হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারে হাতুড়ে দাঁতের চিকিৎসকদের দৌরাত্ম্য দিন দিন বাড়ছে। অভিযোগ রয়েছে, এদের কেউ সাইনবোর্ড ও ভিজিটিং কার্ডে ‘ডিডিটি’, কেউ ‘এফটি’ আবার কেউ দুর্বোধ্য বিভিন্ন ডিগ্রি ব্যবহার করে সাধারণ রোগীদের বিভ্রান্ত করছেন। অনেকে সুসজ্জিত চেম্বার খুলে দাঁতের চিকিৎসা দিয়ে আসছেন। ফলে সাধারণ মানুষ তাদের বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি) স্বীকৃত বিডিএস ডিগ্রিধারী ডেন্টাল সার্জন মনে করে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
স্থানীয়ভাবে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, মাধবপুর পৌর এলাকার গেদু মিয়া প্লাজার লাগোয়া পশ্চিমের ভবনে এডভান্স ডেন্টাল কেয়ার, গেদু মিয়া প্লাজায় সততা ডেন্টাল, শেখ সেলিম ম্যানশনে মা ডেন্টাল, সুরেশ প্লাজার আন্ডারগ্রাউন্ডে সেবা ডেন্টাল এবং খান প্লাজায় তমা ডেন্টাল নামে কয়েকটি ডেন্টাল চেম্বার রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসা প্রদানকারীদের পেশাগত যোগ্যতা ও বিএমডিসি নিবন্ধন নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারেও একইভাবে কথিত ডেন্টাল চিকিৎসকরা চেম্বার খুলে চিকিৎসার নামে ব্যবসা পরিচালনা করছেন। বিশেষ করে ধর্মঘর ইউনিয়নের হরষপুর এলাকায় এ ধরনের কথিত ডেন্টাল চিকিৎসকের সংখ্যা উদ্বেগজনক বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, হরষপুরে মহিউদ্দিন, তোফাজল, মিজান, আফসানা, আবু বকর ও শামসুল ইসলাম নামের ব্যক্তিরা হাজী ডেন্টাল, ভুঁইয়া ডেন্টাল, শাফিন ডেন্টাল, ফ্যামিলি ডেন্টাল ও ডিজিটাল ডেন্টালসহ বিভিন্ন নামে চেম্বার পরিচালনা করছেন। তাদের পেশাগত যোগ্যতা ও সংশ্লিষ্ট চিকিৎসা দেওয়ার বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ডেন্টাল টেকনোলজিতে ডিপ্লোমা থাকলেও একজন ব্যক্তি নিজেকে বিডিএস ডিগ্রিধারী ডেন্টাল সার্জন হিসেবে পরিচয় দিতে পারেন না। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ডিপ্লোমাধারীরা বিডিএস ডিগ্রিধারী ডেন্টাল সার্জনের সহকারী হিসেবে কাজ করতে পারবেন, স্বতন্ত্রভাবে ডেন্টাল চিকিৎসা দেওয়ার সুযোগ নেই। এমনকি সাইনবোর্ড বা ভিজিটিং কার্ডে ‘ডিডিটি’ লেখা থাকলেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সত্যিকার অর্থে স্বীকৃত ডেন্টাল টেকনোলজি ডিপ্লোমা রয়েছে কি না, সেটিও যাচাই করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব চেম্বারে দাঁত তোলা, দাঁতের ক্ষয় ও ব্যথার চিকিৎসাসহ বিভিন্ন ধরনের ডেন্টাল সেবা দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শিক্ষাগত যোগ্যতা, পেশাগত নিবন্ধন ও চিকিৎসা দেওয়ার বৈধতা যাচাইয়ে স্বাস্থ্য বিভাগের কার্যকর নজরদারি দেখা যাচ্ছে না।
ফলে এসব কথিত চিকিৎসকের বিরুদ্ধে দ্রুত অভিযান ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে বৈধ বিডিএস ডিগ্রিধারী ও বিএমডিসি নিবন্ধিত ডেন্টাল সার্জনের মাধ্যমে চিকিৎসা নেওয়ার জন্য রোগীদের সচেতন করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
মাধবপুর বাজারের সুরেশ প্লাজার বেজমেন্টে সেবা ডেন্টাল কেয়ার নামের প্রতিষ্ঠানের পরিচালক নাসির উদ্দিন নিজেকে এমবিডিএস (মেম্বার অব বাংলাদেশ ডেন্টাল সোসাইটি) পরিচয় দিয়ে বলেন আমরা থাকতে মানুষ কম খরচে দাঁতের চিকিৎসা করাতে পারে।
এ বিষয়ে হবিগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. রত্নদ্বীপ বিশ্বাস বলেন, ভুয়া দাঁতের ডাক্তারদের বিরুদ্ধে শিগগিরই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দাউদকান্দিতে পুলিশের বিশেষ অভিযান, গ্রেপ্তার ১০