কলকাতায় আগুনে নিহত সাতক্ষীরার দুইজনের পরিচয় জানা গেছে

চিকিৎসা নিতে ভারতে গিয়ে কলকাতার হোটেলে আগুনে প্রাণ গেল সাতক্ষীরার দুই বাসিন্দার, মরদেহ দেশে ফেরানোর অপেক্ষায় স্বজনরা

আপডেট : ২০ আগস্ট ২০২৬, ০২:২১ পিএম

ভারতের কলকাতার নিউ মার্কেট সংলগ্ন মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ৯ জন বাংলাদেশি প্রাণ হারিয়েছেন। নিহতদের মধ্যে সাতক্ষীরার দুই বাসিন্দা রয়েছেন—শহরের পলাশপোল এলাকার মো. আলিমুজ্জামান সাজু এবং কালীগঞ্জ উপজেলার তেঁতুলিয়া গ্রামের রেবতী সরকার। মর্মান্তিক এই ঘটনার পর থেকেই স্বজনেরা মরদেহ হাতে পাওয়ার আকুল অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন।

নিহত আলিমুজ্জামান সাজু সাতক্ষীরা শহরের পলাশপোল (সেটেলমেন্ট অফিসের পাশে) এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা এবং কালীগঞ্জ উপজেলার তারালি ইউনিয়নের বরেয়া গ্রামের মো. ইউনুস আলী সরদারের ছেলে। তিনি সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির নেতা ও সাবেক পৌর মেয়র তাজকিন আহমেদ চিশতীর খালাতো ভাই।

সাজুর আরেক খালাতো ভাই তাহমিদ শাহেদ চয়ন জানান, সাজু চিকিৎসার উদ্দেশ্যে ভারতের ব্যাঙ্গালুরুতে গিয়েছিলেন। চিকিৎসা শেষ করে ঘটনার দিন তিনি কলকাতার ওই হোটেলে ওঠেন। বুধবার (১৯ আগস্ট) ভোররাত আনুমানিক ৩টার দিকে হোটেলটির চতুর্থ তলায় আগুন লাগে। খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। অগ্নিকাণ্ডের সময় হোটেলের অধিকাংশ অতিথি নিজ নিজ কক্ষে ঘুমিয়ে ছিলেন।

ভারতীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, বাইরে থেকে আগুনের শিখা দেখা না গেলেও পুরো এলাকা দ্রুতই ঘন কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায়। হোটেলের যাতায়াতের পথ অত্যন্ত সংকীর্ণ হওয়ায় ভেতরের লোকজনের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ও হুড়োহুড়ি শুরু হয়।

পরবর্তীকালে হোটেল থেকে অন্তত ৬০ জনকে আশঙ্কাজনক ও অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে কলকাতা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক ৯ জনকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহতদের মধ্যে ছয়জন পুরুষ, দুজন নারী ও একটি শিশু রয়েছে। চিকিৎসকদের ধারণা, বিষাক্ত ধোঁয়ায় শ্বাসরোধ হয়েই তাঁদের মৃত্যু হয়েছে।

একই অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারানো অপর বাংলাদেশি রেবতী সরকার কালীগঞ্জের তেঁতুলিয়া গ্রামের ইটভাটা শ্রমিক ভবেশ সরকারের স্ত্রী। তিনি দুই কন্যা ও এক ছেলের জননী। স্থানীয় প্রতিবেশী বিক্রমজিৎ সরকার জানান, রেবতী সরকারও চিকিৎসার জন্যই ভারতে গিয়েছিলেন। বর্তমানে তাঁর পরিবারের অন্য সদস্যরা বাড়ির বাইরে থাকায় তাঁদের কেউ বাড়িতে নেই।

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, হোটেলের একটি এসি (শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র) থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। তবে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ জানতে পুলিশ ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে।

অন্যদিকে, ফায়ার সার্ভিস অফিসের মাত্র এক ভবন পরেই হোটেলটির অবস্থান হলেও সেখানে পর্যাপ্ত অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল না। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।

সাজু ও রেবতী সরকারের মৃত্যুর সংবাদ সাতক্ষীরায় পৌঁছালে বরেয়া, পলাশপোল ও তেঁতুলিয়া গ্রামসহ পুরো এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে। বর্তমানে স্বজনেরা লাশ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত