, জমি, সাইট, চিকিৎসা ও সহায়ক সেবা, ইউটিলিটি এবং ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয় তথ্য নিয়ে ডিজিটাল সফটওয়্যার তৈরি করেছে সংস্থাটি।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বলছেন, সংগৃহীত তথ্য একটি নির্ধারিত কাঠামো অনুযায়ী ডিজিটাল ডাটাবেজে সংরক্ষণ ও বিশ্লেষণ করা হয়। যার ফলে বিভিন্ন উপজেলার তথ্য একই মানদণ্ডে তুলনা ও মূল্যায়ন করা সহজ হচ্ছে। তথ্য যাচাই ও প্রয়োজন নিরূপণের পর প্রকল্পের পরিধি, স্থানিক চাহিদা এবং প্রাক্কলিত ব্যয় নির্ধারণের মাধ্যমে দ্রুত প্রকল্প প্রস্তাব প্রস্তুত করা যাচ্ছে। এর ফলে দীর্ঘ সময় ধরে ম্যানুয়ালভাবে তথ্য সংগ্রহ ও সংকলনের প্রয়োজন কমে গিয়ে অধিকতর সঠিক ও তথ্যভিত্তিক ডিপিপি (প্রকল্প প্রস্তাব) তৈরি করা হচ্ছে।

বর্তমান সরকারের স্বাস্থ্য অবকাঠামো উন্নয়ন কার্যক্রমের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে এই ডিজিটাল পদ্ধতি উপজেলা হাসপাতাল উন্নয়ন পরিকল্পনায় গতি ও সমন্বয় বাড়াতে সহায়তা করছে। প্রধান প্রকৌশলী খালেকুজ্জামান চৌধুরীর নির্দেশনায় এই উদ্যোগ অধিদপ্তরকে আরও আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও দক্ষ প্রতিষ্ঠানের দিকে এগিয়ে নিচ্ছে। একই সঙ্গে এই সফটওয়্যারভিত্তিক পদ্ধতি ভবিষ্যতে জেলা হাসপাতাল, সরকারি অফিস, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পুলিশ স্থাপনা, আদালত, কারাগারসহ অন্যান্য সরকারি অবকাঠামো প্রকল্পে প্রয়োগের সুযোগ তৈরি করছে।

কর্মকর্তারা বলছেন, ডিজিটাল তথ্য সংগ্রহ, দ্রুত বিশ্লেষণ, সঠিক পরিকল্পনা এবং স্বচ্ছ প্রকল্প প্রণয়নের মাধ্যমে এই উদ্যোগ সরকারি অর্থের কার্যকর ব্যবহার ও উন্নত জনসেবা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে। পর্যায়ক্রমে জেলা হাসপাতাল, সরকারি অফিস, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কারাগার, পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর স্থাপনা ও কারাগারসহ বিভিন্ন খাতে এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কথা ভাবছেন তারা। এতে ডিপিপি প্রণয়ন ও সরকারি সম্পত্তির সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ সহজ হবে।

অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (স্বাস্থ্য উইং) শহিদুল আলম বলেন, সফটওয়্যারের মাধ্যমে দূরবর্তী উপজেলা থেকেও একটি নির্ধারিত কাঠামো অনুযায়ী তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হচ্ছে। বিদ্যমান হাসপাতাল ভবন ও অন্যান্য স্থাপনার তথ্য, বর্তমান বেড সংখ্যা ও ভবিষ্যৎ প্রয়োজন, জমি ও সাইটের তথ্য, বিদ্যমান অবকাঠামোর অবস্থা, চিকিৎসা ও সহায়ক সেবার প্রয়োজনীয়তা, পানি, বিদ্যুৎ, স্যানিটেশন ও অন্যান্য ইউটিলিটি, প্রয়োজনীয় নতুন ভবন ও সম্প্রসারণের চাহিদা জানা যাবে।

তিনি বলেন, এটি অন্যান্য সরকারি অবকাঠামো অর্থাৎ সব ধরনের সরকারি অবকাঠামো প্রকল্পেও প্রয়োগ করা যাবে। গণপূর্ত অধিদপ্তর শুধু ভবন নির্মাণ করছে না, ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে সরকারি অবকাঠামো পরিকল্পনা ও উন্নয়নের পদ্ধতিও পরিবর্তন করছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত