এলএনজি এসেছে এক কার্গো উন্নতির আশা কম

আপডেট : ২১ আগস্ট ২০২৬, ০৩:০৯ এএম

দেশে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এলএনজি নিয়ে একটি কার্গো নোঙর করেছে সামিটের টার্মিনালে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে কার্গোটি নোঙর করলেও সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এতে গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির কোনো বদল হবে না। পেট্রোবাংলার একটি সূত্র জানিয়েছে, গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে আগামী ২৩ তারিখের এলএনজি কার্গো আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

পেট্রোবাংলার একজন কর্মকর্তা জানান, গতকাল ৪টায় এলএনজি কার্গোটি সামিটের টার্মিনালে নোঙর করে। তিনি বলেন, গতকাল দেশে সব মিলিয়ে গ্যাস সরবরাহ করা হয়েছে ২ হাজার ১৯৫ মিলিয়ন ঘনফুট। এর মধ্যে এলএনজি থেকে দেওয়া হয়েছে ৫৭১ মিলিয়ন ঘনফুট, যার পুরোটাই সরবরাহ হয়েছে সামিটের এলএনজি টার্মিনাল থেকে। এদিকে গ্যাস না থাকায় এক্সিলারেটের টার্মিনালটি সরবরাহ বন্ধ রেখেছে।

পেট্রোবাংলার কর্মকর্তা জানান, আগামী ২৩ আগস্ট আরেকটি কার্গো আসার কথা। সেটি এলে এক্সিলারেট গ্যাস সরবরাহ শুরু করতে পারবে। এর আগে এলএনজি থেকে গ্যাস সরবরাহ বাড়ানো সম্ভব না। কারণ, সামিট প্রতিদিন সর্বোচ্চ যে সরবরাহ করতে পারে, সেই পরিমাণই সরবরাহ করা হচ্ছে। এখন প্রতিদিন প্রায় ৪ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ করা হচ্ছে ২ হাজার ২০০ মিলিয়ন ঘনফুট।

এদিকে গতকাল সকালে জ্বালানি সচিব মো. জিয়াউল হককে ডেকে পাঠান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় প্রধানমন্ত্রী জ্বালানি সংকটের সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চান। একই সঙ্গে দ্রুত এই সমস্যা সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ারও নির্দেশ দেন। বিকেলে অর্থ বিভাগের সঙ্গে জ্বালানি সংকট এবং এলএনজি কেনার অর্থায়ন নিয়ে পৃথক একটি জুম মিটিং করেছে জ্বালানি বিভাগ। সেখানেও সরকারের পদস্থ কর্মকর্তারা জ্বালানি সংকটের দ্রুত সমাধান বিষয়ে আলোচনা করেন।

এর আগে ১৭ আগস্ট একটি কার্গো দেশে আসার কথা থাকলেও কার্গোটি না আসায় এই সংকট তৈরি হয়। গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়ায় একদিকে চলছে জ্বালানি সংকট। অন্যদিকে জ্বালানি সংকটের কারণে কমে গেছে বিদ্যুৎ উৎপাদন। ফলে শিল্পের চাকাও প্রায় স্থবির।

খোদ রাজধানীতে করতে হচ্ছে লোডশেডিং। আর গ্রামে আট থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে। দেশের কোনো কোনো এলাকায় বিক্ষুব্ধ মানুষ বিদ্যুৎ অফিসে হামলাও করছে। একই সঙ্গে কোনো কোনো এলাকায় বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনাও ঘটেছে।

অভিযোগ রয়েছে, সরকার এলএনজি সরবরাহে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে এমন তিনটি কোম্পানিকে কাজ দিয়েছে, যাদের এলএনজি সরবরাহের পূর্ব অভিজ্ঞতা নেই। সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে কেনা একটি জাহাজের গত ১৭ তারিখ দেশে আসার কথা থাকলেও জাহাজটি আসেনি। তবে এর বাইরে আরও তিনটি কার্গো চলতি মাসেই আসার কথা রয়েছে। সেগুলোর মধ্যে একটি কার্গোর (জাহাজের) ওপর যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞা থাকায় সেটির আসা নিয়েও তৈরি হয়েছে অনিশ্চিয়তা।

জানা গেছে, আগস্ট মাসে দেশে ৯ কার্গো এলএনজি আসার কথা ছিল, যার চারটি কার্গোই সরাসরি ক্রয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ঠিক করা। এ ছাড়া তিনটি দরপত্রের মাধ্যমে, একটি দীর্ঘমেয়াদি ও একটি স্বল্পমেয়াদি চুক্তির আওতায় কেনা হচ্ছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত