উপযুক্ত পরিবেশেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

‘ভারতের মাটি ব্যবহার করে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অস্থিতিশীল তৎপরতা বা কোনো সন্ত্রাসীকে স্পেস দেওয়া কোটি কোটি মানুষকে ক্ষুব্ধ করেছে।’

আপডেট : ২০ আগস্ট ২০২৬, ০২:১৬ পিএম
 
পারস্পরিক আস্থা, বিশ্বাস, সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধা এবং কূটনৈতিক যোগাযোগের মাধ্যমে উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হলেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।

তিনি স্পষ্ট জানান, কোনো তাড়াহুড়ো নয়; বরং সুনির্দিষ্ট জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করেই এই সফর প্রক্রিয়া নির্ধারিত হবে। সম্প্রতি রাজধানীর মিন্টু রোডের সরকারি বাসভবনে রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসস-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।

ভারতীয় গণমাধ্যমে প্রচারিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য দিল্লি সফর সংক্রান্ত খবরগুলোকে 'ভিত্তিহীন ও অনুমাননির্ভর' আখ্যা দেন হুমায়ুন কবির। তিনি বলেন, আগামী ১২-১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস সম্মেলনের আগে এই সফরের সম্ভাবনা ক্ষীণ। তবে দুই দেশের ঐকমত্য এবং সুনির্দিষ্ট আলোচনার ভিত্তিতে পরিবেশ তৈরি হলে ব্রিকস সম্মেলনে অংশগ্রহণের বিষয়ে ঢাকা ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করবে।

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও শীর্ষ সফরের বিষয়টি ভারতের নেতৃত্বের মানসিকতা পরিবর্তনের ওপর নির্ভর করছে। দেড় হাজারের বেশি মানুষের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে সংঘটিত জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বাস্তবতাকে প্রতিবেশীকে সঠিকভাবে অনুধাবন করতে হবে। দুই-তৃতীয়াংশ মানুষের ম্যান্ডেট নিয়ে নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে ভারত কেমন সম্পর্ক চায়, তা নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

আদালতে দণ্ডপ্রাপ্ত ও পলাতক শেখ হাসিনাকে ভারতীয় ভূখণ্ডে রাজনৈতিক বা প্রচারমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া নিয়ে গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করেন উপদেষ্টা। এটিকে 'গণতান্ত্রিক শিষ্টাচার পরিপন্থী' হিসেবে অভিহিত করে তিনি বলেন, ‘ভারতের মাটি ব্যবহার করে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অস্থিতিশীল তৎপরতা বা কোনো সন্ত্রাসীকে স্পেস দেওয়া কোটি কোটি মানুষকে ক্ষুব্ধ করেছে। আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক নিয়ম বা মতপ্রকাশের স্বাধীনতার অজুহাতে একে যৌক্তিক প্রমাণ করা যাবে না।’

এ বিষয়ে নয়াদিল্লির কাছে ইতোমধ্যে কূটনৈতিক প্রতিবাদ জানানো হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে বাংলাদেশবিরোধী অপতৎপরতা বন্ধে কূটনৈতিক চাপ অব্যাহত থাকবে। সাক্ষাৎকারে তিনি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের পাশাপাশি নতুন আন্তর্জাতিক জোট, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক এবং মালয়েশিয়ায় শ্রমবাজার পুনরায় চালুর বিষয়েও সরকারের অগ্রাধিকার তুলে ধরেন।
×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত