সংঘর্ষের খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে নোবিপ্রবিতে ২ সাংবাদিককে হেনস্তা

ভিডিও ধারণের সময় মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে ফুটেজ মুছে দেওয়ার অভিযোগ, তদন্ত ও ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি সাংবাদিকদের

আপডেট : ১৮ আগস্ট ২০২৬, ১১:৫০ এএম

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) ছাত্রদলের দুই পক্ষের সংঘর্ষের খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে দুই সাংবাদিককে শারীরিকভাবে হেনস্তা এবং তাঁদের মোবাইল ফোনের ভিডিও ফুটেজ মুছে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাত সাড়ে ৩টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মালেক উকিল হল ও পকেট গেটসংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। হেনস্তার শিকার দুই সাংবাদিক হলেন মানবজমিনের নোবিপ্রবি প্রতিনিধি মাহী ছিদ্দীকী সিয়াম এবং প্রতিদিনের সংবাদের নোবিপ্রবি প্রতিনিধি মেহেদী হাসান।

অভিযোগে বলা হয়েছে, ছাত্রদল কর্মী বাংলা বিভাগের ১৭তম আবর্তনের আতিক হাসান, অর্থনীতি বিভাগের ১৮তম আবর্তনের তানভীর ভূঁইয়া, আইন বিভাগের ১৯তম আবর্তনের খাঁন মোহাম্মদ রোম্মান, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ১৮তম আবর্তনের ফাইসাল হোসাইন এবং কৃষি বিভাগের ১৮তম আবর্তনের এমকেএম আকরাম খান সাংবাদিকদের শরীরে আঘাত করেন এবং মোবাইল ফোন কেড়ে নেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, মানবজমিনের প্রতিনিধি মাহী ছিদ্দীকী সিয়ামকে ঘাড়ে ধাক্কা দিয়ে তাঁর মোবাইল ফোনের ভিডিও ফুটেজ মুছে ফেলতে বাধ্য করা হয়। ঘটনাস্থলে থাকা প্রতিদিনের সংবাদের প্রতিনিধি মেহেদী হাসানকেও হেনস্তা করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

জানা যায়, মঙ্গলবার গভীর রাতে আবদুল মালেক উকিল হলে ছাত্রদলের দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকপন্থী এবং সিনিয়র সহসভাপতিপন্থী নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া হয়। সংঘর্ষের খবর পেয়ে পেশাগত দায়িত্ব পালনের জন্য ঘটনাস্থলে যান সাংবাদিকরা।

মানবজমিনের প্রতিনিধি মাহী ছিদ্দীকী সিয়াম বলেন, হলের ছাদের দিকে মারামারি, উচ্চবাচ্য ও চিৎকারের শব্দ শুনে সেখানে কী ঘটছে তা দেখতে যান তিনি। কিছুক্ষণ পর হঠাৎ লাইট বন্ধ হয়ে গেলে তিনি লাইট জ্বালাতে গেলে আইন বিভাগের ২০১৯-২০ ব্যাচের রোম্মান ও আরও একজন তাঁকে ধাক্কা দেন।

তিনি বলেন, পরে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকপন্থী একটি গ্রুপ সিনিয়র সহসভাপতিপন্থী গ্রুপ ও সমন্বয়ক জাহিদকে ধাওয়া করে হল থেকে নামিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পকেট গেট দিয়ে বের করে নিয়ে যায়। বিষয়টি দেখতে তিনি তাঁদের পেছনে যান এবং ভিডিও ধারণ করতে থাকেন। এ সময় রোম্মান, বাংলা বিভাগের ১৭তম ব্যাচের আতিক, অর্থনীতি বিভাগের ১৮তম ব্যাচের তানভীর এবং পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ১৮তম ব্যাচের ফয়সাল তাঁকে চারদিক থেকে ঘিরে ধরেন।

মাহী ছিদ্দীকী সিয়ামের অভিযোগ, রোম্মান তাঁকে ধাক্কা দিয়ে হাতে ও ঘাড়ে আঘাত করেন এবং মোবাইল ফোন দেখাতে বলেন। ফোন বন্ধ থাকার পরও তাঁকে জোর করে সেটি আনলক করানো হয়। এরপর মোবাইলে থাকা ভিডিও ফুটেজ মুছে দেওয়া হয়। পাশাপাশি হোয়াটস অ্যাপ, মেসেঞ্জার, টেলিগ্রাম ও ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাপ পরীক্ষা করে তিনি কোথাও ভিডিও পাঠিয়েছেন কি না, তা যাচাই করা হয়। সবকিছু মুছে ফেলার পর তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয় এবং ঘটনাটি নিয়ে সংবাদ না করার কথা বলা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

অন্যদিকে প্রতিদিনের সংবাদের প্রতিনিধি মেহেদী হাসান বলেন, ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটার সময় তিনি ও তাঁর সহকর্মী মাহী সংবাদ সংগ্রহের জন্য ভিডিও ধারণ করছিলেন। তখন ছাত্রদল কর্মী ফাইসাল হোসাইন তাঁদের মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে ভিডিও ধারণ বন্ধ করতে বলেন। পরে তিনি দুজনকেই ধাক্কা দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে দেন বলে অভিযোগ করেন মেহেদী।

এ ঘটনায় পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় বাধা ও হেনস্তার অভিযোগ করেছেন সাংবাদিকেরা। তাঁরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

নোবিপ্রবি সাংবাদিক সমিতির সভাপতি নাহিদুল ইসলাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত দুই ক্যাম্পাস সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। তাঁরা দুজনই নোবিপ্রবি সাংবাদিক সমিতির সদস্য। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে অভিযোগ দেওয়া হবে। ভয়ভীতিহীনভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকতা করার পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।

নোবিপ্রবি শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল হোসেন বলেন, তিনি এ বিষয়ে অবগত নন এবং বিস্তারিতও জানেন না। তবে বিষয়টি ভালোভাবে খোঁজ নিয়ে বলতে পারবেন।

নোবিপ্রবি প্রক্টর অধ্যাপক এ এফ এম আরিফুর রহমান বলেন, বিষয়টি হলের প্রভোস্ট বডির সদস্যদের জানানো হয়েছে এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকেও অবহিত করা হয়েছে। সবাই বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আছেন। আনসার সদস্যদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া প্রক্টরিয়াল বডির একটি সভা ডাকা হচ্ছে।

সাংবাদিকদের হেনস্তার বিষয়েও সাংবাদিক সমিতির সভাপতির সঙ্গে কথা হয়েছে জানিয়ে প্রক্টর বলেন, আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ পাওয়া গেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত