ঢাবির ফজলুল হক হলে ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষ, ভিপি-জিএসসহ আহত ৬

আপডেট : ১৭ আগস্ট ২০২৬, ১০:২৬ পিএম

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ফজলুল হক মুসলিম হলে মধ্যরাতে ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে হল সংসদের ভিপি খন্দকার মো. আবু নাঈম ও জিএস ইমামুল হাসানসহ অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন।

আহতদের মধ্যে জিএস ইমামুল হাসানের অবস্থা গুরুতর বলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। পরে আহতদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। 

রবিবার সন্ধ্যা থেকে হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. ইলিয়াস আল মামুনের পদত্যাগের দাবিতে তার কার্যালয় অবরুদ্ধ করে রাখেন শিক্ষার্থীরা। প্রাধ্যক্ষের কক্ষে এক শিক্ষার্থীকে আটকে রেখে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগের প্রতিবাদে তারা এ কর্মসূচি পালন করেন। রাত পৌনে ৩টার দিকে প্রাধ্যক্ষকে উদ্ধারে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সেখানে গেলে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তাদের হাতাহাতি ও ধাক্কাধাক্কির একপর্যায়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও প্রাধ্যক্ষকে উদ্ধারে রাতে প্রাধ্যক্ষের কক্ষে উপস্থিত হন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. আল মোজাদ্দেদী আলফেসানী, প্রো-ভিসি (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আব্দুস সালাম, ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর অধ্যাপক ড. ইসরাফিল প্রাং এবং সহকারী প্রক্টররা। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীরা তাদেরও অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরে দুই প্রো-ভিসি সেখান থেকে বের হয়ে যান।

এরপর প্রাধ্যক্ষের কক্ষের গেটে প্রক্টরের সঙ্গে হল সংসদের ভিপি আবু নাঈম, জিএস ইমামুল হাসানসহ শিক্ষার্থীরা অবস্থান করছিলেন। এ সময় ছাত্রদলের একটি গ্রুপ শিবিরবিরোধী স্লোগান দিতে দিতে মিছিল নিয়ে কার্যালয়ের দিকে আসে। মিছিল দেখে ভিপি আবু নাঈম বলেন, শহীদুল্লাহ হলের সন্ত্রাসীরা এখানে কী করছে?

এরপরই ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ বাধে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। সংঘর্ষে ভিপি আবু নাঈম, জিএস ইমামুল হাসান, পাঠকক্ষ সম্পাদক মো. তায়েফসহ অন্তত ছয়জন আহত হন বলে দাবি করা হয়েছে।

সংঘর্ষের সময় ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর অধ্যাপক ইসরাফিল প্রাংকও পড়ে গিয়ে পিলারের সঙ্গে ধাক্কা খেতে দেখা যায়। পরে ছাত্রদলের একদল নেতাকর্মী তাকে আড়াল করে সেখান থেকে বের করে নেন। সংঘর্ষের পর জিএস ইমামুল হাসানকে মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখা যায়। ভিপি আবু নাঈমের গেঞ্জি ও পাঞ্জাবি ছিঁড়ে যায়।

পরে আহতদের অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সংঘর্ষের পর ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা হল প্রাধ্যক্ষকে কার্যালয় থেকে বের করে নিয়ে গেলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

ছাত্রদল-শিবিরের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ : এদিকে ঘটনার পর ছাত্রদল ও বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করেছে। ছাত্রদল প্রাধ্যক্ষের বিরুদ্ধে ওঠা শিক্ষার্থী হেনস্তার অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের পাশাপাশি আন্দোলনের নামে বিভিন্ন হল থেকে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের এনে ‘মব’ তৈরি ও শিক্ষকদের লাঞ্ছিত করার অভিযোগেরও তদন্ত দাবি করেছে।

এ ঘটনায় এক সংবাদ সম্মেলনে প্রাধ্যক্ষকে প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি, অভিযুক্ত কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, সিসিটিভি ও ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে হামলায় জড়িতদের স্থায়ী বহিষ্কার ও ফৌজদারি মামলা এবং ভবিষ্যতে কোনো ছাত্রসংগঠন যাতে প্রশাসনের হয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর পেশিশক্তি প্রয়োগ করতে না পারে- এমন লিখিত নিশ্চয়তা চেয়ে চার দফা দাবি জানিয়েছে শিবির।

ঘটনার পর সংবাদ সম্মেলনে ডাকসুও প্রাধ্যক্ষের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্ত, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও পদত্যাগের দাবি জানিয়েছে। ডাকসুর এজিএস মহিউদ্দিন খান অভিযোগ করেন, প্রাধ্যক্ষের কক্ষে এক শিক্ষার্থী ও কর্মচারীকে মানসিক ও শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়েছে। ডাকসুর জিএস এস এম ফরহাদ সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ, নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের শাস্তি এবং প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগ দাবি করেন।

এদিকে ঘটনার পর তিন দফা দাবিতে ফজলুল হক মুসলিম হলের অফিস অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছেন শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ ও প্রাধ্যক্ষসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

এদিকে ১৬ আগস্টের ঘটনায় পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরকে আহ্বায়ক করে কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সদস্যরা হলেন সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক ড. শান্টু বড়ুয়া, সহকারী প্রক্টর ড. এনামুল হক সজীব এবং সহকারী প্রক্টর মীর মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন আলী। ফজলুল হক মুসলিম হলের সহকারী আবাসিক শিক্ষক ড. মো. আল আমীন সিকদার সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। কমিটিকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত