নুসরাত হত্যায় হাইকোর্টের রায় সোমবার

আপডেট : ২১ আগস্ট ২০২৬, ০৩:০৫ এএম

ফেনীর সোনাগাজীতে মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় হাইকোর্টের রায় জানা যাবে আগামী সোমবার। এ মামলায় অধস্তন আদালতের রায়ে মৃত্যুদ-প্রাপ্তদের ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদ- অনুমোদন) ও আপিলের ওপর শুনানি শেষে গতকাল বৃহস্পতিবার বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রায়ের জন্য এদিন ধার্য করেন। গত ২৮ জুলাই এ মামলায় হাইকোর্টে শুনানি শুরু হয়। মোট ১৭ কার্যদিবস শুনানি শেষে রায়ের তারিখ ধার্য হলো। ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর নুসরাত হত্যা মামলার রায়ে ১৬ আসামির সবাইকে মৃত্যুদ-ের রায় দেয় ফেনীর বিচারিক আদালত। রায়ের অনুলিপি ও মৃত্যুদ-প্রাপ্ত ১৬ জনের ডেথ রেফারেন্স ২৯ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্টে আসে। এর ধারাবাহিকতায় মামলাটি হাইকোর্টে শুনানিতে আসে। আসামিপক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মুনসুরুল হক চৌধুরী, এস এম শাহজাহান, মোহাম্মদ শিশির মনির, আইনজীবী মুশফিকুল হুদা, এস এম মাসুদ হোসেন দোলন। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সৈয়দ ইজাজ কবির, সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল রুহানী সিদ্দিকী। গতকাল রাষ্ট্রপক্ষে সমাপনী শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।

শুনানির বরাতে অ্যাডভোকেট এস এম শাহজাহান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এই মামলার আসামিদের রিমান্ডে নিয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে। ঘটনার কোনো চাক্ষুষ সাক্ষী নেই। আশা করি আসামিরা খালাস পাবেন।’ রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সৈয়দ ইজাজ কবির দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা সাক্ষ্যপ্রমাণের চুলছেড়া বিশ্লেষণ করে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করার চেষ্টা করেছি। কোন জায়গায় কোন আসামির সম্পৃক্ততা ছিল। কারও কম কারও বেশি। এখন আদালতের হাতে বিচারের দায়িত্ব।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের চাহিদা হচ্ছে, যিনি অপরাধ করেছেন তিনি যেন রায়ে অপরাধী হিসেবে সাব্যস্ত হন। আর যিনি নিরপরাধ তারা যেন জেলে না থাকে।’

ফেনীর সোনাগাজীতে স্থানীয় ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ (পরে বরখাস্ত) এস এম সিরাজ-উদ-দৌলার বিরুদ্ধে একই মাদ্রাসার আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফি যৌন নির্যাতনের অভিযোগে থানায় মামলা করলে অধ্যক্ষ ও তার অনুসারীদের রোষানলে পড়েন বলে অভিযোগ উঠে। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ৬ এপ্রিল সকালে মাদ্রাসার সাইক্লোন সেন্টার ভবনের ছাদে নুসরাতের গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার পর ১০ এপ্রিল ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে মারা যান নুসরাত। এ ঘটনায় সিরাজসহ ১৬ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দেয় পিবিআই (পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন)।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত